শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
চাই সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, প্রকৃত মঙ্গল
প্রকাশ: ০৭:৫৬ pm ১৩-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ০৭:৫৬ pm ১৩-০৪-২০১৭
 
 
 


আমাদের দেশে এখন ধর্ম নিরপেক্ষতা, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, এগুলো নিয়ে একটা বিরোধ চলছে, এই বিরোধ কমছে না বরং বাড়ছে। এই অবস্থায় পয়লা বৈশাখ উদযাপন নিয়ে এই বিরোধ মীমাংসার দিকে অগ্রগতি হবে এমনটা আমার মনে হয় না। 

পয়লা বৈশাখ উদযাপন ভালো। জাতীয় জীবনে আনন্দ উৎসবের প্রয়োজন আছে। মঙ্গলশোভা যাত্রা উপলক্ষে এমন কিছুই করা উচিত হবে না, যাতে ধর্মীয় উগ্রপন্থী শক্তি কোনো প্রতিবাদ করার অথবা উল্টো কাজ করার সুযোগ নিতে পারে। যেমন ওই যে মঙ্গলশোভা যাত্রা উপলক্ষে প্যাঁচা এবং আরো কোনো কোনো জিনিসের ছবি দিয়ে যাত্রা করা হয়, এখানে প্যাঁচার ছবি বিকট আকারে যেভাবে দেওয়া হয়েছে গত কয়েক বছর, এটা আমার কাছে ঠিক মনে হয়নি। বাংলাদেশে প্যাঁচাকে মঙ্গলের প্রতীক মনে করা হয়। এমনটা আমার জানা নেই।

আমি বরং এটাই লক্ষ করেছি কোনো কোনো এলাকায় গ্রাম অঞ্চলে প্যাঁচা অমঙ্গলের প্রতীক। প্যাঁচাকে অনেক জায়গাতেই হুতুম বলা হয়। যখন কোনো মানুষ বাইরে যাবে, তখন যদি প্যাঁচা আওয়াজ করে, তাহলে লোকে মনে করে যাত্রা অশুভ হবে। মানুষ তখন আর যায় না, অপেক্ষা করে। পরে যায়। এগুলো আমার অভিজ্ঞতা। এখন লক্ষ্মীপ্যাঁচা শব্দটি আমি জীবনানন্দের কবিতায় পেয়েছি। বাস্তবে পাইনি। হয়তো বরিশালের কোনো এলাকায় থাকতে পারে লক্ষ্মীপ্যাঁচা। কিন্তু গোটা বাংলাদেশের দৃশ্য এ রকম নয়। এত বিকট আকারে প্যাঁচার ছবি দেওয়া আমি সমীচীন মনে করি না। 

এই যে মুখোশ ইত্যাদি পরা হয়, এখানেও সৌন্দর্য রক্ষা করা এবং উদ্ভট দৃশ্যের অবতারণা না করা উচিত। অতীতে গত ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছরের মধ্যে কখনো কখনো মঙ্গল শোভাযাত্রা উপলক্ষে এমন আচরণও করা হয়েছে যেটাতে ধর্মীয় উগ্রপন্থী শক্তি প্রতিবাদ করার, মানে অন্য রকম করার উসকানি পেয়েছে। আমার মনে হয়, যে অবস্থা বাংলাদেশ বিরাজ করছে, এখানে মঙ্গল শোভাযাত্রা হওয়া উচিত সুন্দর ও কল্যাণের জন্য। প্রতিপক্ষকে কোনো ভাবেই আঘাত করা উচিত নয়। 

আর উৎসব হিসেবে পয়লা বৈশাখ তো ঢাকা শহরে আগে উদযাপিত হতো না। এটা ১৯৬০-এর দশকের একেবারে শেষ দিক থেকে উদযাপন আরম্ভ হয়েছে। প্রথমে ছায়ানট।

রমনার বটমূলে তখন ওই অনুষ্ঠানের, পাকিস্তান আমলে, একটা সৌন্দর্য ছিল। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা ছিল। গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে স্বদেশি গান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের গান, প্রেমের গান, এসবের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হতো। 

বাংলাদেশ হওয়ার কয়েক বছর পর থেকে এটা অন্য রূপ নিয়েছে। এবং উগ্রপন্থী শক্তির সঙ্গে একটা জেদাজেদির ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জেদাজেদিটা, এই পক্ষ-প্রতিপক্ষ আমার কাছে খুব কষ্টকর মনে হয়। মনে হয়, এর দ্বারা আমাদের জাতীয় জীবনের খুব ক্ষতি সাধিত হয়। এই রকম ঘটনা আমি চাই না। আমি চাই সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, প্রকৃত মঙ্গল।  

লেখক : শিক্ষাবিদ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71