রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৮ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
তারুণ্যের কণ্ঠস্বর সঞ্জীব চৌধুরীর জন্মদিন আজ
প্রকাশ: ০১:০৯ pm ২৫-১২-২০১৬ হালনাগাদ: ০১:০৯ pm ২৫-১২-২০১৬
 
 
 


জীবনী ডেস্ক ::  বুক জুড়ে এই বেজান শহর/ হা হা শূন্য আকাশ কাঁপাও/ আকাশ ঘিরে শঙ্খচিলের শরীর চেরা কান্না থামাও/ সমুদ্র কী তোমার ছেলে/ আদর দিয়ে চোখে মাখাও’, 'হাতের ওপর হাতের পরশ রবে না/ আমার বন্ধু, আমার বন্ধু হবে না, হবে না', 'আমি তোমাকেই বলে দেব/ কত একা দীর্ঘ রাত/ আমি হেঁটে গেছি বিরান পথে', ‘কথা বলবো না/ আগের মতো কিছু নেই/ ঘরে ফিরবো না/ ঘরে ফেরার কিছু নেই’- এমন অসংখ্য গানের শিল্পী তারুণ্যের কণ্ঠস্বর সঞ্জীব চৌধুরীর জন্মদিন আজ (২৫ ডিসেম্বর)।

সঞ্জীব চৌধুরী ২৫ ডিসেম্বর ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। এরপর ঢাকার বকশী বাজার নবকুমার ইন্সটিটিউটে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হন। এখান থেকে ১৯৭৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১২তম স্থান অর্জন করেন।

১৯৮০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও মেধা তালিকায় স্থান করে নেন তিনি। তার বাবা ননী গোপাল চৌধুরী এবং মা প্রভাষিণী দেবী।

সঞ্জীব চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনের সময় তার লেখা প্রতিবাদী কবিতা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবেও তার নাম ছড়িয়ে পড়ে।

শিল্পী ও গীতিকবি হিসেবে তরুণ প্রজন্মের জন্য আদর্শ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সাংবাদিকতায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিলেন সঞ্জীব চৌধুরী। মূলত তার হাত ধরেই দৈনিক পত্রিকায় ফিচার বিভাগ নিয়মিতভাবে চালু হয়। জীবদ্দশায় দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক আজকের কাগজ ও দৈনিক যায়যায়দিনে কর্মরত ছিলেন।

১৯৯০ সালে বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে মিলে সঞ্জীব চৌধুরী গঠন করেন ব্যান্ড দলছুট। ১৯৯৬ সালে এ ব্যান্ড তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘আহ’ প্রকাশ করে বেশ প্রশংসিত হয়। এরপর তাদের ‘হৃদয়পুর’, ‘আকাশচুরি, এবং জোছনাবিহার’ অ্যালবাম থেকে একাধিক গান জনপ্রিয়তা পায়।

সঞ্জীব চৌধুরীর ক্যারিয়ারের একমাত্র একক অ্যালবাম ছিল ‘স্বপ্নবাজী। এসব অ্যালবামে সঞ্জীব-বাপ্পার গাওয়া ‘গাড়ি চলে না’, ‘বায়স্কোপ’ এবং সঞ্জীবের কণ্ঠে ‘আমি তোমাকেই বলে দেবো’, ‘আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ’, ‘চোখটা এত পোড়ায় কেন’-সহ একাধিক গান শ্রোতাপ্রিয়তা পায়।

২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর হঠাৎ অসুস্থ অবস্থায় এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এ গুণী ব্যক্তিত্ব। তার সৃষ্ট অজস্র গান এখনও নবীনদের অনুপ্রেরণা বলে মনে করেন এ প্রজন্মের অনেক সংগীতশিল্পী।

ধারাবাহিকসহ বেশ কয়েকটি নাটকেও তিনি অভিনয় করেছেন। লিখেছেন অনেক গল্প ও কবিতা। তার সুর ও গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে আছে ‘বায়স্কোপ’, ‘আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ’, ‘আমি তোমাকে বলে দিব’, ‘সাদা ময়লা রঙ্গিলা পালে আউলা বাতাস’, ‘চোখ’, ‘তখন ছিল ভীষণ অন্ধকার’, ‘আহ ইয়াসমিন’, ‘রিকশা’, ‘কথা বলব না’।

তার গাওয়া বাউল শাহ আবদুল করিমের লেখা ‘গাড়ি চলে না’ এবং ‘কোন মেস্তরি বানাইয়াছে নাও’ গান দুটিও বেশ প্রশংসিত।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71