বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
তরুণীকে ৭ টুকরা করে হত্যা : প্রধান আসামি ক্রসফায়ারে নিহত
প্রকাশ: ০২:৫৮ am ২৩-০৩-২০১৫ হালনাগাদ: ০২:৫৮ am ২৩-০৩-২০১৫
 
 
 


রাজধানীর শাহজাহানপুর থানার টিটিপাড়ায় রোববার ভোররাতে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মোবারক উল্লাহ ওরফে মন্টি নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি বহুল আলোচিত ফকিরাপুলের সুমী ওরফে শিমু হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি। ৯ মার্চ রাতে মন্টির নেতৃত্বে মাদক সেবন, গণধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার পর সুমীর লাশ সাত টুকরা করে আশপাশের বিভিন্ন বাড়ির ছাদে ফেলে দেয়া হয়। হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছিল মন্টির বাড়ি ১৯৩/১, ফকিরাপুলের রোকেয়া আহছান মঞ্জিলে। অভিযোগ রয়েছে, সুমীকে হত্যার পর মন্টি পেট্রল ঢেলে তার মুখ আগুনে পুড়িয়ে দেয়। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকাল সাড়ে ৫টায় মন্টির লাশ গ্রহণ করেন স্ত্রী ফারজানা। তার দাবি ১০ মার্চ ওই লাশ উদ্ধারের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন মন্টি। র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার গোলাম সারওয়ার  জানান, রাত আড়াইটার দিকে টিটিপাড়া বস্তি এলাকায় র‌্যাব-৩ এর একটি দল তল্লাশি শুরু করে। ভোররাত ৩টা নাগাদ মন্টির আস্তানা ঘেরাও করলে একদল দুর্বৃত্ত র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি করে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। ৪টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, দুটি গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
মন্টির শ্যালক সাবিরুল ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, শুনেছি মন্টি তার বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া সুমী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। ঘটনার পর থেকে ১২ দিন ধরে (১০ মার্চ) নিখোঁজ ছিলেন মন্টি। তিনি আরও বলেন, মন্টি অপরাধী হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে আইনের হাতে সোপর্দ করতে পারত। মন্টির স্ত্রী ফারজানা বলেন, এ বিষয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই। তিনি নিজের ও তিন সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে এখন শংকিত।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মন্টির পুরো নাম আলহাজ মোবারক উল্লাহ মন্টি, বাবার নাম হাজী ওয়াহী উল্লাহ। বাসা ১৯৩/১, ফকিরাপুলে। তার শরীরে ১৫টি গুলির চিহ্ন ছিল।
জানা গেছে, মন্টি পেশাদার মাদকসেবী। নিহত সুমীর স্বামী মাদক ব্যবসায়ী নাসিরের কিছু টাকা-পয়সা পাওনা ছিল মন্টির কাছে। নাসিরের জামিন করানোর জন্য সুমী পাওনা টাকা দাবি করে। ৯ মার্চ সন্ধ্যা সাতটার দিকে মন্টি তার ফকিরাপুলের বাসায় ডেকে নেয় সুমীকে। সেখানে মন্টি, তার বন্ধু সাইদুল, জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল ওরফে বাংলা সোহেল ও সুজনসহ কয়েকজন মধ্যরাত পর্যন্ত মাদক সেবন করে। এক পর্যায়ে উপস্থিত মন্টি, সুজন, সাইদুল, বাংলা সোহেলসহ অপর যুবকরা সুমীকে বাসার ছাদে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। বাংলা সোহেল ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমীর গলা কাটে এবং অন্যরা হাত-পা ধরে রাখে। সোহেল ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমীর গলা মাথা থেকে আলাদা করে ফেলে। মন্টি পেট্রল বা তেলজাতীয় কোনো বস্তু এনে সুমীর মুখে ছিটিয়ে দেয়। এরপর ম্যাচ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খুনিরা লাশ ধামাচাপা দিতে টুকরা টুকরা করে আশপাশের বিভিন্ন ভবনের ছাদে ফেলে দেয়। ভোর হওয়ার আগেই বাসার সিঁড়ি, ছাদসহ যেখানে রক্ত পড়েছে সেগুলো ধুয়েমুছে পরিষ্কার করে ফেলে। বাংলা সোহেলকে শনিবার সকালে র‌্যাব আটক করে। মামলার অপর ৪ আসামি ডিবির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। নিহত সুমীর গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর পবা থানার গোবিন্দপুর গ্রামে। সুমীর বাবার নাম আবদুল মান্নান। সুমীর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা থাকেন। দেড় বছর আগে সুমী প্রেম করে সিলেটের বাসিন্দা নাসিরকে বিয়ে করে। স্বামীর সঙ্গে সে ২৪৭, ফকিরাপুলে ভাড়া থাকত।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71