মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯
মঙ্গলবার, ১০ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
ঝিনাইদহে ভূমিদস্যদের ভয়ে বাড়ি ছেড়েছে এক হিন্দু পরিবার!
প্রকাশ: ০৮:১৮ pm ১০-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ০৮:১৮ pm ১০-০৫-২০১৮
 
​​​​​​​ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
 
 
 
 


ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যদের ভয়ে বাড়ি ছেড়েছেন এক হিন্দু পরিবার। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের পল্লীতে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি পরিবারের ৪ সদ্যসের নিখোঁজ নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছেন। গত ৪ মে ২০১৮ তারিখ সন্ধ্যার পর থেকে তাদের আর পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ হওয়া এই পরিবার প্রধানের নাম সুকুমার বিশ্বাস। যিনি রাজবংশী সম্প্রদায়ের সদস্য।

নিখোঁজ হওয়া অন্য সদস্যরা হলেন সুকুমার বিশ্বাসের স্ত্রী রেনু রানী, পত্রবধু রিপা রানী ও পোতা ছেলে (দৌহিত্র) সনদ বিশ্বাস। গত ৩ মাস আগে নিখোঁজ সুকুমারের একমাত্র ছেলে স্বপন কুমার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

তবে তাদের পরিকল্পিতভাবে তুলে নিয়ে গেছে, না নিজে থেকে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে তা কেউ বলতে পারছে না। বাড়িতে গোয়ালে গরু বাধা রয়েছে, হাসমুরগী সবই আছে। ঘটনাটি জেলার কালীগঞ্জ উপজেলাধীন ২নং জামাল ইউনিয়নের পার-খালকূলা গ্রামের।

এই ঘটনার পর হিন্দুদের কয়েকটি সংগঠন নিখোঁজ পরিবারকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বা হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দাবি করলেও প্রতিবেশীদের দাবি তারা নিজ থেকে বাড়ি ছেড়েছে চলে গেছে। নিখোঁজের একদিন পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোদাচ্ছের হোসেন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

৯ মে বুধবার বিকালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এই নিখোঁজের সংবাদটি জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সুকুমার বিশ্বাসের পানের বরজসহ ৮ বিঘা সম্পত্তি এলাকার কতিপয় ভূমিদস্য নামে মাত্র মূল্যে ক্রয় দেখিয়ে আত্মসাৎ করার জন্য বিভিন্ন সময় তার উপর মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। ফলে তাদের এই নিখোঁজের পিছনে স্থানীয় এসব ভূমিদস্যদের যোগসূত্র থাকতে পারে। তারা নিখোঁজ পরিবারকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিজ বাড়িতে শান্তিতে বসবাসের ব্যবস্থা করার দাবি করেন। অন্যথায় সুকুমার বিশ্বাস ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধারে গনআন্দোলন গড়ে তোলারও হুমকি দেওয়া হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুনিল ঘোষ জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে জানতে পেরেছি স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যদের ভয়ে তিনি বাড়ি ছেড়েছেন।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, আমি ঘটনা জানার পর বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছি। পুলিশের বিশেষ একটি টিম সেখানে কাজ করছে। তাদের স্থানীয় কোন ব্যাক্তি বা গ্রুপ যদি নির্যাতন করে তাহলে পুলিশকে অবহিত করতে পারতো কিন্তু তা না করেনি। তবে কেউ যদি নিশ্চিত করে অভিযোগ জানায় তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবো বললেন এই পুলিশ কর্মকতা।

নি এম/
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71