শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম
প্রকাশ: ০২:০১ pm ০৩-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ০২:০১ pm ০৩-০৭-২০১৭
 
 
 


নোয়াখালী : মাত্র দুটি ভবনে চলে নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। সেই ভবন দুটিও এখন জরাজীর্ণ। পলেস্তারা খসে পড়ছে। কঙ্কালের মতো বেরিয়ে থাকা রডগুলোও গুঁড়ো গুঁড়ো হওয়ার দশা। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে কলেজটির কার্যক্রম। সব সময় আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে কলেজ কর্তৃপক্ষ একাধিকবার অবহিত করলেও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত নোয়াখালী মহিলা কলেজের ভবন দুটির একটি তিনতলা ও একটি চারতলাবিশিষ্ট। শিক্ষক, ল্যাবরেটরি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য আলাদা ভবন না থাকায় দুটিতেই সব কার্যক্রম চলছে যৌথভাবে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, কলেজটিতে বর্তমানে এইচএসসি, ডিগ্রি (পাস) ও তিনটি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু রয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ছাত্রীসংখ্যা সাড়ে তিন হাজার। শিক্ষক রয়েছেন ৩৭ জন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ৪৮ জন। কলেজের ভেতরে রয়েছে দুটি আবাসিক ভবন। সেখানে থাকেন ২৫০ ছাত্রী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাশাপাশি দুটি একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন। প্রবেশপথ পেরিয়ে ভবনের দিকে এগোতেই আঁতঙ্কে উঠতে হয়। ভবনের বাইরে পলেস্তারা এবং কোথাও ইট খসে পড়েছে। বেরিয়ে পড়েছে রডগুলো, সেগুলোও ঝুরঝুর করে ঝরে পড়ছে। একই অবস্থা শিক্ষক মিলনায়তন, ছাত্রী মিলনায়তন, একাডেমিক কক্ষ ও বিভিন্ন ল্যাবরেটরির। সবচেয়ে বাজে অবস্থা সিঁড়িগুলোর সবই ভাঙ্গাচোরা। প্রতিটি ভবনের জানালার কাচ ভাঙ্গা। একটি জানালারও পুরো কাচ নেই।

কয়েকজন প্রবীণ কর্মচারী জানান, ৪৬-৪৭ বছর বয়স হলো কলেজটির। নির্মাণের পর থেকে বড় ধরনের কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। গত কয়েক বছর বারবার বলার পর নামমাত্র কিছু কাজ হয়েছে। তিন-চার মাস আগে সংস্কারের কাজ করতে এসে ঠিকাদাররা ফিরে যান। কারণ অবস্থা এতই খারাপ যে, হাতুড়ি দিয়ে টোকা দিলেও খসে পড়ে চাপ চাপ পলেস্তারা।

তাছরিন নামে এক ছাত্রী বলেন, প্রায় সময়ই ওপর থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। তখন ছাত্রীরা ক্লাসে চিত্কার-চেঁচামেচি করতে থাকে। ভয়ের মধ্যে ক্লাস করতে হয় তাদের। তবে পলেস্তারা খসে পড়ে এখনো কেউ আহত হয়নি, কিন্তু হতে কতক্ষণ!

বিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে এমন আতঙ্কজনক পরিস্থিতির মধ্যে তারা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে পলেস্তারা খসে পড়া জায়গাগুলোয় আস্তর করানোর জন্য টেন্ডার দেয়া হয়। পরে ঠিকাদার কাজ করতে এসে এর ভয়াবহতা দেখে কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখেন। কয়েকদিন আগে থেকে আবার কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের মতে, এভাবে নামমাত্র সংস্কারে কিছুই হবে না। ভবনগুলোর কিছুই নেয়। ভেতরের রডগুলো পর্যন্ত মরিচা ধরে গুঁড়ো হয়ে গেছে।

সংস্কারকাজে অবহেলার দায় শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের ওপরই দিচ্ছেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আখতারী বেগম। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর অবস্থার অবনতি হয়েছে বেশি। শিক্ষা প্রকৌশলসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অসংখ্যবার লিখিতভাবে বলা হয়েছে। মাঝে মধ্যে কিছু মেরামত হয়। বর্তমানেও পলেস্তারা খসে পড়া স্থানগুলোয় সংস্কার করা হচ্ছে।

তবে লিখিতভাবে অবহিত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপঙ্কর খীসা। লিখিত না পেলে এখন সংস্কারের কাজ কীভাবে চলছে— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা বার্ষিক বরাদ্দের আওতায় কিছু কাজ, যা গুরুত্বের ভিত্তিতে করা হচ্ছে। তবে কলেজটি ঝুঁকিপূর্ণ কিনা, তা দেখবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এইবেলাডটকম / কনিকা

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71