বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
জয়পুরহাটে কলা চাষে স্বাবলম্বী অনেক পরিবার
প্রকাশ: ১০:১৯ pm ২০-০৬-২০১৫ হালনাগাদ: ১০:১৯ pm ২০-০৬-২০১৫
 
 
 


 জয়পুরহাট প্রতিনিধি :
‘কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’। এই বচনটি ভালই আত্মস্থ করেছেন জয়পুরহাটের কৃষকরা।
তাদের পরিবারে কেবল ভাত কাপড়ের ব্যবস্থাই নয়, পরিবারের অনেক ব্যয় সংস্থানই হয়েছে কলা চাষ করে। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় জেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কলার চাষ। জয়পুরহাট জেলায় অন্যতম প্রধান অর্থকরি ফসল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে কলা। অনেক পরিবার কেবল কলা চাষ করেই স্বাবলম্বী হয়েছেন।
কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে অনেক বেশী লাভ হয় কলা চাষে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর থেকে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে ও ভাদসার দূর্গাদহে কলার বিস্ময়কর বাজার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এখন কলার চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃষকরা জানান, সাধারণত বৈশাখ মাসে কলার চারা রোপন করলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে কলা পাওয়া শুরু হয়। যেসব জমিতে বর্ষার পানি সাধারণত এক সপ্তাহের বেশি থাকে না সেসব জমিতে কলার চাষ ভাল হয়।
কৃষকরা জানান, একবিঘা জমিতে কলার জাত ভেদে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ কলার চারা রোপণ করা হয়ে থাকে। যতœ সহকারে কলা চাষ করলে একটি গাছ থেকে ২ থেকে আড়াই মণ কলা পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে কলা চাষ করতে ১৫/২০ হাজার টাকা খরচ পড়লেও প্রতি বিঘা জমি থেকে কলা বিক্রি হয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। যা অন্য কোন ফসলে সম্ভব নয়।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, জয়পুরহাট জেলায় এবার ৬শ’ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার মেট্রিক টন। জামালগঞ্জ এলাকার মাতাপুর গ্রামের কলা চাষী আশরাফুল ইসলাম জানান, তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে কলার চাষ করেছেন। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়েছে বলে জানান তিনি। নুনুজ গ্রামের কলা চাষী নূর আলম জানান, কলা বিক্রিতে কোন ঝামেলা হয় না। পাইকাররা জমি থেকেই কলা কেটে নিয়ে যায়। এ ছাড়াও জামালগঞ্জে ও দূর্গাদহ বাজারে কলার বিশাল হাট বসে প্রত্যেক দিন সকালে। জেলা শহরের গুলশান চৌ মোড়েও পাইকারী কলার হাট বসে।
জয়পুরহাটের কলা উন্নতমানের হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট ও চট্রগ্রাম জয়পুরহাটের কলার বড় মার্কেট বলে জানান ব্যবসায়ী তাব্বা ও মিজানুর রহমান। এখানে উৎপাদিত কলার মধ্যে রয়েছে ওষুধি কলা হিসেবে চিহ্নিত চাম্পা কলা, সবরি কলা, রঙ্গিন মেহের সাগর ও সাগর কলা। বর্তমানে জয়পুরহাটের হাটবাজারগুলোতে সবরি কলা ১৫ থেকে ২০ টাকা হালি এবং চাম্পা ও সাগর কলা ৫ থেকে ১০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।
জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ জেড এম ছাব্বির ইবনে জাহান বলেন, কলা চাষ বেশ লাভজনক ফসল। কলা চাষ করে এই জেলার অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন।
সুত্র : বাসস 
এইবেলা ডট কম/এইচ আর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71