বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫
 
 
জেনে নিন কুরুক্ষেত্রের ষষ্ঠ দিনের ঘটনা
প্রকাশ: ০৬:৪১ pm ২৪-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৬:৪১ pm ২৪-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


এই দিনে যুধিষ্ঠির ধৃষ্টদ্যুম্নকে নির্দেশ দিলেন মকর ব্যুহ সাজাতে। ভ্যানগার্ড অর্থাৎ একেবারে ব্যুহের ঠোঁটে ভীমসেন ,তার পিছনেই অর্জুন আর দ্রুপদ (মকরের মুখে), নকুল সহদেব মকরের চোখে। তার পিছনে যুধিষ্ঠির, সাত্যকি, ঘটোৎকচ। সেনাপতি ধৃষ্টদ্যুম্ন আর বিরাট রইলেন অনেকটা পিছিয়ে (মকরের পিঠে) আর একেবারে শেষ ভাগে অর্থাৎ পুচ্ছদেশে শিখন্ডী আর ইরাবান।

আর ভীষ্মের সাজালেন ক্রৌঞ্চ ব্যুহ। যার ভ্যানগার্ড দ্রোণাচার্য্য। ব্যুহের চোখে অশ্বত্থামা আর কৃপাচার্য্য। অর্থাৎ সপরিবারে পুরো গুরুকুলটাই মূল আক্রমন। এদের পিছনে ব্যুহের মাথায় আর আরো পিছনে দুর্যোধন। আরেকটি ইন্টেরেস্টিং তথ্য যে ব্যুহের শেষ দিকে রিজার্ভ ফোর্সে ছিলো বিদেশী সেনারা, তুষার,যবন,শক ও চূলিক।

এর পরে ধৃতরাষ্ট্র আর সঞ্জয়ের কথোপকথন খুবই তথ্যবহূল। ধৃতরাষ্ট্র প্রশ্ন করলেন, আমাদের সেনানীও প্রচুর। তারা কেউই বালক বা বৃদ্ধ নন, খুব কৃশ বা স্থুলও নন। তারা তাদের অস্ত্র অর্থাৎ অসি, প্রাস (লম্বা বর্শা), মুষল, ঋষ্টি (মনুসংহিতায় বর্ননায় মনে হয় তরোয়াল), তোমর (আগাগোড়া লোহার, শাবল গোছের অস্ত্র), ভিন্দিপাল (কাঠের বাঁট, হাতুড়ী গোছের ,গদা), শক্তি(বল্লম) এইসবে অভ্যস্ত। খেয়াল রাখুন সাধারন সেনানীদের অস্ত্রে তীর ধনুকের কথা নেই। বল্লম ছাড়া হস্তমুক্ত অস্ত্রও নেই। থাকবে কী করে? একজন সেনানী কত'ই বা অস্ত্র একসাথে বয়ে বেরাতে পারবে ?

ধৃতরাষ্ট্র আরো বলেন, আমার সেনারা তো পেশাদার, "আমরা উহাদিগের গজ, হস্তী ও রথ গমনের পরীক্ষা করিয়াই বেতন দিয়া নিযুক্ত করিয়াছি।"....."উহারা সকলেই আর্য্যোবংশদ্ভব ও সমৃদ্ধ"। আমাদের সেনারা (পান্ডবদের মতন)" গোষ্ঠী, সৌহার্দ্দ্য, আভিজাত্য বা সম্পর্কের কারনে নিযুক্ত হয় নাই। এরা স্বেচ্ছায় আমাদের কাছে এসেছেন তবে কেনো আমরা তাহলে পান্ডবদের হাতে পরাজিত হচ্ছি ? সঞ্জয় অবশ্য ব্যাপারটাকে স্রেফ কর্মফল বলেই কাটিয়ে দিলেন।

আজকের দিনটা ভীমের। উনি কৌরব ব্যুহ ভেদ করে ভিতরে ঢুকতেই দুর্য্যোধনের ভাইরা তাকে ঘিরে ফেললেন। ভীম প্রথমে খেয়াল করেন নি। উনি অন্যান্য সেনাদের নিধনেই ব্যাস্ত ছিলেন। যখন টের পেলেন যে তাকে একেবারে ঘিরে ফেলা হয়েছে তখন ভীমকে আর থামানো গেলো না। রথ থেকে মাটিতে নামলেন তার প্রিয় গদা হাতে।

ওদিকে ভীমের বিপদ টের পেয়ে ধৃষ্টদ্যুম্ন দ্রোণের সাথে তাঁর নিত্যনৈমিত্তিক দ্বৈরথ ছেড়ে চলে এলেন যেখানে ভীমের রথের ধ্বজা দেখা যাচ্ছে। এসে দেখলেন শুন্য রথ, সারথী বিশোক একাই বসে আছেন। ধৃষ্টদ্যুম্ন তো আঁতকে উঠলেন। বিশোক জানালেন যে ভীমসেন যেই বুঝলেন তাকে "অবরোধ" করা হয়েছে অমনি গদা হাতে নেমে পড়লেন। আমাকে আদেশ করলেন, রথটা এখানেই অবস্থান করাও হে। "মুহূর্ত্তকাল অবস্থান করো", আমি ওদের খতম করেই ফিরে আসছি।

ধৃষ্টদ্যুম্ন তখনই ভীমের সন্ধানে রথ চালালেন। ভীমসেনকে অনুসরণ করা আদৌ কঠিন ব্যাপার নয়। শত্রুসেনাদের আর্তনাদ আর ক্রমাগতঃ ভগ্ন রথ, নিহত ঘোড়া ও হাতীর সরণি ধরে এগিয়ে গিয়ে অচিরেই ভীমসেনকে দেখা গেলো। ভীমসেন তখন একেবারেই অবরুদ্ধ। ধৃষ্টদ্যুম্নকে হাজির দেখে দুর্যোধন নিতান্ত ক্রুদ্ধ হলেন। ভাইদের বললেন "দুরাত্মা দ্রুপদতনয়" ও এসে গেছেন। চলো আমরা দুইজনকেই সাবাড় করি।

ওদের খবর পেয়েই যুধিষ্ঠির ব্যাকুল হয়ে পড়লেন। অভিমন্যু ও আরো বারোজন রথীদের তৎক্ষনাৎ পাঠানো হলো কুরু ব্যুহ মধ্যে। যুধিষ্ঠির বললেন, ওদের খবর জানাও আমাকে। যতক্ষন না ওদের সংবাদ না পচ্ছি ততক্ষণ "আমার মনস্থির হইতেছে না"।

পান্ডব রথীরা তখুনি সূচীব্যুহ বানিয়ে রথ চালালেন। আর কুরুপক্ষও বসে নেই, দ্রোণও ছুটলেন অভিমন্যুকে আটকাতে। দ্রোণকে আসতে দেখে ধৃষ্টদ্যুম্ন আর রিস্ক নিলেন না, কেকয় রাজার রথে ভীমকে তুলে নিজে ছুটলেন দ্রোণকে সামলাতে। দ্রোণ তখন "প্রভু দুর্যোধনের অন্ন স্মরণ করিয়া ,তাঁহার হিতার্থে ধৃষ্টদ্যুম্নের উপর শত শত বাণ নিক্ষেপ করিলেন"। দ্রোণ ভল্লাস্ত্রে তাকে অশ্বহীন ও সারথীহীন করলে ধৃষ্টদ্যুম্ন তখন অভিমন্যুর রথে উঠে পিছু হঠলেন।

ভীম ফিরে এসে সুস্থ চিত্তে নিজের রথেই উঠলেন। অভিমন্যু প্রমূখ বারোজন রথীকে বাকীদের রক্ষা করার আজ্ঞা দিয়ে নিজে ছুটলেন কুরুসৈন্য নিধনে। তাকে দেখেই সবাই পালাতে শুরু করলে "তাহারা যে জীবন লইয়া পলায়ন করিল ইহাও ভীমসেনের নিতান্ত অসহ্য বোধ হইল"।

নিজের রথেই ভীমসেনকে দেখে দুর্যোধন ছুটলেন তার ভাইদের নিয়ে। এই যে দুর্য্যোধনের ৯৯জন ভাই, দুঃশাসন বাদ দিয়েও, কয়েকজনের নাম যোদ্ধা হিসেবে বার বার উল্লেখিত হয়েছে, যেমন বিকর্ণ,চিত্রসেন আর জয়ৎসেন। অভিমন্যুর নেতৃত্বে বারো জন পান্ডব রথী তখন ভীমের পাশে, দুর্যোধনের পাশেও সব কৌরব মহারথীরা। যাকে বলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। কিন্তু ভীমের বাণে দুর্যোধন কাহিল হয়ে পড়লেন ।

কুরুক্ষেত্রের অন্যত্র ভীষ্ম, "পশুপালক যেরকম পশুদের তাড়িত করে সেইরকম পান্ডব সেনাদের সেইরূপ তাড়িত করিতে প্রবৃত্ত হইলেন"। ভীষ্মকে ঠেকাতে সেই অর্জুনকেই আসতে হলো দক্ষিনদিক থেকে।

এরপরেই ভীষ্ম প্রচন্ড ক্র্রুদ্ধ হয়ে সেদিনের মতন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন। যুধিষ্ঠিরও লড়াই ফেরত ধৃষ্টদ্যুম্ন আর ভীমসেনকে দেখে "তাঁহাদের মস্তক আঘান করিয়া হৃষ্টচিত্তে শিবিরে গমন করিলেন"। এই দিনের যুদ্ধের বিবরণী শেষ হল।

বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71