শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
তিস্তার পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার উপরে
প্রকাশ: ০৮:০২ pm ১২-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ০৮:০২ pm ১২-০৮-২০১৭
 
নীলফামারী প্রতিনিধি :
 
 
 
 


ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও তিনদিনের মাঝারী থেকে ভারী বর্ষণে তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে হঠাৎ করে ফের বন্যা দেখা দিয়েছে।

শনিবার (১২ জুলাই) সকাল ৬টায় ২৫ সেন্টিমিটার তার পর সকাল ৯টায় বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ২৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সব (৪৪টি) স্লুইচ গেইট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
 
তিস্তার বন্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পুর্ব ছাতনাই, খগাখাড়বাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও  কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ২৪টি চর ও চর গ্রামের ১৫ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা, কালিগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদী বেস্টিত চর ও চরের গ্রাম গুলো প্লাবিত হয়েছে। ডিমলা টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, বুধবার ভোর রাত থেকে অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। এতে করে ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি, পূর্বখড়িবাড়ি, টাপুরচর, ঝিঞ্জিরপাড়া ও মেহেরটারী গ্রামের বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। 

উপজেলার খালিশা চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ইউনিয়নের পশ্চিম বাইশপুকুর, পুর্ব বাইশপুকুর, সতিঘাট ও ছোটখাতা গ্রামের বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে বেশ কিছু বাড়িতে পানি উঠেছে।

নীলফামারী সদরের ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ১৫ হাজার পরিবার পানী বন্ধি হয়ে পড়েছে। শ্রমজীবি মানুষের করুন হাল হযেছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে শহরের বাড়াই পাড়া, বাবু পাড়া, সওদাগড় পাড়া, নিউবাবুপাড়া, সবুজ পাড়া, থানা পাড়ার প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানী বন্ধি হয়ে পড়েছে। 

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুজার রহমান বলেন, তিনদিনের অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ২৫ হাজার পরিবার ঘরবাড়ী পানীর নিচে তলিয়ে গেছে।

সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য ওজমান গনি নানদিয়া জানান, বুড়িখোড়া নদীর পানী উপচে চারটি গ্রামের ১৫ হাজার ঘরবাড়ি পানীর নীচে তলিয়ে গেছে। শুক্রবার (১১ আগষ্ট) থেকে চাল চুলা জ্বালাতে না পেরে শুকনা খাবার খেয়ে জীবন ধারন করছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পুর্বাভাস ও সতর্কিকরণ কেন্দ্রের পানী পরিমাপক নূরুল ইসলাম বলেন, লালমনিরহাট জেলার দোয়ানীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েণ্টে তিস্তা নদীর পানি শনিবার সকাল ছয়টায় বিপদসীমার ২৫ সেণ্টিমিটার, সকাল নয়টায় ২৭ সেণ্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েণ্টে তিস্তা নদীর বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৪০ সেণ্টিমিটার। 

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউর করিম জানান, উজানের পাহাড়ী ঢলে ও ভারত থেকে নেমে আসা তিস্তার পানী বিপদসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ গেইট খুলে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যার্তদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে ও দুর্গতদের তালিকা তৈরীর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পানী উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান মোবাইল ফোনে জানান, ভারী বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলের কারনে তিস্তায় ফের বন্যা দেখা দিয়েছে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক খালেদ রহীম জানান, তিস্তায় ভারী বর্ষন ও ভারতের গজলডোবো ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে দেওয়ায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মনিটারিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তার জন্য ওপরে বলা হয়েছে।

এম/এসএম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71