শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
দৃষ্টিহীন ব্রেইল শিক্ষার আলো দিয়েছেন হাজারো দৃষ্টিহীনদের!
প্রকাশ: ১১:৫৫ pm ০৬-০২-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:৫৫ pm ০৬-০২-২০১৭
 
 
 


ঢাকা : জানুয়ারির প্রথমদিনই উদযাপিত হয়েছিল পাঠ্যপুস্তক উৎসব। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এর কথায় জানা যায়, ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যপুস্তক উৎসবে ৩৬ কোটি ৩ লাখ বই বিতরণ করা হয়েছে।

এ বছর বিভিন্ন স্তরের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়েছে ৯ হাজার ৬৬টি বই। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের বই মানেই হচ্ছে ব্রেইল লিপি’র বই। আপনার বাচ্চা যদি জানতে চায় ব্রেইল লিপি’র বই সম্পর্কে তাহলে কি জানাবেন? নতুন দেখা বইগুলো সম্পর্কে স্বাভাবিক বাচ্চারও জানার আগ্রহ থাকতেই পারে।

চলুন জেনে নিই ব্রেইল লিপির আবিষ্কারক লুইস ব্রেইল সম্পর্কে :

দৃষ্টিহীন লুইস ব্রেইল ৪ জানুয়ারী ১৮০৯ সালে ফ্রান্সের প্যারিস শহরের নিকট কুপ্রে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৩ বছর বয়সে এক সড়ক দূর্ঘটনায় তার চোখ অন্ধ হয়ে যায়। বাল্যকাল থেকেই ব্রেইলের কিছু অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল। বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি তার জানার আগ্রহ ছিল। এক গীর্জার পাদ্রী তাকে প্যারিসের অন্ধ বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন। বাল্যকাল থেকেই ব্রেইল তার অদ্ভুত প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয় অধ্যয়ন করতেন।

বলা হয়ে থাকে, শ্রষ্টা এই পৃথিবীতে সবাইকে কোনো না কোনো প্রয়োজনে পাঠিয়েছেন। আর যা কিছু ঘটুক মঙ্গলের জন্যই ঘটছে। ব্রেইলের জীবনী এই কথার পুরো সত্যতা প্রমাণ করে। কারণ তিনি ছোটবেলায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং পরবর্তীতে শ্রষ্টার সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।

১৮২৫ সালে যখন তার বয়স মাত্র ১৬ বছর তখন এমন এক প্রকার লিপি আবিষ্কার করেন যাকে ব্রেইল লিপি বলা হয়। এই লিপির মাধ্যমে দৃষ্টিহীনরা পড়াশোনা করতে পারছে।

গণিত, ইতিহাস এবং ভূগোল পাঠ বিষয় কুশলী লুই, অধ্যয়নের সময় ফরাসি সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন চার্লস বার্বিয়র এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। বার্বিয়র ব্রেইলকে অন্ধকারে পড়ার জন্য নাইট রাইটিং ও সনোগ্রাফ সম্পর্কে বলেছিলেন। সেই লেখায় ১২টি বিন্দু ছিল। ব্রেইল তা সংশোধন করে ৬টি বিন্দুযুক্ত ব্রেইল লিপি তৈরি করেন। প্রখর বুদ্ধিমান ব্রেইল শুধুমাত্র অক্ষর ও সংখ্যার চিহ্নই নয় সবধরনের চিহ্নই প্রকাশ করতে সক্ষম হন।

প্রতিভাগুণে তিনি খুব দ্রুতই বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে অল্প সময়েই প্রিয় শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পান। পড়ানোর সময় শাস্তি দেয়াকে ব্রেইল মোটেও পছন্দ করতেন না। তিনি স্নেহপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে পড়ানো পছন্দ করতেন।

ব্রেইলের জীবন সহজ ছিল না। কিন্তু তার অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা আত্মবিশ্বাস ও শক্তি তাকে সর্বদাই উন্নতির দিকে চালনা করত। তখনও সমাজে এমন এক শ্রেণীর লোক ছিল যারা তার যোগ্যতাকে তার জীবদ্দশায় উপেক্ষা করেছিল। তবুও ব্রেইল তার নিজস্ব আগ্রহের পথেই চলতেন।

জীবদ্দশায় সন্মান না পাওয়া ব্রেইলকে ফ্রান্সে ২০ জুন, ১৯৫২ সালে সন্মান দেখানো হয়। মৃত্যুর ১০০ বছর পর তার লাশ তুলে রাষ্ট্রীয় সন্মান দিয়ে পুনরায় দাফন করা হয়। এছাড়াও ফ্রান্সের সকল লোক বিশেষতঃ আমলাতন্ত্রবাদীরা তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে প্রদত্ত বইয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ভীড়ে ব্রেইল লিপি’র বইগুলো সম্পর্কে তেমন কোনো আলোচনায়ই হয়নি। আমাদের আলোচনায় এ বছর প্রদত্ত ব্রেইল বই কোনো স্থান পায়নি। তাহলে কী পজিটিভ এই সংবাদটি নিয়ে কথা না বলে ব্রেইলকে আমরাও অবহেলা করিনি?

লুইস ব্রেইল তার কাজের প্রতি এতই মগ্ন থাকতেন যে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি কোনো খেয়ালই রাখতেন না। ফলে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে যক্ষায় আক্রান্ত হন। দৃষ্টিহীনদের জীবনে শিক্ষার আলো জ্বালানো এই প্রেরণাদায়ক ব্যক্তি ৬ জানুয়ারী, ১৮৫২ সালে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে  মৃত্যুবরণ করেন।

দৃষ্টিহীন হয়েও জীবনের কাছে হার মানেননি লুইস ব্রেইল। আজ ব্রেইলের তৈরিকৃত বইয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার অন্ধ ব্যক্তি জ্ঞানার্জন করছে। সুতরাং আপনি কেন হতাশ?

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71