বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
দূর্গের কর্তা দেবী দুর্গা
প্রকাশ: ০১:৩১ pm ২১-০৯-২০১৭ হালনাগাদ: ০১:৩১ pm ২১-০৯-২০১৭
 
সজল চন্দ
 
 
 
 


এসেছে শরৎ। শরৎকালের শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মালম্বীদের আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান। ইতিহাস থেকে জানা যায় শারদীয় এ উৎসবটি অতি প্রাচীন। শ্রী শ্রী চন্ডী গ্রন্থে ( ১৩/৬-৯) তে উল্লেখ্য শারদীয় দুর্গোৎসব বা দুর্গাপূজা পুরাকালে মেধামুনি থেকে প্রচলিত হয়ে আজ অবধি চলছে। 

শরৎকালের এই শারদোৎসব তথা দুর্গাপূজা এই জড় জগতের মানুষ কেন করছে, দুর্গাদেবী কে? কি তাঁর পরিচয়? কিভাবে তাঁর উৎপত্তি এবং কিভাবে তিনি সর্বশক্তিমান পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আজ্ঞা পালন করছেন তা জানার আগ্রহ আমাদের সবারই আছে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে তা আমরা যথাযথভাবে কতটুকু জানতে পেরেছি।

যাহোক আলোচনার প্রথমে আসা যাক এই জড় জগতে পূজিত দুর্গা দেবী কে? কি তাঁর পরিচয়। শ্রী শ্রী চন্ডি গ্রন্থে ( ৫/৭) তে বলা হয়েছে, ভগবান বিষ্ণুর মায়া শক্তি হচ্ছেন দুর্গাদেবী। মায়ার সত্ব, রজ, তম: এই তিনটি গুণ আছে। শ্রী শ্রী চন্ডি গ্রন্থে আরো উল্লেখ আছে যে, এই মহামায়া দুর্গা মাতৃস্বরূপা,( মাতৃরূপেন সংস্থিতা)।। মায়ের মত তবে জগজ্জননী নন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন জগতের পিতা আর শ্রীমতি রাধা রাণী হচ্ছেন জগতের মাতা। সে সমন্ধে দেবর্ষী নারদ স্বয়ং বলেছেন, আবার দুর্গা শব্দটি দুর্গবিশিষ্টা। দুর্গ শব্দের অর্থ কারাগৃহ। এই কারাগার সদৃশ এই জড় জগতের যিনি কর্তা তিনি হচ্ছেন দুর্গা। তিনি দশভুজাযুক্তা, সিংহবাহিনী, মহিষাসুরমর্দ্দিনী, সিদ্বিরূপ সন্তানদ্বয় কার্তিক ও গণেশের জননী। জড়ঐশ্বর্য্যপূর্ণ দক্ষরাজ নন্দিনী পরম বৈষ্ণবী ভোলানাথের ঘরণী। তিনি কুড়ি প্রকার দিব্য অস্ত্রে সজ্জিত।

এতো গেল দেবীর পরিচয়, এবার আসা যাক দেবীর উৎপত্তি ও তিনি কার ইচ্ছায় এ জড় জগৎ পরিচালনা করছেন এবং ভৌতিক জগতের মানুষ কেনইবা তাঁর পূজা করে সে সর্ম্পকে বিস্তর আলোচনায়। দেবীর উৎপত্তি সম্পর্কে শ্রী শ্রী চন্ডী গ্রন্থে ( ২/১৮) তে বলা হয়েছে বিশ্বকর্মাদি দেবতাগণের তেজ: পুঞ্জ থেকে মহামায়া দুর্গার উৎপত্তি। আরো বলা আছে নিঃশেষ দেবগণ শক্তিসমূহ মূর্তা অর্থাৎ, দেবগণের শক্তিসমূহের ঘণীভূতমূর্তি মহামায়া দুর্গা। দুর্গাদেবী গুণময়ীশক্তি।( শ্রী শ্রী চন্ডী ১১/১১)। 

ভগবদ গীতার (৭/১৪) তে গুণময়ী মায়ার কথা বলা আছে, দৈবী হ্যেষা গুণময়ী.........। এই গুণময়ী মায়া অনতিক্রমনীয়া দুরত্যয়া অর্থাৎ এই মায়া অতিক্রম করা বড়ই দূরূহ। বৈষ্ণবী মায়া মহাকালী দুরত্যয়া ( শ্রী শ্রী চন্ডী)। তবে এই মায়াকে ও অতিক্রম করা যায়। কিভাবে? সে সম্পর্কে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং বলেছেন, যাঁরা আমার শরণাগত হয়, তারাই এই মায়াকে অতিক্রম করতে পারে। ষড়ঙ্গ শরণাগতি হইবে যাহার, তাহারও প্রার্থনা শুনে শ্রীনন্দকুমার। (ভক্তিবিনোদ ঠাকুর)। অর্থাৎ ভগবানের পাদপদ্মে ষড় অঙ্গ সমন্বিত শরণাগতি যার হবে তিনিই এই জড়কলুষতা থেকে মুক্তি লাভ করে ভগবানের পরম ধাম বৈকুন্টলোক প্রাপ্ত হবেন।

এবার দৃষ্টি দেওয়া যাক, এই গুণময়ী মায়াশক্তি দুর্গাদেবী কার আজ্ঞায় কিভাবে এই জড় জগৎ পরিচালনা করছেন। সে সমন্ধে ব্রহ্মসংহিতায় (৫/৪৪) ব্রহ্মা বলেছেন, সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় সাধন শক্তিরেকা /ছায়েব যস্য ভুবানি বিভর্ক্তি দুর্গা / ইচ্ছানুরুপমি যস্য চ চেষ্টাতে সা / গোবিন্দমাদি পুরুষং তমহংভজামি।। অর্থাৎ চিৎশক্তির ছায়া স্বরূপা সৃষ্টি স্থিতি, প্রলয় সাধিনী এই গুণময়ী মায়া শক্তি দুর্গাদেবী। তিনি যাঁর আজ্ঞানুসারে এ জড় জগৎ পরিচালনা করছেন, সেই আদি পুরুষ গোবিন্দকে আমি ভজনা করি। চিৎশক্তির ছায়া স্বরূপা অর্থাৎ চিৎজগতে যে দুর্গাদেবী তিনি হচ্ছেন চিন্ময়ী কৃষ্ণদাসী। আর সেই দুর্গাদেবীর ছায়ারুপ হচ্ছে এই জড় জগতের পূজিতা দুর্গা। তিনি হচ্ছেন এই জড় জগৎ পরিচালনা বিভাগের অধ্যক্ষ। একই কথা শ্রী শ্রী চন্ডী গ্রন্থের ( ৫/১৩) উল্লেখ আছে, সর্বভূতেষু ছায়ারূপেন সংস্থিতা। যে, যে গুণের অধিকারী সে দেবীর ঐ মায়ার আরাধনা করে থাকে। 

এই মর্তলোকের মানুষ কেন বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে সে সম্পর্কে ভ.গীতা (৪/১২) শ্লোকে ভগবান বলছেন, কাঙক্ষন্ত: কর্মনাং সিদ্বিং যজন্ত ইহ দেবতা:। অর্থাৎ সকাম কর্মের সিদ্বি লাভের জন্য লোকেরা বিভিন্ন দেব দেবীর পূজা করে থাকে। সকাম কর্মের ফল খুব তাড়াতাড়ি লাভ হয়। কিন্তু তা ক্ষণস্থায়ী। প্রকৃতপক্ষে এসমস্ত দেব দেবী ভগবানের রূপ নন, তাঁরা হচ্ছেন ভগবানের অংশ বিশেষ। ভগবান হচ্ছেন এক ও অদ্বিতীয় ( নিত্য - নিত্যানাম) আর অংশেরা হচ্ছে বহু। বিভিন্ন দেবদেবীরা ভগবান থেকে শক্তি প্রাপ্ত। শুধু দেবদেবীরা নয় সাধারণ জীবাত্মা ও ভগবানের অংশবিশেষ। ভগবান প্রতিটি জীবের মধ্যে পরমাত্মা রূপে বিদ্যমান। তাই আমরা যদি জড় কামনা -বাসনা চরিতার্থ করার জন্য দেবদেবীর পূজা করে থাকি, তবে সেটা নিশ্চক কপটতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আমরা দেবদেবীর পূজা করব ভাল। কিন্তু তাঁদের কাছে এটাই কামনা করব, এই বাঞ্চাঁ করব, যাতে তাঁরা আমাদেরকে কৃষ্ণভক্তি বা কৃষ্ণপ্রীতি দান করেন। জড়েন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্জাঁ তারে বলে কাম / কৃষ্ণন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্জা ধরে প্রেম নাম। এটাই হোক আমাদের দুর্গাপূজার প্রকৃত উদ্দেশ্য। সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা।

লেখক: সজল চন্দ।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71