মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের জীবনে নারী ও প্রেম এবং প্রেম বিরহ
প্রকাশ: ১১:০২ am ২৪-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:০২ am ২৪-০৫-২০১৭
 
 
 


সন্তোষ চন্দ্র নাথ : জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের জীবনে নারী ও প্রেম  এবং প্রেম বিরহ : আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামকে বিভিন্ন বিশেষণে অভিহিত করা হয় - বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, দ্রোহের কবি, সাম্যের কবি ।

যেমনি সবগুলি বর্ণময় বিশেষণই তাঁর জন্য প্রযোজ্য তেমনি তাঁর জীবনটাও ছিল প্রেমময় এবং বর্ণময় । জীবনে বারবার তিনি প্রেমে পড়েছিলেন এবং তাঁর জীবনের অফুরন্ত প্রেম ভালোবাসাই তাঁর লেখনী আবেগকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছে যার প্রমান পাওয়া  যায় তাঁর কবিতা গল্প গান ইত্যাদিতে ।

তিনি বাজিয়েছিলেন বাঁশি, লিখেছেন কবিতা - গল্প,  লিখেছেন গান এবং সে সময়ে জনশ্রুতি ছিল এই সকল প্রতিভার মুলে ছিল তাঁর প্রেম । তিনি এমন এক অসাধারণ লড়াকু মানুষ ছিলেন যাঁর নিজের ভাগ্যকে নিজেই তৈরী করেছিলেন - সময় তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি তিনি সময়কে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাঁর সমস্ত কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন ।

কবি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য থেকে পাওয়া যায় প্রধানতঃ তিন জন নারী তাঁর জীবনে অতি মাত্রায় স্থান করে নিয়েছেন - তাঁরা হলেন নার্গিস (সৈয়দা খানম), প্রমীলা এবং ফজিলাতুনেসা । 

কবির প্রথম জীবনের প্রেম হয়েছিল সৈয়দা খানম এর সাথে তিনি যাঁর নাম দিয়েছিলেন নার্গিস ।নার্গিস ছিলেন কুমিল্লার দৌলতপুরের খান বংশের আলী আকবর খানের বোনের কন্যা - আলী আকবর খানের আমন্ত্রণে নজরুল কলকাতা থেকে কুমিল্লাতে বেড়াতে আসেন । কলকাতা থেকে নজরুল কুমিল্লায় আসার পর আলী আকবর খান তাঁকে নিয়ে খান সাহেবের বাল্য বন্ধু বীরেন্দ্র কুমার সেনগুপ্তের বাসায় উঠেন ।

খান সাহেবের সাথে দীর্ঘ দিন কাজ করার সুবাধে নজরুল ধীরে ধীরে নার্গিসের সংস্পর্শে চলে আসেন ফলে তাঁদের দুজনের মধ্যে প্রণয়ের সুতপাত হয় - কথিত আছে নার্গিসের রূপমাধুরী ও সৌন্দর্যের কারণে নজরুল ৭১ দিন দৌলতপুরে অব্স্থান করেছিলেন । 

প্রাপ্ত সূত্র মতে কুমিল্লা দৌলতপুরে বসেই কবি ১৬০টি গান এবং ১২০টি কবিতা রচনা করেছিলেন - যার মধ্যে 'পথিক প্রিয়া', 'বেদনা অভিমান', 'অনাদৃত' 'বিদায় বেলা' ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।

দুর্ভাগ্য বসত বিয়ের পিঁড়িতে বসেও নার্গিস এর সাথে বিয়ে হয়নি - জনশ্রুতি আছে বিয়ের আকদ হওয়ার পর কাবিনের শর্ত দেখে মাথা গরম করে নজরুল সেখান থেকে চলে যান । বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরও নার্গিস ১৬ বছর নজরুলের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন । নার্গিস সম্পর্কে কবি লিখেছিলেন 'যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পারনাই, কেন মনে রাখ তারে - ভুলে যাও তারে ভুলে যাও একেবারে' ।

নার্গিসকে কবির শেষ চিঠির একটি লাইনে তিনি লিখেছিলেন  ''তুমি এই আগুনের পরশ মানিক না দিলে আমি 'অগ্নিবীণা' বাজাতে পারতামনা - আমি 'ধূমকেতুর' বিস্ময় নিয়ে উদিত হতে পারতামনা'' ।

বলা যায় নজরুলের জীবনে নার্গিসই একমাত্র প্রেমময়ী নারী যার কল্যানে এই পৃথিবীতে নজরুলের মতো একজন বিখ্যাত কবির সৃষ্টি হয়েছিল ।

নজরুলের জীবনে দ্বিতীয় নারী হচ্ছেন প্রমীলা । নার্গিসের সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর নজরুল গিয়ে উঠেন বীরেন্দ্র কুমারের বাড়িতে এবং সেখানে গিয়ে কবি শারীরিক ও মানসিক ভাবে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন তবে সেনবাড়ির সেবাযত্ন তাঁকে সুস্থ করে তুলতে সক্ষম হন ।

বীরেন্দ্র কুমার সেনগুপ্তের বাড়িতে থাকতেন তাঁর এক বিধবা জেঠিমা গিরিবালা দেবী এবং তাঁর কন্যা প্রমীলা সেনগুপ্তা । হতে পারে প্রমীলার সেবা যত্নে মুগ্ধ হয়ে অথবা নার্গিস এর স্মৃতি ভুলে থাকার কারণে নজরুল কিশোরী প্রমীলার প্রেমে পড়ে যান ।

অনেক ঘটনা অঘটনের পর কলকাতায় নজরুল প্রমীলার বিয়ে হয় । নজরুলের জীবনের দুই সারথী নার্গিস এবং প্রমীলা, একজন চাঁদ তো অন্যজন নীল সরোবর । খুব বেদনার বিষয় হলো  অতি অল্প বয়সে কবি পত্নী প্রমীলা পক্ষাঘাতগ্ৰস্থ হয়ে দীর্ঘদিন ভোগার পর মারা যান।

কবির জীবনে তৃতীয় নারী ছিলেন  ফজিলাতুনেসা জোহা, নার্গিস এবং প্রমীলা ছিলেন অত্যন্ত আকর্ষণীয় সুন্দরী তবে অতি সাধারণ নারী - নজরুলের পত্নী ছাড়া যাদের সমাজে নিজেদের কোনও পরিচিতি ছিলোনা । ফজিলাতুনেসা সুন্দরী ছিলেন না কিন্তু তিনি ছিলেন আপন গুনে গুণান্বিতা - তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রাপ্ত প্রথম মুসলিম নারী । প্রাপ্ত তথ্য সূত্র মতে তিনি প্রথম মুসলিম নারী যিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য বৃত্তি নিয়ে বিদেশ যান ।

উল্লেখ্য যে, কবির এই প্রেমটি ছিল একপেশে - নজরুল নিজেই ভালোবেসে গেছেন কিন্তু ফজিলাতুনেসার কাছ থেকে ভালবাসা পাননি । নজরুল  ফজিলাতুনেসাকে বহু চিঠি লিখেছেন যার ছত্রে ছত্রে ছিল  ফজিলাতুনেসার প্রতি প্রেমের আকুলতা, সেসব চিঠির উত্তর তিনি কোন দিন পাননি ।

তথ্যসূত্র অনুযায়ী এই তিনজন নারী ছাড়াও আরও কয়েকজন নারীর সাথে নজরুলের প্রেমের বন্ধন তৈরী হয়েছে তাদের মধ্যে রানু সোম,জাহানারা বেগম, উমা মৈত্র, কানন দেবী উল্লেখযোগ্য । 

২০১৫ সালে আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের জন্মভূমি আসানসোল যাওয়ার সৌভাগ্য  আমার হয়েছিল তখন থেকে তাঁর সম্পর্কে কিছু লিখার অভিপ্রায় ছিল আজ ২৪ মে নজরুল জন্ম জয়ন্তীতে তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে কবির প্রেম পর্যায়ের এই অংশটি লিখার চেষ্টা করেছি ।

লিখাটি লিখতে গিয়ে বেশকিছু তথ্যসূত্রের সহায়তা নিয়েছি এই  সকল তথ্যের লেখকগণের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা । তবে লিখতে লিখতে মনে হয়েছে আমাদের প্রানপ্রিয় কবি বারংবার প্রেমে না পড়লে বোধকরি এতো সুন্দর সুন্দর প্রেমের গান কবিতা হয়তো আমরা পেতাম না । কবির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ..........

প্রবন্ধ লেখক ও 
আজীবন সদস্য 
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71