শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
জেনে নিন আশাভরী কে?
প্রকাশ: ০১:৪১ pm ১৮-০২-২০১৮ হালনাগাদ: ০১:৪১ pm ১৮-০২-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক:
 
 
 
 


বিয়ে করে কৈলাসে এসেছেন পার্বতী। স্বামী ভোলানাথ। সংসার নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যথাই নেই। কার্যত একাকীত্বেই জীবন কাটে। স্বামী শিব ছাড়া তার সঙ্গী নন্দী-ভৃঙ্গি। শিবের এই দুই চ্যালাই সারাক্ষণ পার্বতীকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে থাকে। কিন্তু, একজন নারী এরকম পুরুষসঙ্গে কতক্ষণ থাকতে পারেন? কৈলাসে যদি দ্বিতীয় কোনো নারী থাকতেন, তাহলে মেয়েলি আড্ডাটা বেশ জমে যেত।

শিব ঘরে এলে মনের কথা বললেন পার্বতী। যদি বোনের মতো কেউ তার সঙ্গে থাকত, তাহলে কত না ভাল হত! শিবকে এ কথা বললেন পার্বতী।

শিব বললেন, তাহলে সরস্বতীকে ডেকে নিতে। কৈলাসমাতা খেয়াল করিয়ে দেন, সরস্বতীর সাংসারিক জীবন কতটা দায়িত্বের! তার উপর সরস্বতী আবার ব্রহ্মার স্ত্রী। সংসারের ব্যস্ততা সামলে তার পক্ষে কৈলাসে গিয়ে পার্বতীকে সঙ্গ দেওয়া সম্ভব নয়। পার্বতী আবদার করলেন, যদি শিবের কোনো বোন থাকত তাহলে কত না ভাল হত। শিব বললেন, ভাল করে বিষয়টি ভেবে দেখতে।

শিবকে প্রতিশ্রুতি দিলেন, ননদ পেলে তাকে পরম আদর যত্নে রাখবেন তিনি। তার কোনো অসুবিধা হতে দেবেন না। খাওয়ানো-পরানো সব নিজেই করে দেবেন বলে শিবকে জানালেন পার্বতী। উপায় না পেয়ে শিব বসলেন ধ্যানে। নিজের পবিত্র শক্তিকে কাজে লাগিয়ে হুবহু নিজের মতো দেখতে এক নারীকে তৈরি করলেন শিব।

সেই নারীর নাম আশাভরী। ইনিই শিবের বোন। তাঁরই মতো দেখতে এক নারীর গায়ে কোনো বস্ত্র ছিল না আশাভরীর। দীর্ঘ কেশ আর সুডৌল নাক। তবে, পায়ের গোড়ালিতে বিশাল ফাটল। পরনে তার শুধু বাঘছাল। পার্বতী ননদকে পেয়ে আপ্লুত। আশাভরীকে ভাল করিয়ে স্নান করিয়ে নতুন বস্ত্র পরিয়ে খেতে দেন তিনি।

কিন্তু, আশাভরীর খিদে দেখে চমকে যান পার্বতী। পার্বতী যত জনের রান্না করেছিলেন এক লহমায় তার সবটাই খেয়ে ফেলেছেন আশাভরী। তার আরও খাবার চাই। পার্বতী জানালেন, আর খাবার নেই। শুনবেন না আশাভরী। পার্বতী ছুটলেন শিবের কাছে। পার্বতী সবিস্তারে সমস্ত কথাই জানালেন। কিন্তু শিব স্মরণ করিয়ে দিলেন, পার্বতী-ই বলেছিলেন আশাভরীর যত্নের কোনো ত্রুটি হবে না।

পার্বতী ফিরে গেলেন কৈলাসে। একদিন আশাভরীর আচরণে বিরক্ত ছিলেন পার্বতী। এই নিয়ে বউদি-ননদে খটাখটি। পরিণামে দুষ্টু আশাভরী তার গোড়ালির ফাটলে পার্বতীকে বন্দি করে রাখলেন।

পার্বতীর বিপদের কথা বুঝতে পেরে উদ্ধারে আসেন শিব। তিনি আশাভরীকে পার্বতীর ঠিকানা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু, আশাভরী বলেন তিনি জানেন না। ক্ষিপ্ত শিব এরপর আশাভরীকে ভর্ৎসনা করেন। আশাভরী, গোড়ালি ঝেড়ে পার্বতীকে মুক্তি দেন।

পার্বতীর যত্ন-আত্তির পর আশাভরী
ননদের আচরণে রেগে যান পার্বতী। তিনি শিবের কাছে ক্ষমা চেয়ে পরিস্কার করে বলেন, এমন মেয়ের সঙ্গে সংসার করা কঠিন। আশাভরীর আচরণ যে তাকে পীড়া দিয়েছে, তাও জানান পার্বতী। কৈলাসে আশাভরীকে রাখতে পারবেন না বলেও শিবকে জানিয়ে দেন।

শিব ঠিক করলেন আশাভরীর ত্রুটিগুলি মোচন করে সরিয়ে কিছু ভাল গুণ দিয়ে তাকে পুনর্জন্ম দেবেন। কিন্তু, পার্বতী বলে বসেন, আশাভরী যদি নিজের চরিত্রে নমনীয়তা আনতে পারেন এবং পার্বতীকে সম্মান দিতে পারেন, তবেই তিনি তাকে কৈলাসে থাকতে দেবেন।

পার্বতীর এহেন ভাবনার কথা জেনে আশাভরীর পুনর্জন্মের পরিকল্পনা ত্যাগ করেন শিব। তিনি পার্বতীকে জানান, কখনই কেউ কারোর মনের মতো হতে পারে না। তার একটা স্বাধীন সত্তা থাকে। সেই সঙ্গে শিব এ-ও বলেন যে, দুই ভিন্ন রক্তের সম্পর্কের নারী একই জায়গায় চিরটাকাল সুখী থাকতে পারেন না। তাই আশাভরীকে কৈলাস থেকে সরিয়ে দেন শিব।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71