সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
সোমবার, ২৬শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
দাঁড়িবিট বিদ্যালয়ে হত্যাকান্ড, পশ্চিমবঙ্গে পাকিস্তানের আগ্রাসন!
প্রকাশ: ০৯:৩৩ pm ১৪-১০-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:৩৩ pm ১৪-১০-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


রাজু দাশ

'ভারতের বিভিন্ন অংশে মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে বাঙালি জনগোষ্ঠী বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন শুরু করে। অবিভক্ত ভারতে ১৯১২ সালে মানভূম জেলায় বাংলাভাষার জন্য যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল তা ১৯৫৬ সালে এসে থামে। আসামের বরাক উপত্যকারও ১৯৬০ সালের এপ্রিলে বাংলা ভাষা আন্দোলন শুরু হয় এবং সে ভাষা ১৯৬১ সালে ২০ মে এসে সে অঞ্চলে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে। ভারতের অন্যান্য প্রদেশে বাংলা ভাষা আন্দোলন আজও বিদ্যমান। তারমধ্যে ঝাড়খন্ড, বিহার, ছত্রিশগড়, কর্ণাটক ও দিল্লিতে বাঙালি মাতৃভাষার দাবিতে লড়াই করছে।'

'এবার মাতৃভাষা বাংলার জন্য বিক্ষোভে উত্তাল হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ইসলামপুরের দাঁড়িভিট। মানভূম, আসামের আন্দোলন গুলো ভারতের অভ্যন্তরীণ ভাষা আন্দোলন হলেও ইসলামপুরের আন্দোলনটি একেবারে ভিন্ন আন্দোনল। অন্য দেশের ভাষা পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে ছেয়েছে তাও আবার পশ্চিমবঙ্গের মানুষের দ্বারাই! যা ভারতের বুকে পশ্চিমবঙ্গে একটি কলঙ্কিত অধ্যায়।'

'প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের দাঁড়িভিট হাইস্কুলে বাংলার পরির্বতে উর্দূ ভাষা ব্যবহার ও বাংলা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ বাদ দিয়ে উর্দূ বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ করার প্রতিবাদে ছাত্রদের উপর মমতা সরকারের পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে রাজেশ সরকার নামে এক প্রাক্তনী ছাত্র এবং হাসপাতালে তাপস বর্মন নামে আরো ছাত্র নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ১০ জন।'

'দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের দাড়িভিটে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে গণ্ডগোল চলছে। যে বিষয়ের শিক্ষক দরকার তা না করে অন্য বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা অসন্তোষ জানিয়ে আসছিল। স্থানীয় গ্রামবাসীরাও এই নিয়োগের বিরোধিতা করছিল। ছাত্র-ছাত্রীদের বিরোধিতা ফলাফল যখন দুই প্রাক্তনী ছাত্রের মৃত্যু তখন বাংলার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ল। তাদের মনে প্রশ্ন জাগে বাংলায় কেনো উর্দূর আগ্রাসন? মমতা সরকার বাংলাকে কি বানাতে চাই? দাঁড়িভিট হাইস্কুলে উর্দূভাষার কোন ছাত্র-ছাত্রী নাই সেখানে দরকার বাংলা ভাষার শিক্ষক তাহলে ওই ইস্কুলে বাংলাভাষার শিক্ষক না নিয়ে উর্দূভাষার শিক্ষক কেন নিয়োগ দিলেন? কার নির্দেশে, কার স্বার্থে এই নিয়োগ দিলেন? তাও আবার তিনজন উর্দূ শিক্ষক!'

'যে বাংলাভাষার জন্য বাংলাদেশের বাঙ্গালীরা পাক বাহিনীর বুলেটের কাছে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে বাংলাভাষাকে বিশ্বে দরবারে করেছে মহিমান্বিত। গৌরবসরূপ বাঙ্গালীরা ইউনেস্কো থেকে ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে পেয়েছে অান্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের মাঝখানে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও ভূগোলিক, সংস্কৃতি ও ভাষা এক হওয়ার কারনে বাংলাদেশের অর্জিত গৌরবের ভাগিদার পশ্চিমবঙ্গও। কিন্তু সেই গৌরবকে আজ মমতা সরকার করেছে কলঙ্কিত। ১৯৫২ সালে পশ্চিম পাকিস্তান সরকার যখন পূর্ব পাকিস্তনের (বাংলাদেশ) বাঙ্গালীদের উপর রাষ্ট্রভাষা উর্দূ চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল, সেই উর্দূ ভাষার কাছে আমরা বাঙ্গালীরা আমাদের মধুর প্রাণের ভাষা বাংলাকে মাথা নত করতে দেয়নি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ইসলামপুরের দাঁড়িভিট হাইস্কুলের অমানবিক ঘটনাটি আজ অপমানিত করেছে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি বাংলাভাষার গৌরবকে। যে উর্দূ ভাষা বাংলাদেশের মাটিতে স্থান পেলনা সে ভাষাটি আজ বাংলাপ্রদেশ পশ্চিমবঙ্গে স্থান করে নিচ্ছে। যা ভাবতে বাঙ্গালী জাতীর জন্য খুবই লজ্জা।'

'মমতা বন্দোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে বাংলা রাখার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র সরকারের বিপক্ষে আন্দোলন করে যাচ্ছে। এই আন্দোলনের ফলে তাকে দেশপ্রেমিক বলা যায়। কিন্তু তার রাজ্যে উর্দূর আগ্রাসন থেকে মুক্তির জন্য শহীদ হওয়া ঘটনা তার দেশপ্রেমকে করেছে আজ প্রশ্নবিদ্ধ। কিসের জন্য, কাকে খুশি করার জন্য আজকে এই হত্যা? কোন বিক্ষোভে পুলিশ সহজে সরাসরি গুলি করতে পারে না। গুলি করতে গেলে উপরের মহল থেকে নির্দেশ নিতে হয়। ফলস্বরূপ এই দুইজন ছাত্রের মৃত্যুতে রাজ্য সরকারের হাত থাকা স্বাভাবিক। যেহেতু পুলিশকে রাজ্য সরকারই চালায়।'

'কেন্দ্রের বিজিপি সরকার যখন দেশের উন্নয়নের জন্য কোনো উন্নয়নমূলক কর্মসূচি হাতে নেয় তখন ভারতে বুদ্ধি বিক্রি করে খাওয়া বুদ্ধিজীবী মানুষগুলোর দেশপ্রেম বেড়ে যায়। মোদি সরকার দেশকে রসাতলে নিয়ে যাচ্ছে, দেশকে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে রাস্তায় রাস্তায় মোমবাতি ও প্লে কার্ড মিছিল বের করে। কিন্তু আজ ইসলামপুরের কান্ডে তারা নিরব! এক আখলাদের মৃত্যুর জন্য দেশ অসহিষ্ণু হয়ে গেছে বলে তারা পুরষ্কার ফেরত দিয়েছিল কিংবা শম্ভুলালের জন্য দেশে সংখ্যালঘুরা অনিরাপদ বলে সারাদিন চোখের পানি ফেলেছিল কিন্তু রকেশ আর তাপসের বেলায় তাদের চোখে পানি নাই! মোমবাতি কেনার টাকাও নাই! ইসলামপুরের কান্ডের জন্য তাদের দেশপ্রেম উতলে উঠতেও দেখছি না। কারন দাউদ ডলার বন্ধ হয়ে যাবে সেই ভয়। আবার রাজ্য মমতা সরকার যখন দেশবিরোধী কোন কাজ করে তখন বুদ্ধি বিক্রি করে খাওয়া মানুষগুলো চুপ তাকে। মনে হয় তারা যেন একি মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।'

'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ২০ সেপ্টেম্বরের ঘটনার জন্য আরএসএসকে দায়ী করেছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ মমতা সরকারের পুলিশ গুলি চালিয়েছে। সেই গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে দুই ছাত্রের। নিহতের পরিবারও পুলিশের দিকে আঙ্গুল তুলেছিল। নিহতের পরিবারের পাশে তখন কোনো বুদ্ধিজীবী না দাঁড়ালেও বিজেপি নিহতদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তারা সারা দেশে মমতা সরকারের এই অমানবিক কাজের জন্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। ১২ ঘণ্টার উত্তর দিনাজপুর জেলা বনধের ডাক দিয়েছিল। এবং বনধ সমর্থক ১০ বিজেপি কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। বিজেপির এই জাতীয়তাবাদী কাজ অবশ্যই প্রশংসনীয় এবং দেশের জন্য মঙ্গলকর।'

'পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবী গুলোকে না হয় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের খাতায় রাখলাম কিন্তু জাতীয়তাবাদী তরুণ সমাজকে উর্দূভাষার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন করতে হবে। মমতা সরকারের দেশবিরোধী কাজকর্মের বিরুদ্ধেও তীব্র আন্দোলন করতে হবে। কারন তার প্রতিটি কাজকর্ম একটি বিশেষ ধর্মের লোকদের জনবল বৃদ্ধির করার জন্য এবং পশ্চিমবঙ্গে অন্য একটি দেশের আগ্রাসন বৃদ্ধির সুবিধা করে দেওয়া। প্রয়োজনে কেন্দ্র সরকারের সাহায্য নিয়ে তার দেশবিরোধী কাজকর্ম গুলো প্রতিহত করতে হবে। তা না হলে তার এই দেশবিরোধী কাজকর্ম অদূরভবিষ্যতে ৪৭ এর মতো ভারতবর্ষকে আবার খন্ডিত করবে। ভারতবর্ষ আবার কলঙ্কিত হবে।'
.
নি এম/রাজু দাশ
বাংলাদেশি অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71