মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ২৯শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
মন্তব্য প্রতিবেদন
দিবা রানী গুন্ডী এবং আমাদের অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ: ০৩:৪৫ pm ০৫-০৮-২০১৮ হালনাগাদ: ০৩:৫৫ pm ০৫-০৮-২০১৮
 
দেবব্রত রায় দিপন :
 
 
 
 


৩০ জুলাই সোমবার হেলিকপ্টারযোগে সিলেট আসলেন আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মোহিত। ঐদিন আবুল মোহিত ক্রিড়া কমপ্লেক্স মাঠে নেমে রিক্সাযোগে নিজ ভোট কেন্দ্রে আসেন বেলা ১১ টায়। নগরীর দুর্গাকুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে তিনি মুখোমুখি হন সাংবাদিকদের। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বললেন, নির্বাচন সুষ্টু হচ্ছে এবং বিএনপির করা কারচুপির অভিযোগও সত্য নয়। তিনি এও বললেন, মেয়র প্রার্থী হিসেবে আরিফ-কামরান দু’জনেই ভালো মানুষ। কথাটা একবারেই মন্দ বলেননি তিনি। একজন প্রাজ্ঞজন হিসেবে এই বক্তব্যটি ততোটা অগ্রহণযোগ্য মনে হয়নি আমার কাছে।

কিন্তু হঠাৎ তিনি আক্রোশ মেটালেন এক সংরক্ষিত আসনের সংখ্যালঘু কাউন্সিলারের প্রতি। ক্ষোভের সাথে বললেন, এই শহরে একটি গুন্ডি আছে, নাম দিবা রানী। দিবা গুন্ডিকে তিনি ভোট না দিতে ভোটারদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন।

কোনও গুন্ডা/গুন্ডি, দুর্নীতিবাজ কাউকেই আমরা ভোট দিতে পারিনা। কথাটি সর্বাংশে সত্য। মাননীয় অর্থমন্ত্রী, এমন বক্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। দুর্ভাগ্যক্রমে এই গুন্ডির আসনের ভোটার যেমন আপনি, তেমনিভাবে আমিও-তাই না বলে পারছিনা। শেয়ারবাজার কেলেংকারী, লোটপাট, বাংকের টাকা গায়েব, হলমার্ক কেলেংকারী, আপনার দলের রাঘব বোয়াল এমনকি আপনার নাম পূঁজি করে এই সিলেটে যারা রাতারাতি কোটি টাকার মালিক বনে গেলো, তাদের বিরুদ্ধে আপনাকে এভাবে কখনো চেচাঁতে দেখিনি। শুধুমাত্র আপনার নাম ফেরি করে সিলেটের অনেক অখ্যাত ব্যক্তিদেরও দেখিছি কোটিপতি হয়ে যেতে। সে হিসেব আপনার জানা আছে কিনা-এ বিষয়েও আমার জানার আগ্রহ তেমন একটা নেই ।  
আমি ভাবছি ভিন্ন কথা। নির্বাচনের দিন এতো কষ্ট করে আপনি ভোট দিতে সেন্টারে আসায়, সিলেটের অনেক ভোটারই অনুপ্রাণীত হয়েছে। দলীয় প্রার্থী হিসেবে আপনাদের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সম্পর্কে দুটি কথা বলবেন, এটাই ছিলো প্রত্যাশিত। কিন্তু আমাদের হতাশ হতে হলো এই কারণে যে, আপনার মুখ থেকে কামরান সাহেবকে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে কোনও নির্দেশনা মেলেনি। হয়তোবা নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন হবে বলে আপনি বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। খুব ভালো করেছেন আপনি। আপনাকে আচরণবিধির বাহিরে যাওয়া খুব একটা ভালো দেখায়না। 
কিন্তু আমরা হতাশ হই, যখন দেখি একজন সাধারণ কাউন্সিলর দীবা রানী সম্পর্কে আপনি খেদোক্তি করেন, খোদ মিডিয়ার সামনে। দলীয় প্রার্থীর বাইরে এই টুনকো বিষয় নিয়ে আপনি মন্তব্য করতে এতোটা ব্যতিব্যস্থ কেনো, বিষয়টি বোধগম্য নয়।

দিবা রানী কে আপনার দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী ফেল করানো হয়েছে। তবুও তিনি ভোট পেয়েছেন, সাড়ে ৫ হাজারের উপরে। হয়তোবা এমনটি আপনি চাইতেই পারেননা। তবুও যা ঘটে গেলো, তাতে দিবারানীদের মনে সংশয় দানা বাঁদাটাও কিন্তু স্বাভাবিক। দিবা রানী আপনার দল করেননা, সে হিসেবে আপনি নাখোশও হতে পারেন। অথবা, দিবা রানী আপনার ভাষায় গুন্ডি হলেও এই ওয়ার্ডে আপনার দলের মহিলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী একজন নেত্রী কিন্তু কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ছিলেন। সে অবস্থায় আপনি গুন্ডি দীবা রানীর পরিবর্তে ঐ মহিলাকে নির্বাচিত করার পরামর্শ দিতে পারতেন। কিন্তু সেটাও আপনি করেননি। কেনো করেননি-তাঁর উত্তর আপনার কাছে চাইছিনা। তবে এটা জানি, আপনি একজন স্বজ্জন লোক। সে হিসেবে কারো পক্ষে ভোট না চাওয়াটা হয়তোবা আপনাকে আরো মহিয়ান করে তুলতে পারে। কিন্তু দিবা রানীর মতো এক কাউন্সিলার প্রার্থীকে ভোট না দিতে যখন আপনার আহবান আমাদের কানে পৌছে, তখন এই সত্যটি আমাদের কর্ণকে বিশ্বাস করাতে খুবই কষ্ট হয়।

দিবা রানী হেরে গেলেন। হয়তোবা এতে আপনার মুখ রক্ষা হয়েছে। কিন্তু যিনি বিজয়ী হলেন, সেই মহিলার ইতিহাস কিছু আপনি জানেন কি ? নাকি কারো শেখানো বুলি আপনাকে আওড়াতে হয়েছে ? তাছাড়া, দীবা রানীর ক্ষেত্রে আপনার বিখ্যাত বুলি, ‘রাবিশ’ বাদ দিয়ে গুন্ডি বলে কটাক্ষ করার বিষয়টিও খুব ভালো ঠেকছেনা।

আমার বক্তব্য কিন্তু দিবারানীর পক্ষে নয়, বলছি সারাদেশে আপনার দলের এতোসব কালোটাকার মালিক বাদ দিয়ে হঠাৎ দিবারানীর মতো একজন সাধারণ মহিলার উদ্দেশ্যে আপনার বিদ্বেষাগার উন্মুক্তভাবে বর্ণনা করার আসল রহস্যটা কি ? আর সেই বক্তব্য আদৌ আপনার সাথে মানায় কি ? দিবারানী আপনার এবং আমার ওয়ার্ডের সদ্য বিদায়ী কাউন্সিলর। সংরক্ষিত ওয়ার্ডের একজন মহিলা কাউন্সিলর ৫ বছরে কতোটুকুই বা অর্জন করতে পারে ? আর যদি আপনার বর্ণনামতে দিবারানী গুন্ডিই হয়ে থাকে, তার বিরুদ্ধে আপনি কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেনননি কেনো ? এর জবাব কিন্তু আপনি এড়িয়ে যেতে পারেননা।

মামলা-মোকদ্দমা সবারই থাকে। দিবারানী কিংবা তাঁর পরিবারের উপরও থাকতে পারে। আপনার প্রিয়জন আরিফুল হক চৌধুরীও মামলা জালে জর্জরিত। তাছাড়া, একজন মহিলা গুন্ডামি করলে সিলেটের মিডিয়ার ছবি সহ তা প্রকাশ হতো। গুন্ডামির চিত্রটি দ্রুত সারা দেশেও ছড়িয়ে পড়তো। পেশাগত ভাবে একজন সংবাদকর্মী হয়েও আজ পর্যন্ত দিবারানীর গুন্ডামি আমার চোখে পড়েনি। সে ক্ষেত্রে আপনার চোখের কাছে আমাকে হার মানতে হলো। সবার চোখে ধরা না দিলেও দিবারানীর গুন্ডামির তথ্যটা আপনি ঠিকই জেনে গেলেন। আপনার এই চোখের সত্যিই প্রশংসা করতে হয়। এই চোখ দিয়েই কিন্তু আপনি প্রার্থী হয়েও নিজের ভোট নৌকায় দিতে গিয়ে বৈঠাতে সিল মারেন। নেহায়েত আপনার চোখ বলে কথা!
আপনার এই বিশাল চোখ কেবল রাঘব-বোয়ালদের দৃশ্যটি দেখতে পারেনা। আপনার এমন চোখ কখনোই হতাশার বুকে আশা জাগাতে পারেনা। তাই বলছি-আপনি দয়া করে অবসর নিন। আপনার চোখের যা অবস্থা, আপনার প্রতি ভরসা রাখতে পাছিনা।

 

দেবব্রত রায় দিপন
লেখক : কবি, সাংবাদিক ও সংগঠক

লেখকের নিজস্ব মতামত

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71