বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
সংসদীয় সীমানার চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ
দশম সংসদের ২৫টি আসনের পরিবর্তন
প্রকাশ: ১০:৫৯ am ০১-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:৫৯ am ০১-০৫-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক:
 
 
 
 


জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের ২৫টির সীমানায় পরিবর্তন এনে  এ বিষয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ডিসেম্বরে (সম্ভাব্য) অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন গেজেট অনুযায়ী হবে।

সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশন সভায় ৩০০ আসনের সীমানা চূড়ান্ত করা হয়। এর আগে গত ১৪ মার্চ ৪০টি আসনের সীমানা পরিবর্তন করে খসড়া গেজেট প্রকাশ করেছিল ইসি। এর পক্ষে-বিপক্ষে ছয় শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। গত ২১, ১৩, ১৪ ও ২৫ এপ্রিল আবেদনের উপর শুনানির পর খসড়ার মধ্যে থেকে ২৩টি বহাল রাখা হয়েছে। আর খসড়ার বাইরে সিরাজগঞ্জ-১ ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনে পরিবর্তন এসেছে।

এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, খসড়া প্রকাশের সময় ৪০টি আসনে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। পরে খসড়ার উপরে দাবি-আপত্তি পড়ে ৬০টি আসনের উপরে। এসব দাবি-আপত্তি, মতামত ও সুপারিশ শুনানি শেষে এখন ৪২টি আসনের মধ্যে ২৫টিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং ১৭টি আপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ছিটমহল, নবগঠিত উপজেলা এবং দ্বিখণ্ডিত প্রশাসনিক ইউনিটগুলো একত্রিত করে এবার ২৫টি সীমানায় পরিবর্তন এনে পুননির্ধারণ করা হয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

২৫ আসনে পরিবর্তন যেভাবে:

নীলফামারীতে দু’টি আসন পরিবর্তন করা হয়েছে। জলঢাকা উপজেলা নিয়ে নীলফামারী-৩ করা হয়েছে। বাদ দেয়া হয়েছে কিশোরগঞ্জ উপজেলার (রনচন্ডি, বড়ভিটা ও পুটিমারী) ৩টি ইউনিয়ন। সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে করা হয়েছে নীলফামারী-৪ আসন। রংপুরে ২টি আসনে পরিবর্তন এসেছে। বিদ্যমান রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে এবার যুক্ত করা হয়েছে রংপুর সিটির ১ থেকে ৮ নম্বর ওয়ার্ড। রংপুর সদর এবং রংপুর সিটির ১ থেকে ৮ ওয়ার্ড বাদ দিয়ে রংপুর-৩ আসন করা হয়েছে। ইসির চূড়ান্ত হিসাবে অর্ন্তভূক্ত না হলেও রংপুর-৪ আসনেও পরিবর্তন এসেছে। পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে রংপুর-৪ আসন করা হয়েছে। বাদ দেয়া হয়েছে রংপুর সিটির সংশ্লিষ্ট এলাকাসমূহ।

কুড়িগ্রামে পরিবর্তন হয়েছে দু’টি আসনে। কুড়িগ্রাম-৩ আসনটি ২০১৩ সালে উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়ন ব্যতিত এবং চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ও নয়ারহাট ইউপি বাদ দিয়ে গঠন করা হয়েছিল। এবার শুধু উলিপুর উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠন করা হয়েছে। আর কুড়িগ্রাম-৪ আসনটি করা হয়েছে রৌমারী, রাজিবপুর এবং চিলমারী উপজেলা নিয়ে।

সিরাজগঞ্জ-১ ও ২ সংসদীয় আসনে এবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ-১ আসনটি গঠন করা হয়েছে কাজীপুর উপজেলা এবং সিরাজগঞ্জ সদরের মেছড়া, রতনকান্দি, বাগবাটি, ছোনগাছা এবং বহুলী ইউপি নিয়ে। আগে এই আসনটিতে বহুলী ইউপি ছিল না। আর সিরাজগঞ্জ-২ আসনটি গঠন করা হয়েছে কামারখন্দ উপজেলা এবং সদরের পাঁচটি ইউপি বাদে। এই আসনে আগে বহুলী ইউপি যুক্ত ছিল। 

খুলনার দু’টি আসনের মধ্যে খুলনা-৩ আসনটি খুলনা সিটির ১ থেকে ১৫টি ওয়ার্ড এবং দিঘলিয়া উপজেলার আড়ংঘাটা ও যোগীপোল ইউপি নিয়ে গঠন করা হয়েছে। খুলনা-৪ আসনটি দিঘলিয়া উপজেলার আড়ংঘাটা এবং যোগীপোল ইউপি ব্যতিত রূপসা এবং তেরখাদা নিয়ে করা হয়েছে। আগে দিঘলিয়া, রূপসা এবং তেরখাদা উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠন করা হয়েছিল।

জামালপুরের দু’টি আসনে পরিবর্তন করা হয়েছে। সরিষাবাড়ি এবং জামালপুর সদরের দু’টি ইউপি নিয়ে আগে জামালপুর-৪ আসন করা হয়েছিল। এবার শুধু সরিষাবাড়ি উপজেলা নিয়ে আসনটি করা হয়েছে। পাশাপাশি জামালপুর-৫ করা হয়েছে শুধু জামালপুর সদর নিয়ে।

দু’টি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে পরিবর্তন এনে নতুন করে করা হয়েছে সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১০টি ওয়ার্ড এবং নারায়ণগঞ্জ সদরের আলীরটেক এবং গোগনগর ব্যতীত বাকী ইউপি নিয়ে। আগে ফতুল্লা এবং সিদিরগঞ্জ থানা নিয়ে আসনটি করা হয়েছিল। আর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি সদরের আলীরটেক, গোগনগর ইউপি, বন্দর উপজেলা এবং সিটির ১১ থেকে ২৭ ওয়ার্ড নিয়ে করা হয়েছে। আগে আসনটি  নারায়ণগঞ্জ থানা এবং বন্দর থানা নিয়ে ছিল।

সিলেটে দু’টি আসনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে সিলেট-২ আসনটি করা হয়েছে। আগে আসনটি ছিল বিশ্বনাথ উপজেলা এবং বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজার, পূর্ব গৌরীপুর এবং পশ্চিম গৌরপুর ইউপি ব্যতিত ইউপি নিয়ে। দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে সিলেট-৩ আসন করা হয়েছে। আগে এই আসনটি ছিল দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং বালাগঞ্জের ৩টি ইউপি নিয়ে। শুধু কুলাউড়া উপজেলা নিয়ে এবার মৌলভীবাজার-২ আসন গঠন করা হয়েছে। আগে আসনটি ছিল কুলাউড়া এবং কমলগঞ্জের ৪টি ইউপি নিয়ে। মৌলভীবাজার-৪ আসনটি শ্রীমঙ্গল এবং কমলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠন করা হয়েছে। এই আসনটি আগে শ্রীমঙ্গল এবং কমলগঞ্জের ৪টি ইউপি ব্যতিত গঠিত হয়েছিল।

নবীনগর উপজেলা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসন গঠন করা হয়েছে। এই আসনটি আগে নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ও ছলিমগঞ্জ ইউপি বাদে গঠিত হয়েছিল। এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনটি থেকে বড়িকান্দি ও ছলিমগঞ্জ ইউপি বাদ দিয়ে শুধু বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নিয়ে গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নিয়ে আগে কুমিল্লা-৬ আসনটি করা হয়। এবার কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা, কুমিল্লা সিটি এবং কুমিল্লা সেনানিবাস নিয়ে আসন গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ এবং নাঙ্গলকোট উপজেলা নিয়ে এই কুমিল্লা-১০ আসনটি আগে গঠন করা হয়েছিল। এবার আসনটির সঙ্গে লালমাই উপজেলা যুক্ত করা হয়েছে। কুমিল্লা-৯ আসনটি ২০১৩ সালে যেভাবে (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা) এবারও সেভাবে রাখা হলেও পরিবর্তনের তালিকায় রাখা হয়েছে। ইসি বলছে, লালমাই উপজেলা গঠনের সময় লাকসামে ইউপি যুক্ত আছে।

সুবর্ণচর এবং নোয়াখালী সদর উপজেলা নিয়ে নতুন করে নোয়াখালী-৪ আসনটি করা হয়েছে। সুবর্ণচর এবং নোয়াখালী সদরের নেয়াজপুর এবং অশ্বদিয়া ইউপি বাদ দিয়ে আসনটি গঠন করা হয়েছিল। কোম্পানীগঞ্জ এবং করিবহাট উপজেলা নিয়ে নোয়াখালী-৫ আসন করা হয়েছে। এই আসন থেকে নোয়াখালী সদরের দু’টি ইউপি বাদ দেয়া হয়েছে।

ইসির খসড়ায় পরিবর্তন আনা হলেও চূড়ান্ত গেজেটে ১৭টি আসনে পরিবর্তন আসেনি। আসনগুলো হলো-পাবনা-১, ২, মাগুরা-১, ২, সাতক্ষীরা-৩, ৪, ঢাকা-২, ৩, ৭, ১৪, ১৯ শরীয়তপুর-২, ৩, কুমিল্লা-১, ২, চট্টগ্রাম-৭, ৮।

 

ইসির সাংবাদিক সম্মেলন

গেজেট প্রকাশ উপলক্ষ্যে সোমবার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংসদীয় আসনের সীমানা পুননির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটির প্রধান, নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম।

২৫টি আসন পরিবর্তনে কোন মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি আসনের উপর ভিত্তি করে, আমরা পূর্ববর্তী ২০১৩ সালের সীমানার মধ্য থেকে ৪০টিতে পরিবর্তন এনেছিলাম। কিন্তু ৩০০ আসনের গেজেট করেছিলাম। ফলে যে কোনো ব্যক্তি ৩০০ আসনের ওপরে দাবি আপত্তি পেশ করেছে। তাদের দাবি আপত্তিগুলো কিছু গ্রহণ করেছি এবং আমাদের যেগুলো ছিল সেগুলো কিছু গ্রহণ করেছি কিছু বাদ দিয়েছি। মূলত প্রতিটি আসনকে প্রশাসনিক ইউনিট ধরে এবং তাদের (আপত্তি) ওই আসনের উপরে যুক্তি ও যৌক্তিকতা ছিল সেগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে এই আসন বিন্যাস করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের চাপে আসন পরিবর্তন কমিয়ে আনা হয়েছে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, আমরা শুনানি নিয়েছি, আর আওয়ামী লীগের চাপে যদি বলেন, ওনারা আমাদের সংলাপ এবং শুনানিতে যেটা বলেছেন, ২০১৩ সালে বিন্যাস হওয়া আসন বহাল রাখার জন্য। কিন্তু আমরা নিশ্চিতভাবে দেখতে পাচ্ছেন, আসন বিন্যাস হয়েছে ২০১৩ সালের আলোকে নয়, ২০০৮ সালের আগে যে খণ্ডিত উপজেলা ছিল সেগুলো অখণ্ড রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, সীমানা বিন্যাসটা জনগনের জন্য, জনপ্রতিনিধিদের জন্য এবং সংসদীয় এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জন্য। তাই ওনাদের বক্তব্যকে বিবেচনা করা ছাড়া কোন অবস্থায় সীমানা বিন্যাস করা আদৌ যোক্তিক হবে না এবং যৌক্তিক নয়।

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৩ ও ৪ সংসদীয় আসনটি অপরিবর্তিত রাখার যৌক্তকতা তুলে ধরে বলেন, কালিগঞ্জের ৪টি ইউনিয়নকে (চম্পাফুল, ভাড়াশিমলা, নলতা ও তারালি) মূল উপজেলার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে শ্যামনগর উপজেলা ও কালিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসনটি বিন্যাস করেছিলাম। কিন্তু কালিগঞ্জ উপজেলাটি একটি বিশাল খাল দিয়ে বিভক্ত এবং এই খালটি অনেক বড়। এটিকে খাল না বলে বলা যায় নদী। তাই সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ যদি বিকাল ৫টায় শেষ হয় এবং এটি এমন একটি দুর্গম এলাকা সেখান থেকে ভোট গণনা, নির্বাচনী সামগ্রীগুলো নিয়ে এসে ফলাফল ঘোষণা করা কিছুটা হলেও আমরা বাধার সম্মুখীন হতে পারি। এছাড়া ওই এলাকায় অন্য কোন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে তাহলে নির্বাচনী ফল নিয়ে আমরা কিছুটা বিপদগ্রস্থ হতে পারি।

অন্য এক প্রসঙ্গে কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী অক্টোবরের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71