বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫
 
 
টার্গেট সুলতানা কামাল, দায় আপনারও!
প্রকাশ: ০৪:১২ pm ০৪-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৪:১২ pm ০৪-০৬-২০১৭
 
 
 


গোলাম মোর্তোজা ||

আজকের লেখার বিষয় ‘আপনি-আপনারা’ যারা প্রগতিশীল, ভাস্কর্য থেমেসিস বা হেফাজতে ইসলাম নয়। মানে যারা মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলেন তারা। আজকে আপনারা অনেকে হা-হুতাশ করছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গেলো, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক হয়ে গেলো। আপনাদের হা-হুতাশটা অসত্য নয়। কিন্তু বাংলাদেশের এই সাম্প্রদায়িক চরিত্রে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার দায় সবচেয়ে বেশি, হেফাজত বা সাম্প্রদায়িক পক্ষগুলোর চেয়েও। অবাক হচ্ছেন? ব্যাখ্যা করে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করি। সেই বিশ্লেষণের গভীরে যাওয়ার আগে থেমেসিস ইস্যুতে সুলতানা কামালকে কেন্দ্র করে বিতর্ক, সেদিকে একটু দৃষ্টি দিতে চাই। সূক্ষ্মভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার অনুরোধ করি, ধর্মীয় উন্মাদনা কখন, কিভাবে তৈরি করা হয় সে বিষয়ে। অতীতের কিছু বিষয় বিবেচনায় রেখে এখনকার বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করে দেখেন। সেখানে আপনার ভূমিকা কী ছিল, মুখে স্বীকার না করলেও অন্তত নির্মোহভাবে ভেবে দেখেন। প্রথমে আসি ধর্মীয় উন্মাদনার তৈরির কৌশল বিষয়ে।
১.
বাংলাদেশে কেউ যদি বলেন ‘মূর্তি না থাকলে মসজিদও থাকবে না’- জনমত পুরোপুরিভাবে তার বিপক্ষে চলে যাবে। প্রচারণা চালানো হচ্ছে, সুলতানা কামাল এ কথা বলেছেন। সুলতানা কামালের ঘনিষ্ঠ লোকজনও আস্তে আস্তে বলছেন, ‘না, উনি এটা ঠিক বলেন নাই’। কিছুক্ষণ আগেও একজন এমন কথা বললেন।
আপনি কি সুলতানা কামালের বক্তব্য শুনেছেন?
‘না, শুনিনি।’

প্রচারণা যা চালানো হচ্ছে, তা বিশ্বাস করে তিনি মন্তব্য করছেন। তিনি একা নন, প্রায় সবাই এমন করছেন।

সুলতানা কামালের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের নেতা মুফতি শাখাওয়াত হোসেন যে তর্কটি হয়েছিল, তা ছিল এমন- সুলতানা কামাল আলোচনার একপর্যায়ে বলেছেন, ‘যদি মূর্তি হয়ও সেটা সেখানে থাকলে সমস্যা কী? মুসলমানরা সেটা পূজা না করলেই হলো।’

এর উত্তরে মুফতি শাখাওয়াত বলেন, ‘অসুবিধা আছে। এটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা... মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতামুক্ত।... এই মূর্তিটা একটা সম্প্রদায়ের। আদালত প্রাঙ্গণের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কোনও সম্প্রদায়ের প্রতীক থাকতে পারে না, যদি সেটা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী হয়।’

লক্ষ্য করুন, মুফতি শাখাওয়াত বলছেন, ‘কোনও সম্প্রদায়ের প্রতীক’ থাকতে পারে না। এই কথার প্রেক্ষিতে সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘মসজিদ আছে কেন, ঈদগা আছে কেন? সেখানে যদি মসজিদ থাকতে পারে, মন্দির থাকতে পারবে না কেন?’ এর উত্তরে মুফতি শাখাওয়াত বলেছেন, ‘অবশ্যই থাকবে। মুসলমানরা মসজিদে গিয়ে... হিন্দুরা তাদের মতো করে পূজা করবে।’

সুলতানা কামাল বলেন নাই ‘মূর্তি না থাকলে মসজিদও থাকবে না’। অথচ সুলতানা কামাল এটা বলেছেন বলে প্রচার প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। যেহেতু মুফতি শাখাওয়াত বলেছেন ‘কোনও সম্প্রদায়ের প্রতীক থাকতে পারে না’- এর প্রেক্ষিতে তর্কের প্রসঙ্গে সুলতানা কামাল বুঝিয়েছেন, এখানে মুসলমানদের মসজিদ আছে, ঈদগা আছে, মন্দির থাকতে পারবে না কেন? কোনও সম্প্রদায়ের কিছু যদি না থাকে তবে তো মসজিদও থাকার কথা না, ঈদগা থাকার কথা না...। ‘কোনও সম্প্রদায়ের কিছু থাকবে না’- এই তর্ক প্রসঙ্গে মসজিদের প্রসঙ্গ এনেছেন সুলতানা কামাল।

সুলতানা কামালের বক্তব্যকে কিঞ্চিত বিকৃত করে রূপ দেওয়া হয়েছে ‘মূর্তি না থাকলে মসজিদও থাকবে না।’

অতীতের ধর্মীয় উন্মাদনাগুলোর দিকে লক্ষ্য করে দেখেন, এভাবেই তা সাজানো হয়েছিল। এবং শক্তিশালী একটি চক্র পুরো বিষয়টি সাজিয়ে-গুছিয়ে সামনে নিয়ে আসে। কখনও ব্যবহৃত হয় ইসলামী ঐক্য জোট, কখনও হিজবুত তাহরির, কখনও হেফাজতে ইসলাম। শক্তিশালী এই চক্রটি সরকারের ভেতরেরই একটি অংশ। এদের ওপর সরকারগুলোর নির্ভরশীলতা দিন দিন শুধু বাড়ছে।

রামপাল ইস্যুতে সুলতানা কামালের শক্ত অবস্থানের কারণে সরকারসহ আরও অনেকে তার ওপর ক্ষিপ্ত। তাকে শায়েস্তা করার সুযোগ খোঁজা হচ্ছিল, এবং পাওয়া গেছে। সুলতানা কামালকে টার্গেট করায় আওয়ামী লীগের তথা সরকারের অনেকে আবার উল্লসিত। চায়না পাটেয়ারী থেকে খুশি কবির... সবাইকে আওয়ামী লীগ- হেফাজত উভয়েই টার্গেট করছে। সরকার মাওলানা শফীর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ভূমিকা তদন্ত করছে না। উল্টো সুযোগ- সুবিধা দিচ্ছে, পৃষ্টপোষকতা করছে। আপনারা জোরালো কোনও অবস্থান নিচ্ছেন না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে একমত হয়ে ফিরে আসছেন। সরকারকে সমর্থন করতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের দায় নিয়ে নিচ্ছেন।

একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, আগরতলার বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালের যোদ্ধা, যুদ্ধে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবাদানকারী সুলতানা কামালকে আজ শেখানো হচ্ছে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’। শেখাচ্ছে একাত্তরের বাংলাদেশ বিরোধী মাওলানা শফী ও তার অনুসারীরা। সরকার যাদের ওপর নির্ভরশীল সেই অদৃশ্য শক্তি নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে।

থেমেসিস ইস্যুতে ‘ভাস্কর্য না মূর্তি’ বিতর্কটি আনা এবং করাটাই অপ্রসাঙ্গিক ছিল। প্রসঙ্গটি যখন আনা হয়েছেই, তখন যুক্তি দিয়ে তা প্রতিষ্ঠিত করা প্রয়োজন ছিল। সেদিনের টকশোতে যুক্তি দিয়ে বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। এমন কী মুফতি শাখাওয়াত যখন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রুবাইয়াত ফেরদৌসকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আপনিই বলেন ভাস্কর্য আর মূর্তি কী?’

এই প্রশ্নে রুবাইয়াত ফেরদৌস কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকেন। কোনও কথা বলেননি। থেমেসিস যে গ্রিক মিথলজির চরিত্র, ন্যায় বিচারের চরিত্র, ধর্মীয় দেবতা নন তা অন্য দুই আলোচক সুলতানা কামাল, ইমরান এইচ সরকারও জোর দিয়ে বলেননি। ফলে এই আলোচনা থেকে মুফতি শাখাওয়াতরাই লাভবান হয়েছেন। মানুষকে তারা বিভ্রান্ত করতে পেরেছেন।

২.

হেফাজতের দাবি মেনে ভাস্কর্য সরানো হয়েছে। হেফাজত এখন মুক্তিযোদ্ধা সুলতানা কামালকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে বলছে, দেশ ছাড়া করতে বলছে। আপনারা যারা মুক্তিযোদ্ধা, যারা সাংস্কৃতিক নেতাকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, তারা কী করছেন? হেফাজত ইসলাম যখন থেকে থেমেসিস নিয়ে মাঠ গরম করতে শুরু করলো, তখন আপনারা কী করলেন?

আপনারা কেউ বিবৃতি দিলেন ‘সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে পরাজয়’ বললেন। আরও অনেকে কিছু বললেন, কিছু লিখলেন। সুবিধাবাদের কথা বলতে যা বোঝায় তাই করলেন। ঘটনা যা দেখলেন, যা বুঝলেন- তার কিছুই বলবেন না। প্রধানমন্ত্রী যদি হেফাজতের সঙ্গে মিটিং করে, তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস না দিতেন, তবে যা ঘটছে তার কিছুই ঘটত না। হেফাজত হয়তো আন্দোলন করতো, তা মোকাবিলা করা কঠিন ছিল না। পুরো কাজটি করলেন প্রধানমন্ত্রী। আপনারা কথা বললেন, বিবৃতি দিলেন বায়বীয়ভাবে। সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারলেন না, প্রধানমন্ত্রী আপনি যা করছেন তা করবেন না। তাহলে আমরা আপনার সঙ্গে থাকবো না। এ কথা বলার নৈতিক সাহস আপনারা হারিয়ে ফেলেছেন।

হারিয়েছেন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর। মানুষ ভোট দেয়নি, ৫%-এর বেশি ভোটার ভোট কেন্দ্রে যায়নি, নির্বাচন কমিশন ৪০% ভোট দেখিয়েছে। আপনারা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, নির্বাচন ভালো হয়েছে। যা দেখেননি, যা বিশ্বাস করেন না- তা বলেছেন। মানুষ দেখেছেন আপনারা অসত্য বলছেন।

বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় চলে আসবে, এই আশঙ্কা থেকে এটা করেছেন। হ্যাঁ, আপনাদের আশঙ্কার কারণটা বুঝতে পারি। যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন হতো না। যদিও ইচ্ছে করলে আওয়ামী লীগ প্রথম মেয়াদেই যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রায় সম্পন্ন করে ফেলতে পারতো। কৌশলে করেনি। আপনারা চাপ দেননি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলে, বিএনপি-জামায়াত সবকিছু সম্পূর্ণ উল্টে দিত, এই ভাবনা পুরোপুরি সঠিক নয়। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকলে, তা এত সহজ ছিল না। আপনারা জনগণকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার নীতির সমর্থক হয়ে গেলেন। এতে আওয়ামী লীগ পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো। আপনারা ইমেজ হারালেন। সত্য পরিত্যাগ করে, আপনারা অসত্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা রাখলেন না। ক্ষতি শুধু আপনাদের হলো না, ক্ষতি হলো পুরো দেশের। বিরোধী দলে ৫ বছর থাকলে, আবার নির্বাচিত হয়ে নিশ্চয়ই ক্ষমতায় আসত আওয়ামী লীগ। এখন বাড়তি ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে, জনপ্রিয়তা হারিয়ে প্রশাসন নির্ভর হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করার সৎ সাহস নেই।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ চাইতেই পারে, তার আজীবন ক্ষমতায় থাকতে হবে। আপনারা কেন সেই পথে হাঁটবেন? অনৈতিক পথে, জনগণ না চাইলেও কেন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থাকতেই হবে? কেন আপনারা মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তমনের মানুষ হয়ে এমন নীতির পক্ষে অবস্থান নেবেন?

৩.

আপনারা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন। আপনাদের বলা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মানুষ খুঁজে পায় না। আপনাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দেখা যায় না। আপনাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বায়বীয়। অথচ আপনারা প্রায় সবাই মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরে আপনারা যুদ্ধ করেছিলেন বলে আজকের বাংলাদেশ। আমরা সেই বাংলাদেশের সাংবাদিক। কথা বলছি, লিখছি। আপনারা সরাসরি যুদ্ধ করে যে চেতনা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, পাশ কাটিয়ে মিন মিন করে তা হারিয়ে ফেলছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তো সত্য বলা, আপনারা তা বলছেন না। অন্যায়-অনিয়ম-দুর্নীতি সুনির্দিষ্ট করে আপনারা দেখছেন, জানছেন, বুঝছেন। অধিকাংশ সময় কিছু বলছেন না, কখনও বলছেন বায়বীয়ভাবে। কখনও কখনও এমন কথা বলছেন, যা দিয়ে জনগণ দেখছে আপনারা অন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মানুষ আপনাদের এই কৌশল দেখে হাসছে, কখনও ধিক্কার দিচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িরা নির্যাতিত হয়, যেভাবে আপনারা ১৯৭১ সালে হয়েছিলেন। আপনাদের হৃদয়ে নাড়া দেয় না। আপনাদের বিবেক জেগে ওঠে না। ‘নেড়ী কুত্তার মতো পেটাতে’ চাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়, আপনারা প্রতিবাদ করার সাহস রাখেন না। প্রধানমন্ত্রী একজন রাজনীতিবিদ। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীরা কেন স্লোগান দিতে পারবেন না- এই প্রশ্ন করার নৈতিকতা আপনারা হারিয়ে ফেলেছেন। আইন প্রণেতা সাধারণ নারীর চরিত্রহনন করেন ফেসবুকের পাতায়, আপনারা দেখেও না দেখার ভান করেন। বিএনপি-জামায়াত - হেফাজত গণজাগরণ মঞ্চকে 'শাহবাগীরা' বলে তাচ্ছিল্য করতো,  এখানে শুধু গাঁজা সেবন হয় - প্রপাগান্ডা চালাত। এখন জামায়াত- হেফাজতের সেই ভাষায় প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। কমপক্ষে একজন সংসদ সদস্য, হ্যাঁ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এই প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন। আর প্রগতিশীল দাবিদার আপনারা নিরব।

গত ছয়-সাত বছরে জঙ্গিবাদের যে বিস্তার, জঙ্গি কার্ড ব্যবহার করে ক্ষমতায় থাকার যে কৌশল, আপনারা সবই জানতেন- কিছু বলেননি। বুমেরাং হয়ে শুধু সরকারের নয়, আপনাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ ফিরে এসেছে। আপনারা প্রতিবাদ করলে, সত্য বললে এমনটা হতো না।

ঠিক জঙ্গিবাদের মতোই, হেফাজত নিয়েও আপনারা একই কাজ করছেন। কে হেফাজতকে নিয়ে খেলছে, সুনির্দিষ্ট করে বলছেন না, যেভাবে বলেননি জঙ্গি নিয়ে। জঙ্গিবাদ সৃষ্টি যেভাবে আপনাদের বিরুদ্ধে গেছে, হেফাজত পৃষ্ঠপোষকতাও আপনাদের বিরুদ্ধে যাবে। শুধু সলতানা কামাল হেফাজতের টার্গেট হবেন না। আপনি, আপনারা সবাই টার্গেট হবেন। ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারকে বিব্রত করা যাবে না’- এই ভুল নীতিতে নিজেরা নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেন। আওয়ামী লীগকে তো বটেই পুরো দেশকে বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছেন।

আজকের বাংলাদেশের কপালে সাম্প্রদায়িকতা নামক কলঙ্কের যে কালো তিলক, তার দায় প্রগতিশীল দাবিদার আপনারও। আজকের বাংলাদেশে যে অনৈতিকতা, তার দায় আপনাদেরও। মানুষ গুম হয়ে যায়, আপনারা কথা বলেন না। আপনারা কথা বলেন না, লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলেও। রাজনীতিবিদদের অনিয়ম-দুর্নীতি, অনৈতিকতা, অসত্য বলা মানুষ সব সময় মনে রাখেন না। ধরেই নেন যে রাজনীতিবিদরা এসব করেন। আপনাদের বিষয় একটু আলাদা। স্বার্থের কাছে, সুবিধাবাদের কাছে, তা ভুলে গেছেন। জনগণ ভুলছে না, ভুলবে না। আপনি-আপনারা অসত্য-অনৈতিকতা সমর্থন করে, নিরব থেকে, সরকারকে সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠতে সহায়তা করেছেন, উৎসাহিত করেছেন। আপনাদের অসততা মানুষ কখনও ভুলবে না, ক্ষমাও করবে না। আপনাদের আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো কঠিন। বাকি জীবন হয়তো মাথা নিচু করে দায় নিয়েই কাটাতে হবে।

লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71