বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
ঝুঁকিমুক্ত হতে নিরাপদ নৌ-যানের দাবী চরাঞ্চলবাসীর
প্রকাশ: ০৬:৪৫ pm ১৭-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:৫৯ am ১৮-০৭-২০১৭
 
সৈকত, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
 
 
 
 


শরীয়তপুর জেলার মূল ভূখন্ড থেকে পুরো বিচ্ছিন্ন ৪টি ইউনিয়ন। এছাড়াও আংশিক ৬টি ইউনিয়নের ৩৮টি চরের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল পদ্মা-মেঘনা পাড়ি দিয়ে নিত্যদিনের প্রয়োজনে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় যাতায়াত করছে। প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা এসব চরাঞ্চলবাসী প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পরে প্রাণহাণীর মত বড় ঘটনাও ঘটে। চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে সরকারি কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন নিরাপদ নৌ-যান চালুর দাবি জানিয়ে আসলেও তা কার্যকর হচ্ছে না বলে জানা যায়।  

জেলা সদর, জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট  উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পদ্মা-মেঘনা নদীর উপকূলে। জেলা সদর ছারা অপর ৪ উপজেলায় প্রায় ৩৮টি চরাঞ্চল রয়েছে। এসব এলাকার মানুষ দৈনন্দিন কাজে ও চিকিৎসার জন্য জেলা ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করে থাকে। তবে যোগাযোগের জন্য একমাত্র বাহন হচ্ছে ইঞ্জিন চালিত নৌকা (ট্রলার)। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশু, নারী ও পুরুষ সকলেই ট্রলারে করে নিয়মিত জেলা ও উপজেলা সদরে আসেন। 

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, জেলার মেঘনা নদীর সীমানা ৪২৮ দশমিক ১১ কিলোমিটার। এর মধ্যে পদ্মা-মেঘনা ও কীর্তিনাশা এই তিন নদীর সংঘমস্থল ওয়াপদা, সুরেশ্বর, মাঝিরঘাট, দুলারচর, গৌরাঙ্গবাজার, তারাবুনিয়া ষ্টেশনবাজার, নরসিংহপুর, কোদালপুর স্টেশন, পট্রিবন্দর ও আবুপুরা ঘাট। এ নদীগুলোর মধ্যে পদ্মার কুন্ডেরচর ও সুরেশ্বর পয়েন্টে তিন দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে মিশে যাওয়ায় এখানে সর্বক্ষন পানির এক বিশাল ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়। এতে এলাকাটিতে নৌযান চলাচলের জন্য ঝুঁকি হয়। বর্ষা মৌসুমে মোহনার মাঝখানে কয়েক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে গোল বৃত্তের আকারে খুঁটি পুতে দেওয়া হয়। এখান দিয়েই প্রতিদিন নূন্যতম ১ থেকে ৩ ঘন্টা নদীপথ চরাঞ্চলের বহু ট্রলার যাত্রী নিয়ে পদ্মা-মেঘনা পাড়ি দেয়।

গত ৮ জুলাই দুপুরে জাজিরার কুন্ডেরচর পদ্মা নদীর মোহনায় গিয়ে দেখা যায়, বর্ষার শুরুতেই নদীর স্রোত ও ঢেউ অনেক বেড়েছে। আর এরই মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে মাল ও যাত্রী বোঝাই করে ট্রলারগুলো তাদের গন্তব্যে ছুটছে। 

ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের চরজিংকিং এলাকার কাউসার মোল্যা জানান, প্রতিদিন চরাঞ্চল থেকে কাঁচা তরকারি, কৃষিপন্য ও প্রচুর পরিমানে দুধ শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। ঝুঁকি নিয়েই তাদের যাতায়াত করতে হয়। সবচাইতে সমস্যা হয় মুমুর্ষ্য রোগী ও গর্ভবতী মায়েদের জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে।

নওপাড়া ইউনিয়নের আবুল কাশেম খান জানান, বর্ষাকাল ছাড়াও সব মৌসুমেই চরাঞ্চলের মানুষ ট্রলারে করে যাতায়াত করেন। ঝুঁকিপূর্ণ হলেও কিছু করার থাকে না। কারণ অন্যকোন বাহন নেই উপজেলা ও জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ করার জন্য। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া দেখা দিলেও অনেক সময় যাত্রী ও মলামালসহ ট্রলারগুলো ডুবে যায়। এ পর্যন্ত অনেক যাত্রী প্রাণ হারিয়েছে। ব্যবসায়ীরাও হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ।
 
কাঁচিকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম দেওয়ান বলেন, আমাদের ভাগ্যের বিড়ম্বনা যে আমরা শরীয়তপুর জেলা অধিবাসী হয়েও মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। পাশের জেলা চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জ যত সহজে যাতায়াত করতে পারি তার চেয়ে অনেক বেশী কষ্টকর আমাদের উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করা। তবে আমরা প্রশাসনের কাছে বার বারই চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য সরকারি কিংবা ব্যক্তি মালিকানায় নিরাপদ নৌ-যানের ব্যবস্থা করার দাবী জানিয়ে আসছি।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71