সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
দিয়াজ হত্যার বিচার চেয়ে অনশনে মা
প্রকাশ: ০৯:০৩ pm ২৭-১১-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:০৬ pm ২৭-১১-২০১৭
 
এইবেলা ডেস্ক:
 
 
 
 


গায়ে কাফনের কাপড়। তাতে লেখা ছেলের 'খুনিদের নাম'। সোমবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বঙ্গবন্ধু চত্বরের সামনে এভাবে আমৃত্যু অনশন শুরু করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক নিহত দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মা জাহেদা আমিন চৌধুরী। 

পরে সেখান থেকে তাকে চবি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে বেশিক্ষণ রাখা যায়নি তাকে। কিছুক্ষণ পর আবারও শহীদ মিনারের সামনে এসে ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে অনশন শুরু করেন জাহেদা আমিন চৌধুরী। প্রায় পাঁচ ঘন্টা অনশনের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাসায় নিয়ে যায়।

শহীদ মিনারে অবস্থানকালে দিয়াজের মা বলেন, আমার  ছেলের কবরের মাটি ছুয়ে শপথ করেছি, আল্লাহর কাছেও শপথ করে আসছি, এখান থেকে আমার লাশ নিতে হবে। তাই কাফনের কাপড় নিয়ে আসছি। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন আসামিও গ্রেফতার না হয়, এখান থেকে আমি সরবো না। যদি এখান থেকে আমাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে শহরের প্রেস ক্লাবের সামনে চলে যাবো। রাজপথে হাঁটবো। আমাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলুক, না হয় আমার  ছেলের আসামিদের গ্রেফতার করা হোক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১১টার দিকে গায়ে কাফনের কাপড় জড়িয়ে একটি ব্যানার হাতে চবি'র বঙ্গবন্ধু চত্বরে বসে কান্না করতে থাকেন দিয়াজের মা। কিছুক্ষন পর বিশ্ববিদ্যালয়র মেডিকেল সেন্টারের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. কামরুল হুদা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে অবস্থান নেন।

ড. কামরুল হুদা সাংবাদকিদরে বলেন, অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে তাকে মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো তথ্য চাইলে তদন্তকারীদের অবশ্যই সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান রেজিস্ট্রার।

দিয়াজের বড় বোন জোবাঈদা ছরওয়ার নিপা বলেন, সকালে অফিসে যাওয়ার সময় দিয়াজ হত্যা মামলার কয়েক আসামিকে স্বাভাবিকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে একেবারের নিশ্চুপ হয়ে যান মা। এরপর কাফনের কাপড় কিনে ব্যানারে নিজ হাতে আসামিদের নাম লিখে তিনি অনশন শুরু করেন। এখন মা অসুস্থ। তাই তাকে বাসায় নিয়ে আসছি আমরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে লাশের প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। ওই বছরের ২৩ নভেম্বর পুলিশ জানায়, দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে, এমন আলামত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মেলেনি। ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিয়াজের পরিবার ও চবি ছাত্রলীগের একটি অংশ। ছাত্রলীগের অন্য অংশটি দিয়াজের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। 

ওই মামলার আসামিরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আবুল মনসুর জামশেদ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা রাশেদুল আলম জিশান, আবু তোরাব পরশ, মনসুর আলম, আবদুল মালেক, মিজানুর রহমান, আরিফুল হক অপু ও মোহাম্মদ আরমান। 

পরে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ ডিসেম্বর কবর থেকে লাশ তুলে আবারও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। এরপর গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে দিয়াজের লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়াজকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এরপর গত ৭ আগস্ট এ মামলার আসামিদের গ্রেফতার, জিজ্ঞাসাবাদ, পাসপোর্ট জব্দ ও তারা যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন আদালত ।


ভিএস
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71