শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
দেশপ্রেমিক কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৬২মৃত্যূ বার্ষিকী আজ
প্রকাশ: ০১:০১ am ০৬-০২-২০১৭ হালনাগাদ: ০১:০১ am ০৬-০২-২০১৭
 
 
 


প্রতাপ চন্দ্র সাহা ||

দেশপ্রেমিক কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্মঃ- ১৯ নভেম্বর, ১৮৭৭ - মৃত্যুঃ- ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৫)

তাঁর কবিতায় প্রধানত দেশপ্রেমের বাণী প্রকাশ পেত। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বঙ্গমঙ্গল’ প্রকাশিত হয় ১৯০১ সালে। কিন্তু রাজরোষে পতিত হওয়ার আশঙ্কায় কাব্যগ্রন্থটির প্রথম সংস্করণে তাঁর নাম মুদ্রিত হয়নি। করুণানিধান ছিলেন রবীন্দ্র অনুসারী কবিদের মধ্যে অন্যতম। রবীন্দ্রনাথের ধারায়- রোমান্টিক প্রেম, দাম্পত্য জীবনের লীলা-মাধুর্য, প্রকৃতি প্রেম ও আধ্যাত্বিক ব্যাকুলতা তাঁর পরবর্তীকালের কবিতার উপজীব্য।

কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায় নদীয়া জেলার শান্তিপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা নৃসিংহ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন স্কুল শিক্ষক । ১৮৯৬ সালে শান্তিপুর মিউনিসিপ্যাল স্কুল থেকে এন্ট্রান্স ও ১৮৯৯ সালে কলকাতা মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন থেকে এফ.এ. পাস করেন। কলকাতার জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইনস্টিটিউশনে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি হলেও বি.এ. পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন তিনি। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে শিক্ষকতাকে পেশা হিসাবে শিক্ষতাকে গ্রহণ করে কর্মজীবনের শুরু করেন করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়। শিক্ষকাতা পেশায় তিনি শান্তিপুর মিউনিসিপ্যাল স্কুল, গাইবান্ধা উচ্চ বিদ্যালয়, কলকাতা শ্রী কৃষ্ণ পাঠশালা, হুগলি সরকারী ব্রাঞ্চ ইস্কুল এবং উত্তরপারা সরকারী উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষতা করেন।

করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায় সাহিত্যচর্চা শুরু করেন ছাত্রাবস্থা থেকেই। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ ১। বঙ্গ-মঙ্গল (১৯০১), ২। প্রসাদী (১৩১১), ৩। ঝরাফুল (১৩১৮), ৪। শান্তিজল (১৩২০), ৫। ধানদুর্বা (১৩২৮), ৬। শতনারী (১৩৩৭), ৭। রবীন্দ্র-আরতি (১৩৪৪), ৮। গীতায়ন (১৩৫৬), ৯। গীতারঞ্জন (১৩৫৮) ইত্যাদি। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৫১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জগত্তারিণী’ পদকে ভূষিত হন।

জীবন-ভিক্ষা
করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়
বুদ্ধদেবের প্রতি গৌতমী

“দেউলে দেউলে কাঁদিয়া ফিরি গো, দুলালে আগলি’ বক্ষে-
উষ্ণ বিয়োগ-উৎস- সরিৎ দরবিগলিত চক্ষে,
শত চুম্বনে মেলে না নয়ন, চুরি গেছে মোর আঁচলের ধন;
অভাগী বিহগী আজিকে আহত মরণশ্যেনের পক্ষে।
স্তনক্ষীরধার অধরে বাছার আজি কি লেগেছে তিক্ত ?
রসনা-প্রসূন কোন্‌ পরসাদ-মধুরসে পরিষিক্ত ?
মুখচম্পকে মরুর বর্ণ, শুষ্ক অধরকমলপর্ণ-
কী পাপেয়ামার প্রাণের ইন্দু পীযূষবিন্দুরিক্ত ?
কোথা সে মাধুরী আধো আধো বোলে ? কুন্দ বৃন্তছিন্ন,
দন্তরুচিতে কই সে কান্তি পুণ্যহাসির চিহ্ন ?
জানি প্রভু, তব পাণির পরশে ননীর পুতুল জাগিবে হরষে।
কোন পাষাণের বিষবাণে তার নয়নের মণি ভিন্ন ?
অবনীর এই পদ্মবেদীতে হরিলে ত্রিতাপদুঃখ,
যাত্রা করেছ দুরগম পথ ক্ষুরধারসম সূক্ষ্ম।
দিয়ে তপোবল, মহানির্বাণ, কুমারে আমার করো প্রাণদান’’
লুটায় যুবতী বুদ্ধ-চরণে, আলুথালু কেশ রুক্ষ।
কহেন বুদ্ধ, “তনয় তোমার নীরব-সমাধি-মগ্ন,
বরণ করেছে চিরসুন্দর মরণের মহালগ্ন।
থাকে যদি কোথা অশোকনিলয়ভিখ মাগি আনো সর্ষপচয়,
পরশে তাহার দুলিয়া উঠিবে পরাণ-মৃণাল ভগ্ন।’’
বিশাল পুরীর দ্বারে দ্বারে ঘুরে, কেহ নাহি দেয় ভিক্ষা ;
নিবেদিল শেষে গুরুপদে এসে, “শিখাইলে শেষ শিক্ষা,
জীয়াতে চাহিনা তময় আমার, ভবনে ভবনে ওঠে হাহাকার-
হরো জগতের বিরহ-আঁধার, দাও গো অমৃতদীক্ষা।’’

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71