বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ২৯শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
ছাতকের মণিপুরীরা উচ্ছেদ  আতংকে : পূজা বন্ধ
প্রকাশ: ০৭:২৬ pm ২৭-০৭-২০১৬ হালনাগাদ: ০৭:২৬ pm ২৭-০৭-২০১৬
 
 
 


সিলেট প্রতিনিধিঃ  সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার রাসনগর ও ধনীটিলার মণিপুরীরা হুমকির মধ্যে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে তাদের পবিত্র কাীলস্থানে পূজার্চ্চনা।

এতে উচ্ছেদ আতংক বিরাজ করছে প্রত্যন্ত এলাকায় স্মরণাতীত কাল থেকে বসবাসকারী নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে। সরকার যেখানে আশ্রায়ণের ব্যবস্থা করেছে সেখানে উল্টো মণিপুরীদের শেষ আশ্রয় বাস্তুভিটাও লুটে নিতে চায় কতিপয় ভুমিখেকো। ভুমিহীন, গরীব, দু:স্থ মণিপুরীদের মধ্যে ভুমি স্থায়ী বন্দোবস্ত, দলিল, নামজারি, পর্চার ব্যবস্থা করে দেয়ার পরও ওই ভুমি দখলে মরিয়া ‘ল্যান্ডলর্ডরা’। সরকার মণিপুরীদের আশ্রায়ণের ব্যবস্থা করে দিলেও উচ্ছেদের পাঁয়তারায় লিপ্ত ভুমিখেকোরা। তারা ভাড়াটে দুর্বৃত্তদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে ওই ভুমি গ্রাস করতে নানামুখি ষড়যন্ত্র করছে। আইন, সরকারের আদেশ-নির্দেশ অমান্য করেই চলছে তাদের এই অপতৎপরতা।

 বুধবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রাসনগর, ধনীটিলা ও রতনপুরের মণিপুরীদের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্রজেন্দ্র সিংহ। এই অবস্থার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন মণিপুরীরা। সংবাদ সম্মেলনে মণিপুরী ছাড়াও ওই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 
 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার ধনীটিলা, রাসনগর রতনপুরে মণিপুরীদের বসবাস স্মরণাতীত কাল থেকে। এখানের উত্তর নিজগাঁও মৌজার জেল এল নং ৫২ এর সাবেক ১০ নং দাগের ২৫ একর ৭০ শতক ভুমি বংশ পরম্পরায় মণিপুরীরা ভোগ দখল করে আসছে। বংশ পরম্পরায় ভোগ দখলের এক পর্যায়ে ওই ভুমি ভুমিহীন, গরীব, দুস্থ মণিপুরীদের নামে বরাদ্ধের আবেদন নিবেদন জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন ভুমি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব রাশেদ মোশাররফ সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন ওই ভুমি মণিপুরীদের মধ্যে স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদানের। পরবর্তীতে ছাতক উপজেলা ভুমি অফিস, উপজেলা প্রশাসন, জেলা কৃষকলীগের আন্তরিক সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় এমপি জননেতা মুহিবুর রহমান মানিক মণিপুরীদের মধ্যে ভুমি বরাদ্ধের সুপারিশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯-২০০০ ইংরেজি সালে ওই ভুমির ২০ একর ৭০ শতকের শ্রেণী পরিবর্তন করে সরকার। এরমধ্যে ১ একর হিন্দু ধর্মের পবিত্র কালিস্থান ও ৭০ শতক রাস্তার নামে রেকর্ড হয়। বাকি ১৯ একর মণিপুরী ভুমিহীন, গরীব ও দুস্থ ৪৭ পরিবারের নামে স্থায়ী বন্দোবস্ত দেয় সরকার। ২০০০ সালের ৯ মে বরেণ্য রাজনীতিক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ আব্দুস সামাদ আজাদ মণিপুরীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে দলিল হস্থান্তর করেন। প্রদান করা হয় নামজারি ও ভুমির পর্চা। 
 

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, পবিত্র কালী মন্দিরের নামে ভুমি রেকর্ড, বাকি থাকা ভুমি মণিপুরীদের মধ্যে স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদান, দলিল হস্তান্তর, নামজারি, রেকর্ড পর্চা হস্তান্তরের পরও ভুমি গ্রাসে তৎপর স্থানীয় একটি দুষ্টচক্র। তারা সরকারের আদেশ-নির্দেশ উপেক্ষা করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে চলেছে। ২০০১ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতার হাত বদলের পর থেকে তাদের হুমকির কারণে প্রাচীন পবিত্র কালিস্থানে পুজার্চ্চনা করতে পারছেন না মণিপুরীরা। সংঘবদ্ধ এই ভুমিখেকো চক্রের কাছে জিম্মি পূজার্চ্চনা, পবিত্র কালিস্থান, মণিপুরীদের ভুমি ও চিরাচরিত ধর্মীয় সংস্কৃতি।

এই অবস্থার সৃষ্টি করেছে সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার ভুমিখেকোদের সমন্বয়ে গঠিত সংঘবদ্ধ ভুমিখেকো চক্র। এই চক্রের আড়ালে থেকে কতিপয় অসৎ ব্যক্তি ‘ল্যান্ডলর্ড’ হওয়ারও স্বপ্ন দেখছেন। পার্শ্ববর্তী গ্রামে নিজস্ব বাড়িঘর থাকা সত্বেও ভুমিখেকোরা মণিপুরীদের ভুমি গ্রাস ও কালিস্থান জিম্মি করে রেখেছে এই ভাড়াটে দুর্বৃত্ত চক্র। 
 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় পার্শ্ববর্তী গ্রামে বাড়ি থাকা সত্বেও ছাতকের বনগাঁও গ্রামের মৃত ছিফত উল্লার পুত্র ইন্তাজ আলী ও মৃত শুকুর আলীর পুত্র জমির আলী, পুরান নোয়াকোট গ্রামের মৃত কনাই মিয়ার পুত্র গেদা মিয়া ও মৃত আকবর আলীর পুত্র আঞ্জব আলী, গাংপার নোয়াকোট গ্রামের মৃত হরমুজ আলীর পুত্র ইদ্রিস আলী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরপিন গ্রামের আত্তর আলীর পুত্র রফিক মিয়া ও মাসুক মিয়া সরকারি আদেশ নির্দেশ ও আইন অমান্য করে মণিপুরীদের ভুমিতে অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ছাতক থানার নন জিআর- ৩৬/৯৮ ইং মূলে ১৪৪ ধারা জারি করেন প্রশাসন। এছাড়াও ২০০৫ সালের ৪ জুলাই জেলা প্রশাসক তাদেরকে উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করেন তাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার এসব আদেশ রহস্যজনক কারণে আজ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি! এমতাবস্থায় নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠী মণিপুরীদের স্বাভাবিক জীবন যাপন, চিরাচরিত ধর্মীয় পুজার্চ্চনা নিশ্চিত করতে তারা সংশ্লিষ্ট সকল মহলসহ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করেন মণিপুরীরা। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গীতা সংঘের পাঠক ও আলোচক প্রসন্ন কুমার সিংহ ও বাংলাদেশ মণিপুরী যুব কল্যাণ সমিতি ছাতক উপজেলা শাখার সভাপতি পরিমল সিংহ। 

 

এইবেলা ডটকম/ রাকেশ রায়/ এসসি 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71