সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
জেনে নিন কুরুক্ষেত্রের অষ্টম দিনের ঘটনা
প্রকাশ: ০৭:৫৯ pm ২৮-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৭:৫৯ pm ২৮-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


মহাভারতে প্রথম দশদিন টেনে টেনে যুদ্ধ চলছে। একই বর্ণনা প্রতিদিন। সামান্য দু একটা নতুন ঘটনা। এ ছাড়া কিছু নয়। ভীষ্ম বধের পর অর্থাৎ দশম দিনের পর থেকেই নানান ঘটনা ঘটতে থাকবে। বহু নামজাদা রথী মহারথীর মৃত্যু হবে। 

অষ্টম দিনেও একই রকম। আজ কৌরব পক্ষে হল সাগর ব্যুহ আর পান্ডব পক্ষে শৃংগাটক ব্যুহ। নাম শুনে আর কিছুটা বিবরণ পড়ে মনে হয় সাগর ব্যুহ ছিলো ছোটো ছোটো ভাগে অনেকগুলি রেজিমেন্ট গড়ে তুলে আক্রমণ করা। সাগরের ঢেউয়ের মতন। একটাই মুখ্য আক্রমনের মুখ নয়।

আর পান্ডবদের শৃংগাটক ব্যুহ দুটো শিংএর মতন কিছুটা বড় দুটি উইংস, কিন্তু অর্দ্ধচন্দ্রের মতন বিশাল বাহু নয়। দুই "শিং"এ রইলেন ভীমসেন আর সাত্যকি। মধ্যখানে অর্জুন।

আজকেও ভীম সাতজন কুরু ভাইএর প্রাণ হরন করবেন। সাত কৌরব ভাই ভীষ্মের সাথে একত্র হয়ে ভীমের সাথে যুদ্ধ করতে গেলে ভীম প্রথমেই ভীষ্মের সারথিকে মেরে ফেললেন। সারথিহীন রথ এর ঘোড়ারা উদভ্রান্তের মতন ছুটে চলে গেলে ভীম সহজেই সাত ভাইএর ইহলীলা সাঙ্গ করলেন।

দুর্যোধন গেলেন ক্ষেপে। গতকালই উনি ভীষ্মের কাছে অভিমান করেছিলেন। ভীষ্মও প্রচুর উৎসাহের কথা শুনিয়েছিলেন, নিজের হাতে দুর্যোধনের ক্ষতে পট্টি লাগিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্যোধনের আর ধৈর্য্য থাকছিলো না।

দুর্যোধন ভীষ্মকে বললেন, ভীমের হাতে আমার ভাইএরা একের পর এক নিহত হচ্ছে। আর আপনি সর্বদা যেন মধ্যস্থ হইয়া আমাদিগকে উপেক্ষা করিতেছেন। আমাদের কপালটাই খারাপ যে এই যুদ্ধ করবার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ভীষ্ম সাশ্রুলোচনে বললেন,` বিদুর, আমি, দ্রোণ, গান্ধারী - আমরা সবাই তো তোমায় মানাই করেছিলাম এই যুদ্ধ শুরু করতে। এখন স্থির বুদ্ধি হয়ে লড়ে যাও। দেবতারাও পান্ডবদের যুদ্ধে হারাবার ক্ষমতা রাখে না`।

আজকের যুদ্ধে সেন্টার স্টেজে ছিলো অশ্বারোহী সেনারা। প্রথমে নকুল সহদেব এক অশ্বারোহী বাহিনীকে আক্রমন করে শত শত ঘোড়াকে নিহত করছেন। এরেপরেও শকুনি, সিন্ধু, আরট্ট, কাম্বোজ, বানায়ু, তিত্তির প্রভৃতি দেশীয় অশ্বারোহীদের নিয়ে রণাংগনে এসেছেন।

এদের মোকাবেলায় এলেন অর্জুন উলুপী পুত্র ইরাবান। তাঁর সাথেও ছিলো অশ্বারোহী বাহিনী। শকুনিরা ছয় ভাই "শীল সম্পন্ন বয়স্থ উত্তম উত্তম" ঘোড়ার পিঠে চড়ে ইরাবানকে আক্রমন করলেন। পুরো মহাভারতেই কিন্তু নায়কেরা কেউ ঘোড়ার পিঠে চড়ে যুদ্ধ করতেন না। একে তো ভালো ঘোড়ার অভাব, সেই সময় রেকাবও ছিলো না। তাই তাদের অস্ত্র ছিলো মুখ্যতঃ লম্বা বর্শা বা প্রাস। ছয় ভাইএর প্রাসের আঘাতে ইরাবান বিক্ষত হচ্ছিলেন। ইরাবান তখন ঢাল তরোয়াল নিয়ে মাটিতে নামলেন। খুব দ্রুত ঘোড়া চালিয়েও শকুনির ছয় ভাই ইরাবানকে কবজা করতে পারছিলেন না। ইরাবান দুই হাতেই খড়্গ নিয়ে একে একে শকুনির পাঁচ ভাইকে নিহত করলেন, শুধু একজন, ঋষভ, খুব আহত হয়েও পালিয়ে বাঁচলেন। গান্ধার দেশের মানুষ বলে শকুনি সব সময়েই অশ্বারোহী ও প্রাসধারী সেনা নিয়ে যুদ্ধ করতেন। ইরাবানকে রুখতে এলেন রাক্ষস অলম্বুষ। এর সাথে যুদ্ধে (অনেক অলৌকিক বর্ননা আছে) খড়গাঘাতে ইরাবান প্রাণ হারালেন। মহাভারতের অন্যান্য যুদ্ধের মধ্যে এই লড়াইএর তফাৎ যে আর কোথাও অশ্বারোহী বাহিনীর সংঘর্ষের বিবরন নেই আর অসি যুদ্ধে আর কোনো নায়কও মারা যান নি।

আর আজকের আরেকটি বড় খবর বংগাধিপতির যুদ্ধ অভিযান। এনার নাম নেই। কিন্তু যুধিষ্ঠিরের রাজসুয় যজ্ঞে, বংগের রাজা চন্দ্রসেনের নাম কিন্তু খুব উল্লেখযোগ্য ভাবে বলা হয়েছিলো। পুন্ড্রের(উত্তর বংগ) পৌন্ড্র বাসুদেবও বড়ো রাজা ছিলেন। কুরুক্ষেত্রের আগেই তিনি কৃষ্ণের হাতে নিহত হন।

দশ হাজার হাতী (পড়ুন অনেক হাতী)নিয়ে বংগাধিপতি দুর্যোধনের সাথে সাথে চললেন ঘটোৎকচের বিরুদ্ধে লড়াইতে। ঘটোৎকচ এক বিশাল শক্তি দুর্যোধনের উপর ক্ষেপন করতে গেলে বংগাধিপতি তার হাতীটিকে নিয়ে দুর্যোধনকে আড়াল করে দাঁড়ালেন। সেই শক্তির আঘাতে তাঁর হাতীটি নিহত হলে বংগাধিপতি এক লাফে হাতীর পিঠ থেকে নেমে পড়লেন।

দিনের শেষে খুবই ভয়ানক হয়ে উঠলেন ঘটোৎকচ। তাকে আর কেউ সামলাতে পারছিলো না। সেই দুর্যোধন আবার ভীষ্মের কাছে গিয়ে প্রায় কেঁদে পড়লেন, একটা কিছু করুন। ভীষ্ম কোনো কারনে ঘটোৎকচের সাথে লড়াই করতে চাইতেন না। এর আগেও একদিন বলেছিলেন ঐ দুরাত্মার সহিত যুদ্ধে আমার অভিরুচি নাই। আজকেও উনি লড়াইটা দিলেন প্রাগজ্যোতিষ(আসাম)'র রাজা ভগদত্তকে। ভগদত্তের হাতীর নাম সুপ্রতীক। মহাভারতের সব থেকে নামকরা রণহস্তী। সেই অতিকায় হাতীতে চড়ে ভগদত্ত এলেন ঘটোৎকচের মোকাবিলায়। পান্ডবপক্ষে ছিলেন দশার্ণ দেশের (পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ আর দক্ষিন পুর্ব রাজস্থানের মধ্যবর্তী মালোয়া অঞ্চল) রাজাও এলেন তার হাতীতে চড়ে। কিন্তু ভগদত্ত সহজেই সেই হাতীটিকে মারাত্মক আহত করে দিলে সেটি নিজের পক্ষের সেনাদের উপর দিয়ে ছুটেই পালিয়ে গেলো।

ভীম আর ঘটোৎকচ একযোগে ভগদত্তকে আক্রমন করলে ভগদত্ত ভীমের সারথী বিশোককে আহত করলেন। এই বিশোক শেষদিন পর্যন্ত ভীমের সারথী হিসেবে থাকবেন। তিনিই একমাত্র পেশাদার সারথী যাকে সব সময়ই তার নামে পরিচিত করা হত । যুধিষ্ঠিরের সারথী ছিলেন ইন্দ্রসেন, কিন্তু তাঁর নাম ঐ একবারই উল্লেখ করা হয়েছিলো। দুর্য্যোধনের বাণে গাঢ়বিদ্ধ হয়ে ভীম একবার প্রায় মুর্ছাগত হলেন। রথের ধ্বজা ধরে কোনোরকমে সামলে নিলেন। এরপরেই ভীম আর ঘটোৎকচ, দুজনেই ভয়ংকর হয়ে উঠলেন। ভীমের হাতে আজকে নিহত হবে দুর্যোধনের আরো সাত ভাই।

ক্রমে "যোধগন শ্রান্ত, ভগ্ন ও মর্দিত হইলে রাত্রি উপস্থিত হইল; রণ ব্যাপারে আর কিছুই দৃষ্টিগম্য রহিল না। মহাভয় জনক সুদারুন ঘোর নিশামুখে কুরু ও পান্ডব উভয় পক্ষই সৈন্যদিগের অবহার করিলেন"। অষ্টম দিনের যুদ্ধও শেষ হল।


বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71