বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৩০শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
তীর্থস্থান ও মন্দির পরিচিতি
প্রকাশ: ১১:৪২ am ০১-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:৪৪ am ০১-০৭-২০১৭
 
 
 


জগন্নাথ মন্দির: পুরীর জগন্নাথ মন্দির ভারতের অন্যতম প্রসিদ্ধ মন্দির। জগন্নাথ-আরাধনার ইতিবৃত্ত এতই প্রাচীন যে এর কোনো ঐতিহাসিক রেকর্ড পাওয়া সম্ভব নয়।

জগন্নাথ মন্দিরে অহিন্দুদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।কলিঙ্গ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মন্দিরটি শ্রীমন্দির নামে সমধিক পরিচিত।গর্ভগৃহের মাথায় রয়েছে একটি সুউচ্চ শিখর বা চূড়া।প্রদীপ উৎসর্গের জন্য রয়েছে ফসিল হয়ে যাওয়া কাঠের একটি স্তম্ভ।মন্দিরের প্রধান দ্বার সিংহদ্বারের রক্ষক দেবতা জয়া ও বিজয়া।

মূল প্রবেশপথের সামনে রয়েছে অরুণস্তম্ভ নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ।খুরদার রাজা কোনার্কের সূর্যমন্দির থেকে এটি নিয়ে আসেন।তিন দেবতাকে সাধারণত মন্দিরের অভ্যন্তরেই পূজা করা হয়।তবে প্রতি বছর আষাঢ় মাসে তাঁদের রাজপথে বের করে রথারূহ করে তিন কিলোমিটার দূরে মৌসিমা মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়।এই সময় ভক্তরা দেবতাকে গণদর্শনের সুযোগ পান।

এই বিরাট রথগুলি প্রতি বছর কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়।দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর কৃষ্ণের বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী রূপে পালিত হয়ে থাকে এই রথযাত্রা উৎসব। রথযাত্রার সময় সারা পৃথিবী থেকে এখানে ভক্ত সমাগম হয়। পুরীর রাজা রথের সম্মুখে রাস্তা ঝাঁট দেন।


Image result for বিষ্ণুপাদ মন্দির:

 

বিষ্ণুপাদ মন্দির : ভগবান ব্রহ্মা সৃষ্টি করেছেন এই ব্রহ্মাণ্ড- ভগবান শিব ধবংস করবেন এবং এই সময়ের মাঝে ভগবান বিষ্ণু পালন ও রক্ষা করেছেন এবং করবেন।

বিহারের গয়ায় রয়েছে ভগবান বিষ্ণুপাদ মন্দির। গয়া নামটি এসেছে গয়াসুরের নামে। পুরাকালে গয় নামে এই অসুর বিষ্ণুর উপাসনা শুরু করে। তার উদ্দেশ্য ছিল অমরত্ব লাভ করা এবং স্বর্গ দখল করা।

সে এই জন্য তুখোড় তপস্যা শুরু করে। তপস্যা এত দাপটে করতে থাকে যে বিষ্ণু আর স্থির থাকতে পারেন না- তিনি ছুটে যান গয় এর কাছে। গয় বিষ্ণুর কাছে বর চান যেন অমর হতে পারেন। তখন বিষ্ণু বলেন- ” হে গয়- আমার অবতারা ও জন্ম নেয় এবং এই পৃথিবীতেই তাদের মৃত্যু হয়। তুমি অন্য কোন বর চাও। আমি তোমাকে পৃথিবীর নিয়মের ব্যাতিক্রম কোন বর দিতে পারব না। তুমি অন্য কিছু চাও।”

তখন গয় মহা চিন্তায় পড়ে যায়। শেষে সে বলে- ” হে পরম বিষ্ণু- আমাকে এমন এক দেহ দান করুন যেন আমার দেহ স্পর্শ না করে এই পৃথিবীর কারো স্বর্গলোক প্রাপ্তি না হয়।”

তখন ভগবান বিষ্ণু বললেন- “এ জন্য আমাকে যজ্ঞ করতে হবে- এবং তোমাকে মৃত্যু বরন করে দেহ খানা দিতে হবে।” এ শুনে সদা হাস্যময় গয় নিজের দেহ দান করতে প্রস্তুত হল। কিন্তু সে এত বিরাট ছিল যে বিষ্ণু কোথাও দাঁড়াতে পারছিলেন না।

তখন গয় নিজের মাথা পেতে দেয়- ভগবান বিষ্ণু সেই মাথায় পা দিয়ে অত্র এলাকাকে মহা পবিত্র করে দেন এবং বর দান করেন যে এই খানে পিন্ড দান না করে কোন দেব দানব বা মানুষের আত্মা স্বর্গ লোকে প্রবেশ করবেনা।

ফল্গু নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দির। রামায়নে লেখা আছে এই ফ্লগু নদী পূর্বে প্রবাহমান ছিল। রাজা দশরথের মৃত্যুর পর এখানে শ্রী শ্রী রামের অনুপস্থিতিতে সীতাদেবী দশরথের পিন্ড দেন। এখানে এই পিন্ড দানের সাক্ষী ছিল এই ফল্গু নদী, অক্ষয় বট,ও তুলসী কে সাক্ষি মানেন।

শ্রী রাম ফিরে এলে সীতা দেবী পিন্ড দানের কথা জানান এবং বলেন যে এর সাক্ষী ও আছে। এই সময় অক্ষয় বট সত্য স্বীকার করেন। কিন্তু ফ্লগু নদী ও তুলসী রামের পায়ের স্পর্শ পাবার আশায় মিথ্যে সাক্ষী দেন। এতে সীতা দেবী অভিশাপ দেন। এরপর থেকে এই ফ্লগু নদীর পানি শুকিয়ে যায় আর তুলসি যেখানে সেখানে জন্মায়।

বৃন্দাবন: ভারতের উত্তর প্রদেশের অন্তর্গত মথুরা জেলায় অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ তীর্থস্থান এবং স্থানটি খুবই প্রাচীন।

পঞ্চপাণ্ডব (যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব) মহাপ্রস্থান করার পর শ্রীকৃষ্ণের প্রপৌত্র বজ্রনাভ মথুরার রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। একদিন বজ্রনাভের মা রোচনা দেবী তাকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একটি মূর্তি তৈরী করারজন্য আদেশ দেন। মূর্তি প্রস্তুত হলে রোচনা দেবী বলেন, “মুখ ছাড়া এ মূর্তি শ্রীকৃষ্ণের মতো হয় নাই”। দ্বিতীয় মূর্তি প্রস্তুত হলো বটে কিন্তু তাতে কেবল বক্ষঃস্থল ভিন্ন শ্রীকৃষ্ণের আর কোন অঙ্গের মিল দেখা যায় নাই।

তৃতীয় মূর্তিতে দুই চরণ ছাড়া শ্রীকৃষ্ণের কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায় নাই। বজ্রনাভ চতুর্থ মুর্তি তৈরীতে উদ্যত হইলে জননী বলেন, “তার আর দরকার নেই। এ তিন মূর্তিরই তুমি প্রতিষ্ঠা কর”।মায়ের আদেশে বজ্রনাভ গোবিন্দ, গোপীনাথ ও মদনগোপাল নামকরণ করে ব্রজমণ্ডলের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করেন এবং অন্যান্য স্থানে কৃষ্ণলীলার স্মরণ চিহ্ন হিসেবে প্রকৃত স্থানেই গ্রাম, কুণ্ড বা কুপ প্রতিষ্ঠা করেন।

খ্রীষ্টিয় একাদশ শতাব্দীতে গজনীর মামুদ মথুরা ও মহাবন আক্রমণ ও ধ্বংস করে তীর্থের গৌরব একেবারে নষ্ট করে ফেলেন। বৃন্দাবন প্রকৃত অর্থেই বনে পরিণত হয়ে যায়।কুতবুদ্দিনের সময়ে মথুরামণ্ডল দিল্লী রাজ্যের অধিভুক্ত হয়। সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বৃন্দাবনের অদৃষ্ট সুপ্রসন্ন হয়।

এ সময়ে চৈতন্যদেবের আদেশে সনাতন, রূপ প্রভৃতি গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণ বৃন্দাবনে এসে বাস করেন এবং হারানো তীর্থ গৌরব পুণরুদ্ধারে যত্নবান হন।পুরাতন মন্দিরতিনটি ব্যবহার উপযোগী না দেখে চব্বিশ পরগণা জেলায় অবস্থিত বহড়ু গ্রামের জমিদার দেওয়ান নন্দকুমার বসু ৮১২১ সালে বহু ব্যয় করে তিনটি মন্দির প্রস্তুত করেন।

পরবর্তীকালে অন্যান্য যে সকল বিগ্রহগুলোর জন্য মন্দিরগুলো প্রতিষ্ঠা হয়েছে তা নিম্নরূপঃ- শেঠের মন্দির; সাহাজীর মন্দির; ব্রহ্মচারীর মন্দির; লালাবাবুর মন্দির অন্যতম।এছাড়াও, অনেক মন্দির ভক্ত বৈষ্ণবদের দ্বারা নির্মিত হয়েছে।ঝুলনযাত্রাই বৃন্দাবনের সর্বপ্রধান পর্ব। তার পরেই অন্নকূট যাত্রা। শেষোক্ত পর্ব দীপান্বিতা অমাবস্যার পরদিনে সম্পন্ন হয়।
 

ইংরেজ সরকার কলকাতার রাজা স্যার রাধাকান্ত দেব বাহাদুর যখন বৃন্দাবন বাস করেন, সে সময়ে তিনি ইংরেজ সরকারকে আবেদন করে এ আদেশ প্রচার করেছিলেন যে, ইংরেজরা বৃন্দাবনের মধ্যে শিকারের উদ্দেশ্যে পশু বা পাখী বধ করতে পারবে না। ভগবান কৃষ্ণের “বৃন্দাবনং পরিত্যজ্য পাদমেকং ন গচ্ছতি” - এ উক্তির সারমর্ম হৃদয়ে উপলদ্ধি করে বৈষ্ণবগণ এ স্থানকে সর্বপ্রধান তীর্থ ও বাঞ্ছনীয় বাসস্থান হিসেবে পরিগণনা করেন

 

Image result for ঢাকেশ্বরী মন্দির:

ঢাকেশ্বরী মন্দির: ঢাকেশ্বরী মন্দির ঢাকা শহরের পলাশী ব্যারাক এলাকায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বাসসমূহের দক্ষিণে ঢাকেশ্বরী রোডে অবস্থিত।এটি বাংলাদেশের অন্যতম একটি বিখ্যাত মন্দির।

বিক্রমপুরের রাজা আদিসুর এক সময় ক্রুদ্ধ হয়ে নির্দোষ রানীকে রাজপ্রাসাদ থেকে বহিষ্কার করেন। তখন রানীর গর্ভে ছিল বল্লাল সেন। রাজার বহিষ্কারাদেশে উপায়ন্ত না পেয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ঝাঁপ দেন। জনশ্রুতি আছে যে,রানী এরপর দেবী দুর্গার হাতে উদ্ধার হয়ে বুড়িগঙ্গা তীরের কাছাকাছি একটি জঙ্গলে আশ্রয় পান। সেখানে তার সন্তান বল্লাল ভূমিষ্ঠ হয়। বনে লালিত হয়েছিল বলে মা তাকে বনলাল সেন বলে ডাকতেন। সেখানে বল্লাল সেন জ্ঞান গরিমায় শৌর্য- বীর্যে অত্যধিক ব্যুপত্তি লাভ করেন।

একদিন তিনি বেড়াতে বেড়াতে তার রক্ষাকর্ত্রী দূর্গার প্রতিমাকে লুকায়িত অবস্থায় দেখতে পান। পরম শ্রদ্ধাভরে তিনি সেখানে ‘ঢাকা ঈশ্বর’ বা লুকায়িত দেবীর মন্দির নির্মাণ ১২শ শতাব্দীতে করেন। সেই থেকে মন্দিরের নাম হয় ‘ঢাকেশ্বরী’।তৎকালে এরূপ একটি মন্দিরের অস্তিত্বে থাকলেও পরে এর কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় না। সেই পুরনো মন্দিরটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করেছিলেন সেনাপতি মানসিংহ।বর্তমান মন্দিরটি দুইশ’ বছরের অধিক পুরনো এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক হিন্দু এজেন্ট বর্তমান মন্দিরটি নির্মাণ করেন।

ঢাকার নামকরন ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নাম অনুসারে হয়েছে বলে মনে করা হয়।তবে এই নামকরন নিয়ে বির্তক রয়েছে। বর্তমানে এখানে প্রতি বছর ধুমধামের সাথে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়।মূল মন্দির প্রাঙ্গনের বাইরে মহানগর পুজামণ্ডপ অবস্থিত। এখানে যেখানে দুর্গা পুজার স্থায়ী বেদী রয়েছে। মূল মন্দির এলাকার ভবনগুলি উজ্জ্বল হলুদাভ ও লাল বর্ণের। মূল মন্দির প্রাঙ্গনের উত্তর পশ্চিম কোণে রয়েছে চারটি শিব মন্দির। মূল মন্দিরটি পূর্বাংশে অবস্থিত। এখানে দেবী দূর্গার একটি ধাতু-নির্মিত প্রতিমা রয়েছে।

Image result for কান্তজীর মন্দির:

কান্তজীর মন্দির : বাংলাদেশের একটি প্রাচীন মন্দির হচ্ছে কান্তজীর মন্দির,মন্দিরটি দিনাজপুর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে কান্তনগর গ্রামে অবস্থিত। এটি নবরত্ন মন্দির নামেও পরিচিত কারণ তিনতলা বিশিষ্ট এই মন্দিরের নয়টি চূড়া বা রত্ন ছিলো।

মন্দিরের উত্তর দিকের ভিত্তিবেদীর শিলালিপি থেকে জানা যায়, তৎকালীন দিনাজপুরের মহারাজা জমিদার প্রাণনাথ রায় তাঁর শেষ বয়সে মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৭২২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর পোষ্যপুত্র মহারাজা রামনাথ রায় ১৭৫২ খ্রিস্টাব্দে মন্দিরটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। শুরুতে মন্দিরের চূঁড়ার উচ্চতা ছিলো ৭০ ফুট। ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে মন্দিরটি ভূমিকম্পের কবলে পড়লে এর চূঁড়াগুলো ভেঙে যায়। মহারাজা গিরিজানাথ মন্দিরের ব্যাপক সংস্কার করলেও মন্দিরের চূড়াগুলো আর সংস্কার করা হয়নি।

মন্দিরের বাইরের দেয়াজুড়ে পোড়ামাটির ফলকে লেখা রয়েছে রামায়ণ, মহাভারত এবং বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী।পুরো মন্দিরে প্রায় ১৫,০০০-এর মতো টেরাকোটা টালি রয়েছে। উপরের দিকে তিন ধাপে উঠে গেছে মন্দিরটি। মন্দিরের চারদিকের সবগুলো খিলান দিয়েই ভেতরের দেবমূর্তি দেখা যায়। মন্দির প্রাঙ্গণ আয়তাকার হলেও, পাথরের ভিত্তির উপরে দাঁড়ানো ৫০ফুট উচ্চতার মন্দিরটি বর্গাকার। নিচতলার সব প্রবেশপথে বহু খাঁজযুক্ত খিলান রয়েছে। দুটো ইটের স্তম্ভ দিয়ে খিলানগুলো আলাদা করা হয়েছে, স্তম্ভ দুটো খুবই সুন্দর এবং সমৃদ্ধ অলংকরণযুক্ত। মন্দিরের পশ্চিম দিকের দ্বিতীয় বারান্দা থেকে সিঁড়ি উপরের দিকে উঠে গেছে। মন্দিরের নিচতলায় ২১টি এবং দ্বিতীয় তলায় ২৭টি দরজা-খিলান রয়েছে, তবে তৃতীয় তলায় রয়েছে মাত্র ৩টি করে।

মন্দির থেকে আনুমানিক দুইশত গজ দূরে আছে একটি রাসমঞ্চ। এই মঞ্চে প্রতিবছর একবার অনুষ্ঠিত হয় রাসলীলা। রাসলীলায় পূর্ণিমার রাতে মন্দির থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বের করে আনা হয় রাধা কৃষ্ণের প্রতিমা।

Image result for কাশী বিশ্বনাথ :

কাশী বিশ্বনাথ : কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ভারতের একটি বিখ্যাত মন্দির। এটি উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বারাণসীতে অবস্থিত। মন্দিরটি গঙ্গা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত।

কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ” জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির” নামে পরিচিত শিবের বারোটি পবিত্রতম মন্দিরের অন্যতম। মন্দিরের প্রধান দেবতা শিব “বিশ্বনাথ” বা “বিশ্বেশ্বর” নামে পূজিত হন। বারাণসী শহরের অপর নাম “কাশী” এই কারণে মন্দিরটি “কাশী বিশ্বনাথ মন্দির” নামে পরিচিত। মন্দিরের ১৫.৫ মিটার উঁচু চূড়াটি সোনায় মোড়া।

তাই মন্দিরটিকে স্বর্ণমন্দিরও বলা হয়ে থাকে। পুরাণে এই মন্দিরটির উল্লেখ পাওয়া যায়। মন্দিরটি শৈবধর্মের প্রধান কেন্দ্রগুলির অন্যতম। অতীতে বহুবার এই মন্দিরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ও পুনর্নির্মিত হয়েছে। মন্দিরের পাশে জ্ঞানবাপী মসজিদ নামে একটি মসজিদ রয়েছে।

আদি মন্দিরটি এই মসজিদের জায়গাটিতেই অবস্থিত ছিল। বর্তমান মন্দিরটি ১৭৮০ সালে ইন্দোরের মহারানি অহিল্যা বাই হোলকর তৈরি করে দেন।১৯৮৩ সাল থেকে উত্তরপ্রদেশ সরকার এই মন্দিরটি পরিচালনা করে আসছেন।

স্কন্দ পুরাণের কাশীখণ্ডে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়।একাদশ শতাব্দীতে হরিচন্দ্র মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। ১১৯৪ সালে মহম্মদ ঘোরি বারাণসীর অন্যান্য মন্দিরগুলির সঙ্গে এই মন্দিরটিও ধ্বংস করে দেন। এরপরেই আবার মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হয়। এরপর কুতুবুদ্দিন আইবক মন্দিরটি ধ্বংস করেন। আইবকের মৃত্যুর পর মন্দিরটি আবার নির্মিত হয়।

১৩৫১ সালে ফিরোজ শাহ তুঘলক মন্দিরটি আবার ধ্বংস করেন। ১৫৮৫ সালে আকবরের রাজস্ব মন্ত্রী টোডরমল আবার মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেন।এরপর ১৬৬৯ সালে আওরঙ্গজেব পুনরায় মন্দিরটি ধ্বংস করে জ্ঞানবাপী মসজিদ তৈরি করান।

এই মসজিদটি আজও মন্দিরের পাশে অবস্থিত। মসজিদের পিছনে পুরনো মন্দিরের কিছু ধ্বংসাবশেষ আজও দেখা যায়। বর্তমান মন্দিরটি ১৭৮০ সালে ইন্দোরের মহারানি অহিল্যা বাই হোলকর তৈরি করে দিয়েছিলেন। ১৮৩৫ সালে পাঞ্জাবের শিখ সম্রাট রঞ্জিত সিংহ মন্দিরের চূড়াটি ১০০০ কিলোগ্রাম সোনা দিয়ে মুড়ে দেন।

মন্দির চত্বরটি অনেকগুলি ছোটো ছোটো মন্দির নিয়ে গঠিত। এই মন্দিরগুলি গঙ্গার তীরে “বিশ্বনাথ গলি” নামে একটি গলিতে অবস্থিত। প্রধান মন্দিরের মধ্যে একটি ৬০ সেন্টিমিটার উঁচু ও ৯০ সেন্টিমিটার পরিধির শিবলিঙ্গ রূপার বেদির উপর স্থাপিত।ছোটো মন্দিরগুলির নাম কালভৈরব, দণ্ডপাণি, অবিমুক্তেশ্বর, বিষ্ণু, বিনায়ক, শনীশ্বর, বিরূপাক্ষ ও বিরূপাক্ষ গৌরী মন্দির। মন্দিরের মধ্যে জ্ঞানবাপী নামে একটি ছোটো কুয়ো আছে। মুসলমান আক্রমণের সময় প্রধান পুরোহিত স্বয়ং জ্যোতির্লিঙ্গটি রক্ষা করার উদ্দেশ্যে সেটি নিয়ে এই কুয়োয় ঝাঁপ দিয়েছিলেন।

কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরটি পবিত্রতম মন্দিরগুলির অন্যতম। আদি শঙ্করাচার্য, রামকৃষ্ণ পরমহংস, স্বামী বিবেকানন্দ, গোস্বামী তুলসীদাস, স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী, গুরু নানক প্রমুখ ধর্মনেতারা এই মন্দির দর্শনে এসেছিলেন। ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, গঙ্গায় একটি ডুব দিয়ে এই মন্দির দর্শন করলে মোক্ষ লাভ করা সম্ভব।


বৈদিক প্লানেটরিয়াম মন্দির : শ্রী চৈতন্যের জন্মস্থান করেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় মায়াপুর গ্রামে। এখানে ইসকন প্রতিষ্ঠিত চন্দ্রোদয় মন্দির আছে। এই মন্দিরের অনেক সেবক শ্বেতাঙ্গ, যারা ইউরোপ ও আমেরিকার নানা দেশ থেকে এসে হিন্দু ধর্ম গ্রহণকরেছেন । তবে যেকোনো ধর্মের মানুষ এখানে স্বাগত ।

এই মায়াপুরে নির্মিত হচ্ছে বৈদিক প্লানেটরিয়াম মন্দির (ছবি) যা ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিট্যাল বিল্ডিং এর অনুরূপ প্রায় ৩০০ফুট উঁচু ,গম্বুজ আকৃতির মন্দির - শ্রীশ্রী গৌর নিতাই মন্দির ।

শ্রীশ্রী রাধামাধব এবং বৃন্দাবনের ষড় গোস্বামীর নিত্য সেবা পূজা সম্পন্ন করার মানসে শ্রীমদ্ভাগবতে ৫ম স্কন্ধে বর্ণিত নির্দেশনা মতো অবকাঠামো নির্মিত হচ্ছে।৬০মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই বৈদিক প্লানেটরিয়াম মন্দিরের কাজ আগামী ২০১৬ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইসকন কর্তৃপক্ষ।

সোমনাথ মন্দির : সোমনাথ মন্দির ভারতের একটি প্রসিদ্ধ শিব মন্দির। গুজরাট রাজ্যের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত সৌরাষ্ট্র অঞ্চলের বেরাবলের নিকটস্থ প্রভাস ক্ষেত্রে এই মন্দির অবস্থিত। শিবের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে পবিত্রতম। সোমনাথ শব্দটির অর্থ “চন্দ্র দেবতার রক্ষাকর্তা”।

সোমনাথ মন্দিরটি ‘চিরন্তন পীঠ’ নামে পরিচিত। কারণ অতীতে ছয় বার ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও মন্দিরটি সত্বর পুনর্নিমিত হয়। ১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাসে জুনাগড়ের ভারতভুক্তির সময় এইঅঞ্চল পরিদর্শন করে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বর্তমান মন্দিরটি নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর মন্দিরের কাজ এগিয়ে নিয়ে যান ভারত সরকারের অপর এক মন্ত্রী কে. এম. মুন্সি।হিন্দু পুরাণ অনুসারে, দক্ষ প্রজাপতি কর্তৃক অভিশপ্ত হয়ে চন্দ্র প্রভাস তীর্থে শিবের আরাধনা করলে, শিব তাঁর অভিশাপ অংশত নির্মূল করেন।

এই কারণে চন্দ্র সোমনাথে শিবের একটি স্বর্ণমন্দির নির্মাণ করেন। পরে রাবণ রৌপ্য ও কৃষ্ণ চন্দনকাষ্ঠ দ্বারা মন্দিরটি পুনর্নিমাণ করেছিলেন। গুজরাটের সোলাঙ্কি শাসক ভীমদেব মন্দিরটি নির্মাণ করেন প্রস্তরে। প্রসঙ্গত, সোলাঙ্কি ছিল ভারতের পাঁচ রাজপুত রাজ্যের অন্যতম।

সোমনাথ মন্দিরের আরাধ্য দেবতা শিব সোমেশ্বর মহাদেব নামে পরিচিত। পুরাণ অনুসারে, সত্যযুগে সোমেশ্বর মহাদেব ভৈরবেশ্বর, ত্রেতাযুগে শ্রাবণিকেশ্বর ও দ্বাপর যুগে শ্রীগলেশ্বর নামে পরিচিত ছিলেন। চন্দ্র তাঁর স্ত্রী রোহিণীরপ্রতি অত্যধিক আসক্তি বশত তাঁর অন্য ছাব্বিশ স্ত্রীকে উপেক্ষা করতে থাকেন। এই ছাব্বিশ জন ছিলেন দক্ষ প্রজাপতির কন্যা। এই কারণে দক্ষ তাঁকে ক্ষয়িত হওয়ার অভিশাপ দেন।

প্রভাস তীর্থে চন্দ্র শিবের আরাধনা করলেশিব তাঁর অভিশাপ অংশত নির্মূল করেন। এরপর ব্রহ্মার উপদেশে কৃতজ্ঞতাবশত চন্দ্র সোমনাথে একটি স্বর্ণ শিবমন্দির নির্মাণ করেন। পরে রাবণ রৌপ্যে, কৃষ্ণ চন্দনকাষ্ঠে এবং রাজা ভীমদেব প্রস্তরে মন্দিরটি পুনর্নিমাণ করেছিলেন।

 সোমনাথের প্রথম মন্দিরটি খ্রিস্টের জন্মের আগে থেকে বিদ্যমান ছিল।গুজরাটের বল্লভীর যাদব রাজারা ৬৪৯ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় মন্দিরটি নির্মাণ করে দেন। ৭২৫ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধের আরব শাসনকর্তা জুনায়েদ তাঁর সৈন্যবাহিনী পাঠিয়ে এই মন্দিরটি ধ্বংস করে দেন।তারপর ৮১৫ খ্রিস্টাব্দে গুজ্জর প্রতিহার রাজা দ্বিতীয় নাগভট্ট সোমনাথের তৃতীয় মন্দিরটি নির্মাণ করান। এই মন্দিরটি ছিল লাল বেলেপাথরে নির্মিত সুবিশাল একটি মন্দির। ১০২৪ খ্রিস্টাব্দে মামুদ গজনি আরেকবার মন্দিরটি ধ্বংস করেন।

১০২৬ থেকে ১০৪২ খ্রিস্টাব্দের মাঝে কোনো এক সময়ে গুজ্জর পরমার রাজা মালোয়ার ভোজ ও সোলাঙ্কি রাজা আনহিলওয়ারার প্রথম ভীমদেব আবার মন্দিরটি নির্মাণ করান। এই মন্দিরটি ছিল কাঠের তৈরি। কুমারপাল (রাজত্বকাল ১১৪৩-৭২) কাঠের বদলে একটি পাথরের মন্দির তৈরি করে দেন। ১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির সৈন্যবাহিনী পুনরায় মন্দিরটি ধ্বংস করে।হাসান নিজামির তাজ-উল-মাসির লিখেছেন, গুজরাটের রাজা করণ পরাজিত হন, তাঁর সেনাবাহিনী পলায়ন করে, “পঞ্চাশ হাজার কাফেরকে তরবারির আঘাতে নরকে নিক্ষেপ করা হয়” এবং “বিজয়ীদের হাতে আসে কুড়ি হাজারেরও বেশি ক্রীতদাস ও অগণিত গবাদি পশু”।

১৩০৮ খ্রিস্টাব্দে সৌরাষ্ট্রের চূড়াসম রাজা মহীপাল দেব আবার মন্দিরটি নির্মাণ করান। তাঁর পুত্র খেঙ্গর ১৩২৬ থেকে ১৩৫১ সালের মাঝে কোনো এক সময়ে মন্দিরে শিবলিঙ্গটি প্রতিষ্ঠা করেন।১৩৭৫ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের সুলতান প্রথম মুজফফর শাহ আবার মন্দিরটি ধ্বংস করেন।মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হলে ১৪৫১ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের সুলতান মাহমুদ বেগদা আবার এটি ধ্বংস করে দেন।কিন্তু এবারও মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হয়।

১৭০১ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব মন্দিরটি ধ্বংস করেন।আওরঙ্গজেব সোমনাথ মন্দিরের জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। এই মসজিদে হিন্দু শাস্ত্র-ভিত্তিক মোটিফগুলি সম্পূর্ণ ঢাকা পড়েনি।পরে ১৭৮৩ সালে পুণের পেশোয়া, নাগপুরের রাজা ভোঁসলে,কোলহাপুরের ছত্রপতি ভোঁসলে, ইন্দোরের রানি অহল্যাবাই হোলকর ও গোয়ালিয়রের শ্রীমন্ত পাতিলবুয়া সিন্ধের যৌথ প্রচেষ্টায় মন্দিরটি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। তবে মূল মন্দিরটি মসজিদে পরিণত হওয়ায় সেই জায়গায় মন্দির প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ধ্বংসাবশেষের পাশে।

তেরো শতকের আরব ভূগোলবিদ আসারু-ল-বিলাদ ওয়ান্ডারস অফ থিংস ক্রিয়েটেড, অ্যান্ড মার্ভেলস অফ থিংস এক্সিস্টিং বইতে লিখেছেন যে “সোমনাথ: ভারতের বিখ্যাত শহর, সমুদ্রের উপকূলে অবস্থিত এবং সমুদ্রের তরঙ্গবিধৌত। এই স্থানের বিস্ময়কর স্থানগুলির মধ্যে একটি হল এক মন্দির যেখানে সোমনাথ নামে একটি বিগ্রহ রয়েছে।

বিগ্রহটি মন্দিরের মাঝখানে নিচের কোনোরকম ঠেকনা ছাড়াই উপর থেকে ঝুলে রয়েছে। হিন্দুরা এটিকে খুব শ্রদ্ধা করে। বিগ্রহটিকে ওভাবে ঝুলতে দেখে মুসলমানই হোক, আর কাফেরই হোক, সবাই আশ্চর্য হয়ে যায়। চন্দ্রগ্রহণের দিন হিন্দুরা এই মন্দিরে তীর্থ করতে আসে। সেই সময় লক্ষ লক্ষ লোক এই মন্দিরে ভিড় জমান।” “সুলতান ইয়ামিনু-দ দৌলা মাহমুদ বিন সুবুক্তিগিন ভারতের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ ঘোষণা করলেন। তিনি ভেবেছিলেন সোমনাথ ধ্বংস করে দিলেই হিন্দুদের মুসলমান করা যাবে।

তাই তিনি সোমনাথ ধ্বংস করার ব্যাপারে বিশেষভাবে যত্নবান হন। এর ফলে হাজার হাজার হিন্দুকে জোর করে মুসলমান করা হয়। তিনি ৪১৬ হিজরির জিল্কাদা মাসের মাঝামাঝি সময় (১০২৫ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে) এসেছিলেন।

“বিহগ্রের দিকে সুলতান আশ্চর্য হয়ে চেয়ে রইলেন। তারপর লুটের মাল নিয়ে যাওয়ার হুকুম দিলেন। ধনসম্পদ তাঁর খুব পছন্দ হয়েছিল। সেখানে সোনা ও রুপো দিয়ে তৈরি অনেক মূর্তি ছিল। রত্নখচিত অনেক পাত্র ছিল। ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সেসব জিনিস সেই মন্দিরে পাঠিয়েছিলেন। মন্দির থেকে লুণ্ঠিত দ্রব্যের মোট অর্থমূল্য ছিল কুড়ি হাজার দিনারেরও বেশি।

 

পশুপতিনাথ মন্দির : পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ও বিখ্যাত এই শিবমন্দির ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের অন্যতম।এটি নেপালের প্রাচীনতম মন্দির।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পূর্বদিকে বাগমতি নদীর তীরে পশুপতিনাথ মন্দির অবস্থিত।শিবের আরেক নাম পশুপতি।মন্দির প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে পৌরাণিক কাহিনীতে বলা হয়েছে একবার শিব ও পার্বতী কাঠমান্ডু উপত্যকায় বাগমতী নদীর তীরে বেড়াতে আসেন ।নদী ও বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে শিব পার্বতী মুগ্ধ হয়ে নিজেদের হরিণে পরিণত করে এই এলাকায় ঘুরে বেড়ানো শুরু করলেন।

কিছুদিন পরেই দেবতা ও মানুষরা শিবকে খুঁজতে শুরু করলেন।বিভিন্ন ঘটনার পর দেবতারা শিবকে খুঁজে পেলেও তিনি এই স্থান ত্যাগ করতে অস্বীকার করেন।শেষ পর্যন্ত শিব ঘোষণা করলেন যেহেতু তিনি বাগমতীর তীরে হরিণ বেশে ঘুরেছেন সেহেতু তিনি এখানে পশুপতিনাথ বা পশুদের অধিকর্তা বলে পরিচিত হবেন।এই মন্দির কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা সঠিক ভাবে জানা না গেলেও চতুর্থ শতাব্দী থেকে এখানে মন্দিরের অস্তিত্ব ছিল।৭৫৩ খ্রিস্টাব্দে লিচ্ছবি রাজা সুপুস পদেভ এখানে একটি পাঁচ তলা মন্দির নির্মাণ করেন।একাদশ শতকে রাজা শিবদেব এই মন্দিরের সংস্কার করেন।১৭শ শতকে রাজা ভূপেন্দ্র মল্ল মন্দিরটি পুনর্নিমাণ করেন ।

 প্রবেশদ্বার দিয়ে ঢোকার পর একটি বিশাল প্রাঙ্গনের মাঝখানে পশুপতিনাথের মূল মন্দিরটি নেপালের প্যাগোডা রীতিতে তৈরি।কৌণিক গঠন,কাঠের কারুকার্য এ সবই নেপালের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যরীতির অংশ। মন্দিরটি চারকোণা ।একস্তর বিশিষ্ট ভিত্তিভূমির ওপর স্থাপিত মন্দিরটি ভূমি থেকে ২৩.৬ মিটার উঁচু ।মন্দিরটির সারা গায়ে সোনা ও রূপার কারুকাজ করা ।দেবদেবীর মূর্তি খোদাই করা হয়েছে মন্দিরের দেয়ালে । দু’স্তর বিশিষ্ট ছাদ তামার তৈরি তাতে সোনার প্রলেপ দেওয়া ।মন্দিরটির চারটি প্রধান দরজা । চারটি দরজাই রূপা দিয়ে মোড়া ।প্রতিটি দরজার দু’পাশে সোনা দিয়ে প্রধান দেবদেবীদের মূর্তি তৈরি করা হয়েছে ।মন্দিরের ভিতরে রয়েছে একটি পবিত্র কক্ষ । এই চারটি মুখ পশুপতিনাথ বা শিবের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্কিত চার দেব বিষ্ণু,সূর্য,পার্বতী ও গণেষের । মন্দিরের চূড়া সোনার তৈরি । পশ্চিম দরজার সামনে রয়েছে একটি বিশাল ষাঁড়ের মূর্তি যার নাম নন্দী ।নন্দী মূর্তিটি ব্রোঞ্জের তৈরি সোনার প্রলেপ দেওয়া । মন্দিরের ছাদের নিচের দেয়ালে সপ্তদশ শতাব্দীতে কাঠের অপূর্ব কারুকার্যের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শিব,পার্বতী,গণেষ,কুমার কার্তিক এবং যোগিনীদের মূর্তি ।

 এছাড়া রয়েছে হনুমান,রাম,সীতা,লক্ষ্মণসহ রামায়ণের বিভিন্ন চরিত্র ও পুরাণের বিভিন্ন কাহিনী ও দেবদেবীর ছবি । পশুপতিনাথের প্রাঙ্গনেই রয়েছে আরো বেশ কয়েকটি প্রাচীন মন্দির ।মন্দিরের দক্ষিণে আছে ৭ম শতকে তৈরি লিচ্ছবি মন্দির চাদেশ্বর,উত্তরে রয়েছে নবম শতকে নির্মিত ব্রহ্মা মন্দির ।এছাড়া রয়েছে একাদশ শতকে নির্মিত গুহেশ্বরী মন্দির,চতুর্দশ শতকে নির্মিত রাম মন্দির ও বৈষ্ণব মন্দির। পশুপতিনাথের উত্তর-পূর্বদিকে আছে প্রাচীন বাসুকিনাথের মন্দির ।নাগ দেবতা বাসুকি পশুপতিনাথ শিবের সঙ্গী ।মূল মন্দিরে প্রবেশের আগে অনেকেই বাসুকিনাথের মন্দিরে পূজা দেন।পশুপতিনাথের মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে চলছে বাগমতী নদী ।পুণ্যার্থীরা এই নদীতে স্নান করেন।

এজন্য নদীর দু’তীরে রয়েছে অনেক ঘাট।এর মধ্যে উনিশ শতকে প্রতিষ্ঠিত আর্য ঘাট বিশেষ গুরুত্ব বহন করে ।এ ঘাটে শুধু মাত্র নেপালের রাজপরিবারের সদস্যদের মরদেহ দাহ করা হতো । তবে ভষ্মেশ্বর ঘাটে মূল শ্মশান অবস্থিত ।এই ঘাট হলো কাঠমান্ডু উপত্যকার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শ্মশান ঘাট । নদীর তীরে গেলেই দেখা যায় সারি সারি চিতা জ্বলছে। গৌরি ঘাট হলো নারীদের স্নানের জন্য বহুল ব্যবহৃত ঘাট ।

নেপালের পশুপতিনাথ মন্দির তার অপূর্ব শৈল্পিক কারুকার্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য বিশ্ব বিখ্যাত । পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক পশুপতিনাথের মন্দির দেখতে যান ।

Image result for সূর্য মন্দির কোনার্ক:

সূর্য মন্দির কোনার্ক : ভারতের বিখ্যাত সূর্য মন্দির কোনার্ক ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের এই সূর্য মন্দিরকে অপূর্ব স্থাপত্যশৈলী ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের জন্য ইউনেস্কো বিশ্ব সভ্যতার একটি উত্তরাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে।

উড়িষ্যায় পুরী ও ভুবনেশ্বরের কাছে বঙ্গোপসাগরের বেলাভূমিতে ১৩ শ শতকে পূর্ব-গঙ্গা রাজ্যের অধিপতি মহারাজ নরসিংহ দেব সূর্য দেবতার আরাধনার জন্য এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন।এই মন্দির তার অভিনব আকার,বিশালত্ব আর কারুকার্যের জন্য ভারতের সপ্তমাশ্চর্যের অন্যতম। তামিল শব্দ কোণ আর সংস্কৃত শব্দ অর্ক মিলে কোনার্ক শব্দটির সৃষ্টি।উড়িষ্যা ও দ্রাবিড় স্থাপত্যরীতির সংমিশ্রণে নির্মিত মন্দিরটি ধূসর বেলে পাথরে বিশাল একটি রথের আকারে গড়া হয়েছে।সমুদ্র থেকে উঠে আসা সূর্যদেবের বিশাল রথ,তার সামনে রয়েছে সাত জোড়া ঘোড়া।বারো জোড়া বিশাল চাকার ওপর পুরো মন্দিরটি নির্মিত।চাকার কারুকার্য দর্শকদের জন্য একটি প্রধান আকর্ষণ।

প্রতিটি চাকা একেকটি সূর্যঘড়ি।চাকার ভেতরের দাঁড়গুলো সূর্যঘড়ির সময়ের কাঁটা।এখনো নিখুঁতভাবে সময় জানা যায় এই সূর্যঘড়ির সাহায্যে।মন্দিরের প্রবেশ পথেই রয়েছে বিশাল দুটি সিংহের মূর্তি যারা লড়াই করছে দুটি রণহস্তীর সঙ্গে।মন্দিরের বেদী থেকে শুরু করে চূড়া পর্যন্ত প্রতি ইঞ্চি জায়গায় পাথরের ভাস্কর্য ও কারুকার্য রয়েছে ।
 

দেবতা,অপ্সরা,কিন্নর,যক্ষ,গন্ধর্ব,নাগ,মানুষ,বিভিন্ন প্রাণী,পৌরাণিক বিভিন্ন ঘটনার প্রতিরূপ,নৃত্যরত নরনারী,প্রেমিক যুগল,রাজদরবারের বিভিন্ন দৃশ্য,শিকারের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পাথরের বুকে । মূর্তিগুলোর মানবিক আবেদন,নিখুঁত গড়ন,লীলায়িত ভঙ্গী শিল্পকলার চরম উত্‍কর্ষের নিদর্শন । কলিঙ্গ রীতিতে নির্মিত মন্দিরের চূড়াগুলো পিরামিড আকৃতির।মন্দিরের সামনে রয়েছে নাটমন্ডপ ।এখানে একসময় দেবদাসীরা দেবতার উদ্দেশ্যে পূজানৃত্য পরিবেশন করতেন । মন্দিরের ভিতরে রয়েছে নাটমন্দির,ভোগমন্দির ও গর্ভগৃহ।মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ৮৫৭ ফুট । তবে মন্দিরের অনেক অংশ এখন বালিতে দেবে গেছে।

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71