মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশি গ্রুপ
প্রকাশ: ০৯:৪৩ am ২৮-০২-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:৪৩ am ২৮-০২-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র দুই ব্যক্তি ও সাতটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশি গ্রুপও রয়েছে।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এই নিষেধাজ্ঞা দেয় বলে জানিয়েছে । ট্রেজারি বিভাগের ফরেন এসেটস কন্ট্রোলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের জন্য নিষেধাজ্ঞার তালিকায় দুই ব্যক্তি নাইজেরিয়ার আবু মুসাব আল-বার্নাবি এবং সোমালিয়ার মাহাদ মোয়ালিমের নাম যুক্ত হয়েছে। এদের সঙ্গে বাংলাদেশ, মিশর, ফিলিপিন্স, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া ও তিউনিসিয়ার সাতটি গোষ্ঠীকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

গৃহযুদ্ধ কবলিত সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তৃত অঞ্চল দখল করে ২০১৪ সালে ‘খেলাফত’ ঘোষণা করে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়ার (আইএসআইএস) আত্মপ্রকাশ ঘটে। ভিন্ন মতাবলম্বী ও পশ্চিমা নাগরিকদের শিরশ্ছেদসহ অন্যান্য নির্যাতনের ভিডিও-খবর বিশ্বজুড়ে শিহরণ জাগায়।

এরমধ্যে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের পর ধারাবাহিকভাবে মুক্তমনা লেখক, ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ভিন্ন মতাবলম্বীরা একই কায়দায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। এরমধ্যে ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় চেজারে তাভেল্লা নামের এক ইতালীয় এনজিওকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর পাঁচ দিনের মাথায় রংপুরের এক গ্রামে একই কায়দায় খুন হন জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি।

দুটি ঘটনার পরই আইএস (ইসলামিক স্টেট) হত্যার দায় স্বীকার করে বলে খবর দেয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’।

সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের তরফ থেকে বাংলাদেশে আইএস সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতি নেই বলে জানানো হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বাংলাদেশে ‘আইএসের উত্থান’ ঠেকাতে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

এরপর ২০১৬ সালের ১ জুলাই শুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফেতে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশিসহ অন্তত ২২ জন নিহত হন। জঙ্গি হামলার পর উৎকণ্ঠার রাত পেরিয়ে সকালে কমান্ডো অভিযানে হামলাকারীদের নির্মূলের পর সেখানে ভয়ানক ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তার আগে রাতেই সেখানে ২০ ‘জিম্মিকে’ হত্যার খবর আইএসের বরাত দিয়ে দিয়েছিল সাইট ইন্টেলিজেন্স।

দেশ-বিদেশে সাড়া ফেলা ওই ঘটনার তদন্তে গিয়ে পুলিশ সন্দেভাজন হামলার হোতাদের চিহ্নিত করার পর বলেছিল, তারা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবির নতুন সংস্করণ ‘নব্য জেএমবি’। এই গোষ্ঠীর সব সদস্যই নিজ দেশে বেড়ে ওঠা জঙ্গি।

এখন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি যে গোষ্ঠীকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ফেলেছে, তাদের আইএসআইএস-বাংলাদেশ নামে চিহ্নিত করেছে। এই গোষ্ঠীর প্রধান হিসেবে আবুল জান্দাল আল বাঙ্গালিকে শনাক্ত করেছে তারা।

এর বাইরে আইএসআইএস-ইজিপ্ট, আইএসআইএস-ফিলিপিন্স, আইএসআইএস-সোমালিয়া, আইএসআইএস-ওয়েস্ট আফ্রিকা, জুন্দ আল-খলিফা-তিউনিসিয়া (আইএসআইএস-তিউনিসিয়া) এবং ফিলিপিন্সভিত্তিক মাউতি গ্রুপকে ওই তালিকায় যুক্ত করেছে ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট।

আলাদা এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, নতুন এসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ছাড়াও ২০১১ সাল থেকে আইএস নেতা ও তাদের হয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী ৪০ জন ব্যক্তি-সংগঠন-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈকি ব্যবস্থায় ঢুকতে না পারে।

এই পদক্ষেপ আইএসের জন্য ‘নিরাপদ স্বর্গ’ ধ্বংস, বিদেশি যোদ্ধাদের দলে ভেড়ানোর সুযোগ বন্ধ, অর্থের উৎস নির্মূল, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা সীমিত করার পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়ার মুক্ত অঞ্চলে লোকজনের ফিরে যাওয়ায় সহযোগিতা করছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71