বুধবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৯
বুধবার, ১০ই মাঘ ১৪২৫
 
 
৬ হাজার গ্রাহকের তথ্য গোপন
ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
প্রকাশ: ০৫:৩৮ pm ২৫-১১-২০১৭ হালনাগাদ: ০৫:৩৮ pm ২৫-১১-২০১৭
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স অনিয়ম লুকোতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে ছয় হাজার গ্রাহকের তথ্য গোপন করেছে। অসহায় দরিদ্র গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থ কী কাজে বা কোন খাতে ব্যবহার হয়েছে, সে বিষয়েও কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। 

কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পলিসি নিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) ভুল তথ্য দিয়ে আসছে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ। কোম্পানির প্রকৃত ব্যবসায়িক চিত্রের সঙ্গে আইডিআরএর কাছে দেয়া তথ্যের কোনো মিল নেই। এখন পর্যন্ত বিষয়টি নজরে না পড়ায় বীমা কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আইনি কোনো পদক্ষেপও নেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আইডিআরএতে জমা দেয়া প্রতিবেদনে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ২০১৪ সালের শেষদিনে সচল ও পরিশোধিত পলিসির সংখ্যা দেখিয়েছে ১ হাজার ১৭টি। অন্যদিকে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ হিসাবে দেখা যায়, ২০১৪ সালের শেষদিনের সচল ও পরিশোধিত পলিসির প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১৭টি। ২০১৬ সালের হিসাবে বীমা কোম্পানিটি আইডিআরএকে ২০১৫ সালের শেষদিনের সচল ও পরিশোধিত পলিসির সংখ্যা দেখিয়েছে ৩ হাজার ৭৫৮টি। অন্যদিকে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, এ সময় এ ধরনের পলিসির প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৭৫৭টি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের এএমডি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, আগের বছরের ঝরে যাওয়া পলিসির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। আইডিআরএকে আমরা বিষয়টি জানাব। এক্ষেত্রে আইনের লঙ্ঘন হয়েছে বলে মনে করি না।

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আগেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়ার পরের বছরই সাতক্ষীরা জেলার পলাশপোলে হাসিনা ভিলার দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে অফিস খোলে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। জেলার বিভিন্ন এলাকায় আরো ছয়টি অফিস খোলে প্রতিষ্ঠানটি। এসব অফিসে চাকরির নামে জনপ্রতি ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানত নেয়া হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। বর্তমানে জেলার অধিকাংশ অফিসই বন্ধ। অথবা অফিস থাকলেও কার্যক্রম নেই। এ অঞ্চলের গ্রাহকরাও কোম্পানি সংশ্লিষ্ট কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না। শুধু সাতক্ষীরা নয়, টাঙ্গাইলেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একই অভিযোগ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) চেয়ারম্যান শেখ কবীর হোসেন বলেন, গ্রাহকের তথ্য গোপন করা বড় ধরনের প্রতারণা। যেসব কোম্পানি প্রতারণায় জড়িয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে না পারলে আমাদের বীমা খাত কোনোদিনই শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে না।


আরপি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71