মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
জোরপূর্বক আপোষের এক ঘণ্টার মধ্যে কলেজ ছাত্রী কণা রাণীর আত্মাহুতি
প্রকাশ: ১০:২১ am ০৮-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:২১ am ০৮-০৫-২০১৮
 
দিনাজপুর প্রতিনিধি
 
 
 
 


চাপ দিয়ে আপোষ নামায় স্বাক্ষরের এক ঘণ্টার মধ্যে ফাঁস দিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছে কলেজ ছাত্রী কণা রাণী (১৯)। কণা রাণী নবাবগঞ্জ উপজেলার ১নং জয়পুর ইউনিয়নের দামোদরপুর কাছদীঘি গ্রামের মঙ্গলু চন্দ্র রায়ের মেয়ে এবং ফুলবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো। 

আপোষ মীমাংসার ঘটনা ঘটেছে গত রবিবার সন্ধ্যা সাতটায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ি থানায় এবং তরুণীর আত্মাহুতির ঘটনাটি ঘটেছে একই দিন রাত সাড়ে আটটায় নবাবগঞ্জের ১নং জয়পুর ইউনিয়নের দামোদরপুর (বাটদীঘি) গ্রামে।

কণা রাণীর বোন জামাতা দুলাল চন্দ্র ও বেয়াই দিনেশ চন্দ্র রায় বলেন, গত শনিবার সকাল ১০টায় কণা রাণী বাড়ির কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে যায়। এরপর ফুলবাড়ির রাঙ্গামাটি বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় কণা ও তার প্রেমিক বিকাশকে স্থানীয়রা আটক করেছে এমন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তারা।  সেখানে কণা ও বিকাশ বিয়ে করতে চাইলে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়। মেয়ের পিতা ঘটনাস্থলে আসলেও ছেলের পিতা না এসে তার শ্যালকসহ রাঙ্গামাটি ও বিজিবি ক্যাম্প এলাকার অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন যুবককে পাঠিয়ে বিয়ে ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ উভয়কেই থানায় নিয়ে আসে। ছেলে পক্ষের লোকজন বিয়ের বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে আপোষ মীমাংসার জন্য থানাতেই দিবাগত রাত চারটা পর্যন্ত চাপ সৃষ্টি করে। সমাধান না হওয়ায় থানার ওসি মেয়ে ও ছেলেকে পুলিশি হেফাজতে রেখে পরদিন রবিবার সকাল ৯টায় পুনরায় বৈঠকে বসার নির্দেশ দেন। রবিবার সকালে উভয় পক্ষ থানায় বৈঠকে বসে বিয়ের আলোচনা করতে গেলে রাঙ্গামাটি ও বিজিবি ক্যাম্প এলাকার মজিদ, বাবু ও ফুলবাড়ির মোশাররফসহ তাদের লোকজন এক লাখ টাকায় আপোষ করতে হুমকিসহ চাপ দেয় কণাকে। আপোষ না করলে কণা রাণীকে পতিতা সাজিয়ে জেলহাজতে পাঠানোরও হুমকি দেয়। পরে চাপের মুখে আপোষ নামায় মিন্টু চন্দ্র রায় বিকাশ ও কণা রাণী স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হয়। এ সময় ওসি আপোষ নামার এক লাখ টাকা কণা রাণীর পিতার হাতে তুলে দেন। টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় থানার গেটের বাইরে মজিদ, বাবুসহ বেশ কয়েকজন কণার পিতাকে আটক করে তাদের খরচ বাবদ  ২০ হাজার টাকা জোরপূর্বক নেয়। বাকি টাকা কেড়ে নিতে মোটরসাইকেলে ভাড়াটিয়ারা ধাওয়া করে। পরে স্থানীয় দুইব্যক্তির হস্তক্ষেপে তারা রক্ষা পান। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বাড়িতে ফিরে আসার পর বাড়ির সকলের অজান্তে কণা রাণী তার শোয়ার ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

কণার পিতা মঙ্গলু চন্দ্র রায় বলেন, মেয়েকে আমার আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। মেয়ে আমার আপোষ নামায় স্বাক্ষর দিচ্ছিল না। কিন্তু বিকাশের পিতার ফুলবাড়ির ভাড়াটিয়ারা আমার মেয়েকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে বিয়ে বন্ধ করে আপোষের কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছে। আমার মেয়েকে বিকাশসহ ওই ভাড়াটিয়ারাই মরতে বাধ্য করেছে।

জয়পুর ইউপি চেয়ারম্যান আইনুল হক চৌধুরী বলেন, যাদের কারণে এই ফুলের মতো মেয়েটাকে অকালে চলে যেতে হলো তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

দিনাজপুর -৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক জানান, মানসিক চাপ বা সম্মানহানির ঘটনায় যদি ঐ ছাত্রী আত্মহনন করে থাকে তবে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

টাকা কেড়ে নেওয়ার কথা অস্বীকার করে ফুলবাড়ির বিজিবি ক্যাম্প এলাকার মজিদ তালুকদার বলেন, ছেলে বিকাশ স্থানীয় মঞ্জু রায় চৌধুরীর আত্মীয় হওয়ায় তার সাথে থানায় গিয়েছিলেন। তবে আপোষের জন্য কাউকে চাপ বা হুমকি দেওয়া হয়নি।

নবাবগঞ্জ থানার এসআই হুজ্জাতুল বলেন, কণা আত্মহত্যার বিষয়ে সোমবার থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে এমন তথ্য সামনে রেখেই তদন্ত কাজ চালানো হচ্ছে।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71