বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
জয়পুরহাটে কচুর লতি চাষ : ভাগ্য বদলাচ্ছে কৃষকদের
প্রকাশ: ০৫:৪৫ pm ১৫-০৬-২০১৫ হালনাগাদ: ০৫:৪৫ pm ১৫-০৬-২০১৫
 
 
 


জয়পুরহাট প্রতিনিধি :
জয়পুরহাটে উৎপাদিত কচুর লতি দেশের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে গেছে বিদেশে। লতিরাজ কচু চাষ করে এখানকার কৃষকরা ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে। এ জন্য কচুর লতিকে এখানকার মানুষ রাজলতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পাঁচবিবি সদরের বটতলীতে বসে রাজলতি কচুর হাট। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর জন্য ২০/২৫ জন পাইকারী ক্রেতা প্রতিদিন সকালে লতি কিনতে এখানে জড়ো হয়। পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে এগুলো সরবরাহ করা হয়ে থাকে। উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম লতিরাজ কচুর এ বাজারে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার মণ লতির কেনা-বেচা হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বস্তায় করে বাসের ছাদে ও ট্রাকে করে ঢাকাতে নিয়ে যায়। কিছু ব্যবসায়ী ট্রেন যোগে খুলনা ও দৌলতপুর নিয়ে যায়। কচুর লতির এখন ভরা মৌসুম। প্রতিমণ কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা।
পাঁচবিবি উপজেলার আগাইর গ্রামের কৃষক মোসলেম উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, রতনপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান লতি চাষ এখন বেশ লাভজনক। জয়পুরাটে উৎপাদিত এই লতি কয়েক বছর ধরে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।
জয়পুরহাটসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে লতিরাজ কচুর চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক বিঘা জমিতে এ কচু চাষ করে বছরে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় হয় বলে জানালেন কেশবপুর গ্রামের কৃষক আলম।
লতি বিক্রি করতে আসা কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমিতে লতিরাজ কচু চাষে খরচ লাগে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকার মতো। বিক্রি হয় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা। বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি বা বন্যায় চাল, বেগুন, করলা, ডাটা ও অন্যান্য সবজির ব্যাপক ক্ষতি হলেও লতিরাজ কচুর কোন ক্ষতি হয় না। এতে কচুর গাছ সতেজ থাকে। যত বৃষ্টি তত লতি বাড়তে থাকে কচুর কান্ড থেকে। এ ছাড়া গরু-ছাগল এর কোনো ক্ষতি করতে পারে না। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র জয়পুরহাট জেলাতেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লতিরাজ কচুর চাষ হয়।
কৃষি বিভাগ জানায়, জয়পুরহাট জেলায় এবার ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে লতিরাজ কচুর চাষ হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১ হাজার ৩৭৫ হেক্টর। আবার লতিরাজ কচুর লতি বিক্রি শেষ হলে গোড়া কেটে গাভীকে খাওয়ালে দুধ বেড়ে যায়। জয়পুরহাটে চাষ হওয়া এ লতিরাজ কচু উন্নতমানের হওয়ায় এর চাহিদা সারাদেশ ব্যাপী। যা দেশের অন্য কোন অঞ্চলে পাওয়া যায়না। সে কারণে এ লতিরাজ কচুর চাষ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ছড়িয়ে পড়ছে দেশ থেকে বিদেশেও। লতিরাজ কচুর পাইকারী ক্রেতা আমিনুল ইসলাম, আজম মন্ডল, মাহবুব আলম জানান, জয়পুরহাটের লতি উন্নত মানের হওয়ায় ঢাকায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গাজীপুর চৌরাস্তা, সাভার, কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, শ্যামবাজার, জয়দেবপুর চৌরাস্তাসহ সিলেট ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয় এই লতি বলে জানান ব্যবসায়ীরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ জেড এম ছাব্বির ইবনে জাহান বলেন, লতিরাজ কচুর চাষ অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক লাভজনক। সে কারণে চাষ বৃদ্ধিসহ বর্তমানে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে।
এইবেলা ডট কম/এইচ আর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71