রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯
রবিবার, ৬ই শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
চুয়াডাঙ্গায় পল্লী বিদ্যুতের ভৌতিক বিল : গ্রাহক দিশেহারা
প্রকাশ: ০৫:০৫ pm ১৩-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ০৫:০৫ pm ১৩-০৮-২০১৭
 
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :
 
 
 
 


চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় ভৌতিক বিলের কারনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার হাজারো গ্রাহক। 

কয়েক মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে হঠাৎ করে বিলের পরিমাণ দুই থেকে ৫ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রাহকের মাঝে চরম ক্ষোভ এবং অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের আগস্ট মাসে ৫ গুণ পর্যন্ত বেশি বিদ্যুৎ বিল দেয়া হয়েছে। 

গ্রাহকগণ অভিযোগ করে বলেন, পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কতিপয় ব্যক্তির অবহেলা, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণেই এমনটি হচ্ছে। গ্রাহকদের ভৌতিক বিলের বোঝা চাপিয়ে দেয়ায় উপজেলার সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা মেহেরপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির নাম দিয়েছে, ‘পল্লী বিপদ’।

জানা যায়, মিটার রিডারদের চরম দৌরাত্ম্য ও কারসাজির কারণে বিদ্যুৎ গ্রাহকের হয়রানি ও দুর্ভোগ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্রতি মাসে মিটারের ইউনিট তদন্ত করেই গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল ইস্যু ও সরবরাহ করার নিয়ম। কিন্তু অধিকাংশ গ্রাহকদের মিটার না দেখেই মিটার রিডাররা বাড়িতে বসে অনুমাননির্ভর মনগড়া বিল তৈরি করছেন।

উপজেলার দর্শনা পুরাতন বাজার এলাকার গ্রাহক বিকাশ কুমার জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৬ মাসে তার ১৩৫ ইউনিটের বিলপত্র দেয়া হয়েছে। অথচ শুধু আগস্ট মাসে তার ৩৫০ ইউনিটের বিপরীতে মোট বিল এসেছে ২৫০০ টাকা, যা গত ৬ মাসে ৩ গুন। 

দর্শনার কামরুল হাসান লোমান জানান, গত ৭/৮ মাস ৪৮০-৫০০ টাকার মধ্যে বিল আসে, কিন্তু সেখানে আগস্ট মাসে বিল এসেছে ১ হাজার ৪৫০ টাকা। 

ফেসবুকে ভৌতিক বিলের কারনে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সাঈদ মোস্তাক আহমেদ নামে একজন লিখেছে আমার প্রতিমাসে ৯০০-৯৫০ টাকার মধ্যে বিল আসে। আগষ্ট মাসে তার বিল এসেছে ২৭১৩ টাকা। 

খালেদ আহমেদ নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছে প্রতি বিলে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা আসত। সেখানে এবারের বিলে ১১০০ টাকা এসেছে।
 
পরানপুর সপ্রাবি’র প্রধান শিক্ষক সানোয়ার ইসলাম লিখেছেন জুলাই মাসে তার বিল এসছে ১৭৫ টাকা আর আগষ্টে ১৮২৪ টাকা। এটা কি করে সম্ভব। উপজেলার প্রায় ৯৫ ভাগ বিদ্যুৎ গ্রাহকের একই অভিযোগ।

মেহেরপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আঞ্চলিক পরিচালক মো. আবদুল মান্নান পিল্টু বলেন, পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মাঠপর্যায়ে মিটার রিডিং সংগ্রহকারীরা (মিটার রিডার) গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার না দেখে নিজ বাড়িতে বসে আন্দাজে মিটার রিডিং লিখেছে। যার কারণে বিদ্যুৎ বিলে অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। 

বাড়িতে বসে বিল তৈরি করার কারণে আগের মাসগুলোতে কম করে ইউনিট দেখনো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ওই উদ্বৃত্ত ইউনিটগুলো সমন্বয় করার ফলে গ্রাহদের ওপর বাড়তি বিলের বোঝা চেপে গেছে।

এছাড়া ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের প্রতি ইউনিটের বিদ্যুৎ বিল খরচ হয় ৩ টাকা ৮০ পয়সা এবং ৭৫ ইউনিটের পরে প্রতি ইউনিটের খচর পড়ে ৫ টাকা ১৪ পয়সা। এক্ষেত্রে ৭৫ ইউনিটের পরে প্রতি ইউনিটে গ্রাহকদেরকে ১ টাকা ১৪ পয়সা অতিরিক্ত গুনতে হয়। এ কারণে উদ্বৃত্ত ইউনিটগুলো সমন্বয় করার ফলে গ্রাহদের ওপর অবিচার করা হয়েছে।

এস/এসএম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71