বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯
বৃহঃস্পতিবার, ১২ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
ঝালকাঠিতে মিল্কভিটা দুগ্ধ শিতলীকরন কেন্দ্র চালূর অপেক্ষায়
প্রকাশ: ০২:৪১ pm ২০-০১-২০১৯ হালনাগাদ: ০২:৪১ pm ২০-০১-২০১৯
 
ঝালকাঠি থেকে
 
 
 
 


ঝালকাঠিতে মিল্কভিটা দুগ্ধ শিতলীকরন কেন্দ্রটি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। খামারিদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ননিযুক্ত দুধ সংগ্রহ করার লক্ষে ফেব্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে কেন্দ্রটি চালুর আশা করছে কর্তৃপক্ষ। সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর এটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে। এটি চালূ হলে জেলার ডেইরী শিল্পের প্রসার ঘটবে বলে খামারিদের অভিমত। এই কেন্দ্রে দুধ বিক্রি করে সাবলম্বি হতে সহায়তা করবে খামারিদের।

দুগ্ধ শিতলীকরন কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠিতে মিল্কভিটা সমবায় সমিতির আওতায় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শহরতলির কীত্তিপাশা মোড়ে একটি ভাড়া বাড়িতে দুগ্ধ শিতলিকরন কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যায়ে ফার্মকুলার (দুধ পাস্তরাইজ করার ট্যাংক), জেনারেটর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝালকাঠি সদর, নলছিটি , রাজাপুর, কাঁঠালিয়া পিরোজপুরের কাউখালীসহ ৫টি উপজেলার ১ হাজার ৫০ জন খামারিকে নিয়ে ৪২টি সমিতি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি সমিতিতে ২০ জন খামারি রয়েছেন। এদের নিয়ন্ত্রন করবে কেন্দ্রীয় ১টি সমিতি। ৪২টি সমিতির খামারিদের গবাদি পশুর সংখ্যা ৫ হাজার ৬৫৭টি। 

তবে আনষ্ঠানিক ভাবে এর কার্যক্রম শুরু না হলেও কেন্দ্রের মাধ্যমে খামরিদের মাঝে উন্নতমানের ১৮ মেট্রিক টন গো-খাদ্য (ক্যাটল ফিড) ও দুগ্ধজাত পন্য সামগ্রী বিক্রি হয়েছে। সমিতির খামারিদের গরুর তড়কা ও ক্ষুরা রোগের বিনামূল্যে ভ্যক্প্রদান করেছে কেন্দ্রটি। বিনামূল্যে গরুর কৃত্রিম প্রজননের জন্য বীচ প্রদান কার্যক্রম চালূ আছে। কেন্দ্রটি দুজন চিকিৎসক ও চারজন শ্রমিক কর্মচারী দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। 

কেন্দ্রটির কর্মকর্তারা আরও জানায়, এই কেন্দ্রে খামারিরা কেজি প্রতি ননিযুক্ত দুধ ২৮ থেকে ৫৮ টাকা ধরে বিক্রি করতে পারবেন। প্রতি সপ্তাহে তাঁদের ব্যাংক হিসাবে বিল জমা হবে। কেন্দ্রটি সংগ্রহ করা দুধ ৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে নামিয়ে পাস্তরাইজ করে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, বাঘাবাড়ি, পাবনা ও অন্যান্য উৎপাদন কেন্দ্রে পাঠাবে। ৭ হাজার থেকে ১৪ হাজার ক্যাপাসিটির ইনস্যুলেটর ট্যাংকে দুধ সংগ্রহ করে পরিবহন করা হবে। তবে দুরের উপজেলার খামারিরা ২৭ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা লিটার প্রতি অতিরিক্ত ভর্তূকী পাবে। বছর শেষে প্রতি খামারি লিটার প্রতি ১ টাকা করে কমিশন পাবে। এই কেন্দ্রে সকাল ৬ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বিনামূল্যে দুইজন পশুচিকিৎসক খামারিদের গরুর চিকিৎসা দেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে মিল্কভিটা দুগ্ধ শিতলীকরন কেন্দ্র গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি সমিতির খামারিরা চিকিৎসকরে কাছ থেকে গরুর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন। তাঁরা কবে নাগাদ এটি পরোপুরি চালু হবে তা খোঁজখবর নিচ্ছেন। 

সদরের তারুলী গ্রামের খামারি মজিবর রহমান বলেন, দুগ্ধ শিতলীকরন কেন্দ্রটি চালু হলে আমাদের দুধ বিক্রি সহজ হবে। এখানে বিনামূল্যে গবাদি পশুর চিকিৎসা সেবা পেয়ে খামারিরা উপকৃত হচ্ছে। 

কেন্দ্র কমিটির সভাপতি মো. মানিক মিয়া জানান, এখানে ননিযুক্ত দুধ বিক্রি করে খামারিরা প্রতি সপ্তাহে এককালিন অর্থ পাবে। এখান থেকে ঋন সুবিধা পেয়ে খামারিরা উন্নত জাতের গরু কিনে দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারবে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাফউদ্দোউলা বলেন , দুগ্ধ শিতলীকরন কেন্দ্রটি চালূ করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ইতিমধ্যে ৪২ টি সমিতি গঠন করে খামারিদের দুধ ক্রয় করে বিভিন্ন উৎপাদন কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা রেখেছি। এখান থেকে খামারিরা উন্নতজাতের প্রজনন বীচ ও গবাদি পশুর রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিনেশন সুবিধা পাচ্ছে।

নি এম/রহিম 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71