বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৩০শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
তিন সিটি নির্বাচন ৩০ জুলাই
প্রকাশ: ১০:০৮ am ৩০-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:০৮ am ৩০-০৫-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আগামী ৩০ জুলাই ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ১৩ থেকে ২৮ জুন, বাছাই ১ ও ২ জুলাই, আপিল ৩ থেকে ৫ জুলাই, আপিলের নিষ্পত্তি ৬ থেকে ৮ জুলাই, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ৯ জুলাই এবং প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ১০ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সভা শেষে  প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা নির্বাচন ভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই নির্বাচনী সময়সূচি বা তফসিলের কথা জানান। আগামী ১৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করে ওই দিন থেকেই তা কার্যকর করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

সিইসি জানান, এই তিন সিটি নির্বাচনের আগে আগামী ২৫ জুলাই পাঁচটি পৌরসভা, পাঁচটি উপজেলা পরিষদ ও কিছুসংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা এ ধরনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণাকে ব্যতিক্রমী বলে  জানিয়েছেন। সাধারণত নির্বাচন কমিশন যেদিন তফসিল ঘোষণা করে সেদিন থেকেই তা কার্যকর হয়। ওই ঘোষণার দিন থেকেই নির্বাচনপূর্ব সময় শুরু হয়। নির্বাচনপূর্ব সময়ে নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারও প্রতিষ্ঠা হয়। তফসিল ঘোষণার ১৫ দিন পর তা কার্যকর হওয়ার ঘটনা আগে ঘটেনি। এর আগে কাজী রকিবের কমিশন কয়েকটি নির্বাচনে আগে থেকে ভোট গ্রহণের তারিখ জানিয়ে দিয়ে পরে বিস্তারিত তফসিল ঘোষণা করেছিল।

সিইসি বলেছেন, ‘আগামী ১৩ জুন থেকে প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।’ ঢাকা ও গাজীপুর সিটির মতো এই তিন সিটিতে কোনো আইনি জটিলতা আছে কি না—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পেয়েছি। তিন সিটিতে সীমানাসংক্রান্ত আইনগত কোনো জটিলতা নেই।’

মঙ্গলবার এই প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় খুলনা সিটিতে রিটার্নিং অফিসারের ওপরে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে  রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রিটার্নিং অফিসারের ওপরে কোনো কর্মকর্তাকে পাঠাইনি। নির্বাচন মনিটর করতে বিশালসংখ্যক কর্মকর্তাকে (২২ জন) পাঠিয়েছিলাম। একজনকে প্রধান করা হয়েছিল। এ কাজ রংপুরেও করা হয়েছিল।’

খুলনার নির্বাচন বিষয়ে সিইসি বলেন, ওই নির্বাচন নিয়ে কমিশন সন্তুষ্ট। কোথাও কোথাও কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে। এর জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সরেজমিনে তদন্ত করেছে। ভুলত্রুটি পাওয়া গেলে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় এমপিরা প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাবেন না। আগামী ১৩ জুনের আগে যদি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা সংশোধন সম্পন্ন না হয় তাহলে অন্য সংসদ সদস্যরাও এই তিন সিটিতে দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাবেন না।

এদিকে মেয়াদ অনুসারে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময় হচ্ছে গত ১১ এপ্রিল থেকে আগামী ৮ অক্টোবর, রাজশাহী সিটির নির্বাচনের সময় গত ৯ এপ্রিল থেকে আগামী ৫ অক্টোবর এবং বরিশাল সিটির নির্বাচনের সময় গত ২৭ এপ্রিল থেকে আগামী ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত। খুলনাসহ এসব  সিটির নির্বাচন ২০১৩ সালের ১৫ জুন একই দিনে অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচিতদের প্রথম সভা হয় বিভিন্ন দিনে। প্রথম সভা থেকেই নির্বাচিতদের পাঁচ বছরের মেয়াদ গণনা  শুরু হয়।

এর আগে ২০১৩ সালের ১৫ জুন খুলনার সঙ্গে এই তিন সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে খুলনার মতোই এ তিন সিটিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হন।

তিন সিটির নির্বাচনের উদ্যোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মুহম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘ঢাকা ও সিলেট সিটি করপোরেশনে আমাদের সম্ভাব্য প্রার্থী অনেক দিন ধরেই নির্বাচনী মাঠ গোছাচ্ছেন। ফলে সেখানে দল ঐক্যবদ্ধ আছে। আশা করি, খুলনা সিটি করপোরেশনের মতো এই তিন সিটিতেও জনগণ আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করবে।’

ইসির সিদ্ধান্তে পরিবর্তন : সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের (এমপি) প্রচারণার সুযোগ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এসেছে। গত ২৪ মে নির্বাচন কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সব এমপি দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাতে পারবেন। কিন্তু এর পাঁচ দিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় এমপিরা এ সুযোগ পাবেন না। নির্বাচনী এলাকার বাইরের এমপিরা এ সুযোগ পাবেন। স্থানীয় এমপিদের এলাকায় প্রভাব থাকে। যার কারণে তাঁদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচারণার বাইরে রাখা হচ্ছে। তবে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। তা ছাড়া কেবল সিটি করপোরেশন নয়, স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাতে পারবেন নির্বাচনী এলাকার বাইরের এমপিরা।  

এ পরিবর্তন সম্পর্কে কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালার সংশোধনী এখনো চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। তবে এতে স্থানীয় এমপিরা প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না মর্মে বিধি-নিষেধ থাকছে।

এ অবস্থায় তিন সিটিতে এমপিরা প্রচারে অংশ নিতে পারবেন কি না এ প্রশ্নে মঙ্গলবার সিইসি বলেন, ‘এখনো বলতে পারছি না। এখনো আচরণবিধি সংশোধন হয়নি। ১৩ জুনের আগে সংশোধন হলে এটি তিন সিটিতে কার্যকর হবে। না হলে হবে না।’

এদিকে একজন নির্বাচন কমিশনের বিরোধিতার পরও কেন এমপিদের নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘আমাদের পাঁচজন কমিশনারের মধ্যে চারজন পক্ষে মত দিয়েছেন, একজন নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। সেই নোট অব ডিসেন্টটি আমাদের যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি। তাই আমরা এই সংশোধনীর অনুমোদন দিয়েছি।’

এ ধরনের সংশোধনীর উদ্যোগ নিয়েও সমালোচনার কারণে রকিব কমিশন পিছু হটেছিল। এখন কেন আবার এটা করা হলো, প্রশ্ন করলে সিইসি বলেন, ‘আগের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ ছিল না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়। দলীয় প্রতীকে হলে দলীয় যারা কর্মী তাদের অংশগ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দুই নম্বর হলো—সংবিধানের ৩৬-৩৭ অনুচ্ছেদে পরিষ্কার বলা আছে, একটা লোককে ফ্রিডম অব মুভমেন্ট, ফ্রিডম অব অ্যাসোসিয়েশন, ফ্রিডম অব অ্যাসেম্বলি দেওয়ার কথাগুলো বলা আছে। ফ্রিডম অব অ্যাসেম্বলির ক্ষেত্রে একজন লোক জনপ্রতিনিধি হওয়ার কারণে কোনো মিটিংয়ে বা প্রসেশনে যেতে পারবেন না, কোনো ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে পারবেন না এটা আমাদের কাছে মনে হয়েছে সঠিক হয়নি। সবচেয়ে বড় কারণ, এখন যেহেতু সংসদ সদস্যরা সরকারি সুবিধাভোগী নন, তাঁদের কোনো দপ্তর নেই, মন্ত্রী, মেয়র, হুইপ, স্পিকার তাঁদের যেমন দপ্তর আছে। তাঁরা যে নির্বাচনে নেগেটিভ প্রভাব ফেলবেন তার সুযোগ নেই।’

সিইসি বলেন, পৌরসভা, ইউনিয়ন সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পর্যায়ক্রমে এই বিধান করা হবে। যেসব পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হবে ওই এলাকার এমপি এই সুযোগ পাবেন না। সরকারের চাওয়া বাস্তবায়ন করছেন কি না এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘সরকারের চাওয়া কিছুই নেই। সরকারের চাওয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। আওয়ামী লীগের একটা প্রতিনিধিদল আমাদের বলেছিল। আমরা দেখলাম এটা করা যেতে পারে। অন্য কোনো দল যদি বলত তাহলে আমরা এভাবেই চিন্তা করতাম।’ এমপিরা প্রচার চালালে নির্বাচন প্রভাবিত হবে কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘এমপিরা রাষ্ট্রীয় সুবিধাভোগী নন। তাঁরা কোনো সরকারি অফিস ব্যবহার করেন না। এ জন্য আমরা মনে করি, তাঁদের প্রচারের কারণে নেতিবাচক কোনো প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই।’ স্থানীয় এমপিরা প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না কিন্তু অন্য এমপিরা পারবেন—এ ক্ষেত্রে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন হবে কি না—প্রশ্ন করলে তার জবাব দেননি সিইসি।

তবে এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় এমপিদের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা রয়েছে। তাঁদের ত্রাণ, অনুদান দেওয়ার ক্ষমতা আছে। তাঁরা কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে নির্বাচন যাতে প্রভাবিত না হয় তার জন্য আমরা তাঁদের প্রচারণার সুযোগের বাইরে রেখেছি। তবে তাঁরা এলাকায় যেতে পারবেন এবং ভোট দিতে পারবেন।’

গত ১৩ এপ্রিল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধনের দাবি জানায়। এরপর গত ১৯ এপ্রিল এ বিষয়ে বৈঠক করে কমিশন। বৈঠকে একজন নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানিয়ে বলেন, সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। অন্য একজন কমিশনার সব সংসদ সদস্যকে এ সুযোগ দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেন। তার পরও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের ওই দাবি পুরণের পক্ষেই কমিশনের সিদ্ধান্ত হয় এবং কমিশনের আইন ও বিধি সংস্কার কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমকে এ বিষয়ে সুপরিশ প্রস্তুত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর গত ২৪ মে কমিশন সভায় নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদার এ বিষয়ে তাঁর নোট অব ডিসেন্টে উল্লেখ করেন, ‘আমি মনে করি সংসদ সদস্যদের সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হবে। এতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির উদ্যোগ নস্যাত্ হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তড়িঘড়ি করে আইন ও বিধিমালা পরিবর্তন করে যেভাবে সংসদ সদস্যদের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা অভিনব। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আমরা সর্বমহলে নিন্দিত হয়ে পড়ব। আজ পর্যন্ত এই সংশোধনের পক্ষে কেউ অভিমত প্রকাশ করেছেন বলে আমার জানা নেই।’

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71