সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
জেনে নিন কুরুক্ষেত্রের দশম দিন- ভীষ্ম বধের ঘটনা
প্রকাশ: ০৬:০৭ pm ০২-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ০৬:০৭ pm ০২-০৫-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


আজকে শিখন্ডীকে অগ্রগামী রেখে পান্ডব ব্যুহ সজ্জিত হল। শিখন্ডীর চক্ররক্ষক ভীম আর অর্জুন। ট্যাকটিক্স নিয়ে কোনো সন্দেহই নেই। ভীম আর অর্জুনের পিছনেই রইলেন পরবর্তী পান্ডব প্রজন্ম, দ্রৌপদীর পাঁচ ছেলে ও অভিমন্যু। তাদের পিছনে ধৃষ্টদ্যুম্ন ও অন্যান্য পাঞ্চালেরা। সবার পিছনে রইলেন যুধিষ্ঠির, নকুল সহদেবের সঙ্গে।

কৌরব পক্ষের ব্যুহের নামও নেই। তবে ভ্যানগার্ড সেই ভীষ্মই। তাকে ঘিরে দুর্যোধনের ভাইয়েরা। পৃষ্ঠরক্ষক হলেন দ্রোণ ও অশ্বত্থামা এবং গজসৈন্য নিয়ে ভগদত্ত। কৃপাচার্য্য, কৃতবর্ম্মা ও অন্যান্য রথীরা এঁদের পিছনেই। সবার নাম সব দিনেই উল্লেখিত হত না। হয়তো কেউ কেউ থাকতেন গুপ্ত। সারাদিন তো আর যুদ্ধ করা যায় না। জয়দ্রথ বধের দিনেও, যখন সময় বড়ই মূল্যবান, তখনো দেখি কৃষ্ণ রথ থামিয়ে ঘোড়াদের বিশ্রাম দিচ্ছেন। গায়ের থেকে শলাকা বার করছেন। ওষধি দিচ্ছেন। জল খাওয়াচ্ছেন। মালিশও করে দিচ্ছেন। সাত্যকিও রথ থামিয়ে কিরাত দেশীয় মদ্যপান করে ও ঘোড়াদের খাইয়ে নতুন উদ্যমে লড়াই শুরু করছেন।

বিবরণী সেই এক লম্বা লিস্ট। কার সাথে কার দ্বৈরথ চলছে। যেমন রোজই হয়, শল্য ও যুধিষ্ঠির, দ্রোণ ও ধৃষ্টদ্যুম্ন এবং ভীম ও গজসৈন্য ইত্যাদি। হাতী দেখলেই বোধহয় ভীমসেন অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে পড়তেন। শিখন্ডীকে নিয়ে অর্জুন চেষ্টা করে যাচ্ছেন ভীষ্মের কাছে পৌঁছাতে। তাকে আটকাচ্ছেন কুরু ভাইয়েরা। ভীষ্মের শেষ যুদ্ধ। উনি নাগাড়ে পান্ডব সেনাদের ঘায়েল করে চলেছেন। ধৃষ্টদ্যুম্নের নির্দেশে মরনপণ করে পান্ডব সেনারা ভীষ্মকে আক্রমন করলেন। ভীষ্ম সকল ক্ষত্রিয়কেই নিহত করলেন। তার হাতে মৃত্যু হল বিরাটের ভাই শতানীকেরও। এর আগে বিরাটের তিন ছেলেও মারা গেছে প্রথম দশ দিনে। পরিবার হিসেবে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্থ তিনিই। সুর্য যখন ঠিক মধ্যগগনে তখন ভীষ্ম দুই পক্ষের সেনা দলের মধ্যস্থানে এসে পৌঁছালেন। মনে হয় এর অর্থ তিনি কিছুটা অরক্ষিত হয়ে পড়েছেন। তাঁর প্রহরী রথীরা কিছুটা বেসামাল।

কৃষ্ণ অর্জুনকে বললেন। ঐ দেখো, ঐ ভীষ্ম উভয় সেনার অভ্যন্তরে অবস্থিত করতেছেন। এখনই বলপুর্বক ওনার প্রাণহরণ কর। অর্জুন শিখন্ডীকে নিয়ে ছুটলেন ভীষ্মের অভিমুখে। ভীষ্মের অনুগামীরা সদলে অর্জুনের হাতে নিহত হলেন।

যদি বলেন নিউমেরিকেল সুপিরিওরিটি তো সেই সময় ভীষ্মের চতুর্দিকে শুধুই পান্ডব রথীরা। প্রায় সকলেই। ভীষ্ম কিন্তু অবহেলে পান্ডব সেনাদের আরো গভীরে প্রবেশ করলেন। মনে হয় তাঁর আর রক্ষণাত্মক যুদ্ধে কোনোই উৎসাহ নেই। শিখন্ডীর নিক্ষিপ্ত বাণে ক্রমাগতঃ বিদ্ধ হচ্ছেন ভীষ্ম কিন্তু পাল্টা মার দিতে পারছেন না। শিখন্ডীকে ঢালের মতন সামনে রেখে অর্জুন ভীষ্মের শরাসন ছিন্ন করলেন।

দ্রোণ প্রভৃতি কুরু রথীরা ততক্ষনে টের পেয়েছেন ভীষ্মের ঘেরাও। তারা রথ চালিয়ে ছুটে এলেন ভীষ্মকে রক্ষা করতে আর ভীম, অভিমন্যু, বিরাট, দ্রুপদ ও অন্যান্য পান্ডবেরা "দ্রোণ প্রভৃতির দ্রুত গমন জনিত তুমুল শব্দ শ্রবণ করিয়া" এসে গেলেন তাদের রুখতে।

শিখন্ডীর বাণে তখন বার বার বিদ্ধ হচ্ছে ভীষ্ম। অন্য ধনুক হাতে নিতেই অর্জুন বার বার সেগুলিকেও ছিন্ন করে দিলেন। অর্জুনের বাণ শুধু ভীষ্মকে শস্ত্রহীন করছিলো, শিখন্ডীর উপর দায় ভীষ্মকে আঘাত করার। অসহায় ভীষ্ম তখন এক শক্তি নিক্ষেপ করলে অর্জুনের ভল্লে সেটি খন্ডিত হয়ে গেলো। ভীষ্ম তখন বুঝলেন পরাজয় ও মৃত্যু এখন অবধারিত। এই সময়ের বর্ণনা খুবই মর্মস্পর্শী। ভীষ্ম তার আঘাত দেখিয়ে বলছেন, এই যে বাণ সকল আমার বর্ম ভেদ করে আমায় গা বিদ্ধ করছে, এগুলি শিখন্ডীর নয়। এই যে বাণ সকল যমদূতের মতন আমার প্রাণ বিনাশ করছে এগুলি শিখন্ডীর বাণ নয়। এই যে বাণ সকল আমার মর্মভেদ করছে এগুলি শিখন্ডীর বাণ নয়। এগুলি অর্জুনেরই বাণ তাহাতে সন্দেহ নাই। যেনো শেষ মুহুর্ত্তেও কোনো ক্ষোভ নেই বরং তারিফ আছে।

ছিন্ন ধনুক ভীষ্ম তখন তাঁর শেষ অস্ত্র, ঢাল তলোয়ার গ্রহন করলেন। কিন্তু তিনি রথ থেকে নামবার আগেই অর্জুন তাঁর ঢাল আর তলোয়ার ছিন্ন করলেন। ভীষ্ম তখন কুরুপক্ষের রথীদের থেকে বিছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। শিখন্ডীকে সামনে রেখে অর্জুনের সাথে লড়াই করা অসম্ভব। কৌরবেরা, দ্রোণ, কৃপ, ভগদত্ত ইত্যাদি সাতজন রথী আপ্রাণ চেষ্টা করছেন ভীষ্মের কাছে পৌঁছাতে আর সেরকমই ভাবে পান্ডব পক্ষে ভীম, অভিমন্যু, সাত্যকি প্রমুখ সাত জন মহারথী তাদেরকে রুখে দিচ্ছেন। প্রতিটি মুহুর্ত্তই ভীষ্মকে তার অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিছে সে সময়ে। অর্জুনের একটানা বাণে ভীষ্মের শরীরে আর দুই আঙুল স্থানও অক্ষত রইলো না। তিনি অবশেষে তাঁর রথ থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। স্বর্গ থেকে দেবতারাও হায় হায় করে উঠলেন। ভীমসেন উল্লাসে চিৎকার করে উঠলেন। আরো কেউ কেউ হর্ষিত হল। কেউ বিষাদগ্রস্থ। ভীষ্মের মৃত্যু সংবাদ শুনে দ্রোণ মুর্ছিত হয়ে পড়লেন। মুহুর্ত্তের মধ্যেই সংজ্ঞা ফিরে পেয়ে তিনি কৌরবদের আজকের মতন যুদ্ধ অবসানের নির্দেশ দিলেন। পান্ডবদের দূতেরা দ্রুতগামী ঘোড়ায় চেপে সারা রণাঙ্গনে বার্তা পাঠালেন যুদ্ধ শেষের।

তখন সুর্যাস্ত প্রায় হতে চলেছে। দিন ও শেষ।


বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71