বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
তিস্তার জট খোলা মমতাকে ছাড়া সম্ভব নয়: সুষমা স্বরাজ
প্রকাশ: ০৪:০২ pm ২৯-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ০৪:০২ pm ২৯-০৫-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


বাংলাদেশের র পানি বণ্টন চুক্তি করার ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে আবারও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কথাই বললেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তিনি বলেছেন, শুধু বাংলাদেশ সরকার এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে এই জট ছাড়ানো সম্ভবপর নয়।

সোমবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুষমা স্বরাজ এসব কথা বলেন।

‘সব পক্ষের অনুমোদন ছাড়া তিস্তার ব্যাপারে কোনো চুক্তিই সম্ভব নয়। দুই দেশ বাংলাদেশ এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সম্মতিতে এই সমস্যার সমাধান হবে না।’

তিনি বলেন, এই চুক্তির ব্যাপারে প্রধান অংশীদার হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং এ ব্যাপারে আমরা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জির সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছি।

২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে যান। ওই সময় তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির বিকল্প হিসেবে রাজ্যের অন্য তিনটি নদী থেকে বাংলাদেশকে পানি দেয়ার একটি প্রস্তাব তুলে ধরেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী; তবে তিস্তা থেকে নয়। 

তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন না হওয়াটা মোদির সরকারের জন্য ব্যর্থতা কি না; এমন এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ‘আমাদের সরকার চার বছর পূর্ণ করেছে এবং এখনো এক বছর বাকি আছে। সুতরাং তিস্তা চুক্তিতে না পৌঁছাতে পারাকে এ সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে বলা যাবে না।’ 

গত ২৫ ও ২৬ মে শেখ হাসিনার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি ও মমতা ব্যানার্জির বৈঠকের সফলতার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে সুষমা স্বরাজ বলেন, গত বছরের এপ্রিলে তিস্তার বিকল্প হিসেবে পানি সরবরাহে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেছেন, তিস্তার পানি ভাগাভাগি করা হলে পশ্চিমবঙ্গ ভোগান্তির শিকার হবে।

পানিবিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা মমতার বিকল্প পানি সরবরাহের প্রস্তাবের সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করছেন। তারা এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবেন। সুষমা বলেন, রাজ্য হওয়ায় ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গকে এড়িয়ে তিস্তার পানি বণ্টন করতে পারে না।

ভারতের এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির একটা ভূমিকা রয়েছে; যা কেন্দ্রীয় সরকার উপেক্ষা করতে পারে না।’

২০১১ সালে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আপত্তি তোলেন মমতা ব্যনার্জি। ওই সময় ঢাকায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ সফরে এসে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্কটের বিষয়ে ভারতের অবস্থান নিয়েও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন সুষমাকে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী শরণার্থী প্রত্যাবাসন হবে বলে তিনি আশাবাদী।

“আমি দুই পক্ষের সঙ্গে আলাপে জেনে সন্তুষ্ট হয়েছি যে, বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মাঝে একটি সমঝোতা হয়েছে। এতে সময় সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে যে দুই বছরের মধ্যে এই রিপ্যাট্রিয়েশন শেষ করা হবে।”

নিজের মিয়ানমার সফরের কথা তুল ধরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি সু চির (অং সান সু চি) কাছ থেকে তালিকা পেয়েছি, পরে যা গণমাধ্যমেও এসেছে, ১২২২ লোককে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ভেরিফাই করে বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে। তারা এদের ফেরৎ নিতে প্রস্তুত।

“একে বেবি স্টেপ বলা যেতে পারে, সফলতার প্রথম পদক্ষেপ। সমঝোতার পরে ১২২২ জনকে ফেরৎ নেওয়া হচ্ছে। আমি মনে করি, দুই দেশ আন্তরিকতার সঙ্গে সমঝোতা করলে এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান অবশ্যই হবে।”

রোহিঙ্গা সঙ্কটে ভারতকে নিয়ে বাংলাদেশের কোনো অভিযোগ না থাকার কথা সাংবাদিকদের বলেন সুষমা।

মিয়ানমার শরণার্থী নিতে চাইছে না বলে এক সাংবাদিক বলার পর তাকে সুষমা বলেন, “আপনি যে বললেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরৎ নিতে অস্বীকার করেছে, তা সম্পূর্ণ ভুল।”

গত অগাস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর নির্যাতনের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছেন। তাদের ফেরত নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েও মিয়ানমার গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে আগে থেকে আরও চার লাখের মতো রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে। বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর ভার নিয়ে  সঙ্কটে পড়ার কথা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

নি এম/
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71