বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন
জমি লিখে না দেয়ায় অনিল দাস-কল্পনা রানী দম্পতিকে হত্যা
প্রকাশ: ০৯:০৫ am ১৯-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:০৫ am ১৯-০৫-২০১৮
 
 
 


টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুরের বাছিরন নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাসের হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।

খুন হওয়া শিক্ষকের সৎভাই স্বপন কুমার দাস তার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাসকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া রসুলপুর গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩২) এবং পার্শ্ববর্তী শালিনা গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফরহাদ (৩৩) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় তার সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান, ১২ মে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জাহিদুল ও ফরহাদকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরদিন ১৩ মে তাদের বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। তারা বিচারিক হাকিমের কাছে জবানবন্দি দেয়। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রূপম কুমার দাস তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

পুলিশ সুপার জানান, জবানবন্দিতে জাহিদুল ও ফরহাদ জানিয়েছে, শিক্ষক অনিল কুমার দাসের পাছবিক্রমহাটি মৌজায় ৬০ শতাংশ জমি লিখে নেয়ার জন্য তার বৈমাত্রেয় ছোট ভাই স্বপন কুমার দাস স্ট্যাম্প প্রস্তুত করেন। এই স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়ার জন্য স্বপন ওই এলাকার জাহিদ, ফরহাদ, খোকন ভূঁইয়া (৪৮) ও মঞ্জুরুল ইসলাম মিঞ্জুর (৩৩) সঙ্গে আলোচনা করেন। স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতে পারলে স্বপন তাদের নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং জমি বিক্রির পর অর্ধেক মূল্য দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ঘটনার দিন স্বপন তার পাঁচ সহযোগীসহ শিক্ষক অনিল কুমার দাসের ঘরে প্রবেশ করে। তারা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দেয়ার জন্য অনিল কুমার দাসকে চাপ দেয়। কিন্তু তিনি স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায় স্বপন বালিশচাপা দিয়ে তাকে হত্যা করে। এ সময় জাহিদ, ফরহাদ, খোকন ও মিঞ্জু অনিল কুমার দাসের হাত-পা চেপে ধরেছিল। এ ঘটনা দেখে ফেলায় অনিল কুমার দাসের স্ত্রী কল্পনা রানী দাসকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। পরে তাদের দুজনের লাশের সঙ্গে ইট বেঁধে সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় জড়িত খোকন ভুইয়া ও মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুকে ১৪ মে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের দুজনকে পরদিন আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, স্বপন কুমার দাসসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছেন টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউর রহমান। চাঞ্চল্যকর ও লৌমহর্ষক এই মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের জন্য একটি সহায়ক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আহাদুজ্জামানকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- পরিদর্শক শ্যামল দত্ত, উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান, উপসহকারী পরিদর্শক হাফিজুর রহমান এবং কনস্টেবল শামসুজ্জামান।

নিহতের ছেলে এই মামলার বাদী নির্মল কুমার দাস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং ধারাবাহিক তদন্তে এই ঘটনায় উচ্চপর্যায় পর্যন্ত যারা জড়িত তাদের নামও বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গত বছর ২৭ জুলাই রসুলপুর বাছিরন নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাসের মৃতদেহ তাদের রসুলপুর গ্রামের বাড়ি সেফটি ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর অনিল দাসের ছেলে নির্মল কুমার দাস বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

বিডি
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71