বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫
 
 
চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে দুই মেয়রের সাঁড়াশি অভিযান
প্রকাশ: ১১:২৮ am ১৬-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:৩০ am ১৬-০৭-২০১৭
 
 
 


 

মশা নিধনে অবহেলা, চাকরি গেছে ১০৯ কর্মীর  ওষুধ ছিটানো আরও জোরদার করা হয়েছে -দুই মেয়র
একটু দেরিতে হলেও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে নড়েচড়ে বসেছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। দুই সংস্থাকে
নানাভাবে সহায়তা করছে স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মাঠে নেমেছে ঢাকার এমপি ও কাউন্সিলররাও। 

 

সচেতনতা সৃষ্টির সঙ্গে চিকুনগুনিয়া আতঙ্ক দূর করতে মশক নিধনে নগরজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত
হচ্ছে। শুক্রবার মেয়র সাঈদ খোকন নগরভবন এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এডিস
মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার কথা জানান দেন। 

শনিবার রাজধানীর গুলশান এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে র‌্যালি বের করেন
মেয়র আনিসুল হক। তিনি এ সময় পুরো শক্তি দিয়ে চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের অঙ্গীকার করেন এবং
ডিএসসিসির পক্ষ থেকে নেয়া নানা কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে ঢাকায় চিকুনগুনিয়া ভাইরাস ধরা পড়ার ওপর ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত
সংস্থাগুলো ছিল অনেকটা নির্বিকার। গণমাধ্যম সোচ্চার ভূমিকা পালন করলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর তৎপরতা
দেখা যায়নি। 

তবে ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া মহামারী আকার ধারণ করা নিয়ে সর্বত্র আলোচনা
শুরু হলে তৎপরতা বাড়ায় দুই সিটি কর্পোরেশন। চলতি সপ্তাহে মশক নিধনে জোর তৎপরতা শুরু করে।
ঢাকার দুই মেয়রই ইমেজ রক্ষায় এ বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তৎপর হয়ে
উঠেছে দুই সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ বিভাগও।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) পাঁচটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে প্রতি ওয়ার্ডে জনসচেতনতা
কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের
কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

 শুক্রবার নগরভবনে ডিএসসিসি মেয়র অঞ্চল-৪ এর মশক নিধন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে অংশ নিয়ে নগরবাসীর
উদ্দেশ্যে বলেন, এডিস মশার জিবাণুবাহী ভাইরাস হচ্ছে- চিকুনগুনিয়া। এসব মশা বাসাবাড়ির ভেতরে বংশ
বিস্তার করে। তাই এই মশা নিধনে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, নগরবাসী ডাকলে মশা নিধনে
ডিএসসিসি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওষুধ ছিটাবেন।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নগরীর ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার
সড়কের ড্রেনে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। কঠোরভাবে মনিটরও করা হচ্ছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনসচেতনতা
সৃষ্টিতে র‌্যালি, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে মেয়র, কাউন্সিলররাসহ
সংসদ সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন।

মশক নিধনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) তৎপরতাও চোখে পড়েছে। প্রতিটি আঞ্চলিক কার্যালয়
ও ওয়ার্ডের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শুক্রবার চিকুনগুনিয়া নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র
আনিসুল হক নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। শনিবার সকালে গুলশান
নগরভবন থেকে সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন তিনি। 

র‌্যালিপূর্ব বক্তৃতায় মেয়র আনিসুল হক বলেন, মশা নিধন কাজে কর্মীদের কর্তব্যে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ জন্য জুন মাসেই ১০৯ কর্মীর চাকরি গেছে। আমরা আরও কিছু অভিযোগ পেয়েছি, দায়িত্বে অবহেলার জন্য
যত শিগগির সম্ভব ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ঠিকমতো ওষুধ ছিটায় কিনা তা নজরদারির ভেতরে রাখা হবে জানিয়ে তিনি
বলেন, প্রতিদিনের ওষুধ দেয়ার পরই কর্মীরা বেতন পাবেন। এ সময় কয়েকটি কর্মসূচির কথাও তুলে ধরে তিনি
বলেন, প্রতিটি এলাকায় মসজিদের ইমাম ও এলাকার নেতাদের নিয়ে টিম গঠন করা হবে। একেক দিন একেক
এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ডিএনসিসির অঞ্চল-৫ এর তত্ত্বাবধানে মোহাম্মদপুর এলাকায় শনিবার থেকে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
সকালে আসাদগেট থেকে শুরু হওয়া র‌্যালির নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ
সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। এ সময় ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট, বাসা-বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে ওষুধ ছিটানো
ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

 স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান, সিটি কর্পোরেশনের কর্মীসহ স্থানীয় জনগণ কর্মসূচিতে অংশ
নেন। এ সময় নগরবাসীর উদ্দেশে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে
সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নিরলসভাবে
কাজ করছে। 

এ কর্মসূচি সফল করতে নগরবাসীকে নিজ নিজ বাড়ি-ঘর ও প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এছাড়া
জীবাণুবাহী মশা-মাছি যাতে না জন্মায় সেজন্য কোথাও যাতে পানি না জমে তা লক্ষ্য রাখতে হবে। তিনি
নগরবাসীকে আরও সচেনতন করতে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। 

 

জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক যুগান্তরকে বলেন, সুষ্ঠুভাবে সেবা কার্যক্রম
চালাতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। বছরজুড়ে মশক নিধনে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, এখন তৎপরতা
বাড়ানো হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে নগরবাসীকে আরও সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন এই নগরপিতা। 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন  বলেন, মশক নিধনে পর্যাপ্ত
ওষুধ ও জনবল রয়েছে। নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। অন্য সময়ের চেয়ে কার্যক্রম এখন আরও
জোরদার করা হয়েছে। তবে এখন রুটিন কাজের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টিতে আমরা কর্মসূচি জোরদার
করছি।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71