বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
দেশে এখনও ৬৫% মেয়ের বিয়ে হয় ১৬ বছরের আগে
প্রকাশ: ১২:৫৩ pm ১৫-০৯-২০১৫ হালনাগাদ: ১২:৫৩ pm ১৫-০৯-২০১৫
 
 
 


ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশে এখনও ১৬ বছরের আগে ৬৫ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। এরমধ্যে শতকরা ৫ দশমিক ৭৯ ভাগের বিয়ে হয় পরিবারের অনুমতি ছাড়া। 'মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন' পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।


সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে 'বিবাহযোগ্য বয়স ও শিশুবিয়ে' শীর্ষক ওই গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ আইনে 'যদি', 'কিন্তু', 'তবে' এ ধরনের কোনো শর্ত জুড়ে দিলে, তা মানা হবে না। এটা নিশ্চিত করতে হলে যে কোনো ধরনের শর্ত বাদ দিয়েই চূড়ান্ত আইন প্রণয়ন করতে হবে।

দেশের সাতটি বিভাগের ২৪টি জেলার ২৪টি উপজেলায় গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত বাল্যবিয়ের শিকার ১ হাজার ২৩৭ নারী ও তাদের পরিবারের সদস্য এবং কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনা করে গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

গবেষণায় আওতায় থাকা ২৪টি জেলায় বিয়ের গড় বয়স সাড়ে ১৫ বছরের কিছু বেশি। এসব এলাকায় ১৬ বছরের আগে ৬৫ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয় পারিবারিকভাবে। প্রায় ৬৪ শতাংশ নারীই বিয়ের সময় ছাত্রীজীবনেই থাকেন। গবেষণায় উত্তরদাতা এক হাজার ২৩৭ জনের মধ্যে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বলেছেন ভালোবেসে পারিবারিক সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। আর পরিবারের অমতে পালিয়ে বা বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার কারণে বিয়ে হয় প্রায় দেড় শতাংশের। ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে পালিয়ে বা বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কের কারণে বিয়ের ঘটনা বেশি ঘটে বলে উঠে এসেছে গবেষণায়।

এছাড়া নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রায় ২৬ শতাংশ মা-বাবা মেয়েকে কম বয়সে বিয়ে দিতে বাধ্য হন। দারিদ্র্যের কারণে ১৯ শতাংশ এবং সামাজিক রীতিনীতির কারণে প্রায় ২৩ শতাংশ অভিবাবক মেয়েদের বিয়ে দেন।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ৭৬ দশমিক ২২ শতাংশ মা-বাবা মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স যে ১৮ বছর, এটা জানেন বলে জানিয়েছেন। ছেলেদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স জানেন মাত্র ২৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ মা-বাবা। বিয়ের সময় ৫৫ শতাংশ মেয়ের মতামত নেওয়া হয়নি বলেও উঠে এসেছে গবেষণায়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যেকোনো শর্ত বাল্যবিয়ের হার না কমিয়ে বরং বাড়িয়ে দেবে। সরকার যে যুক্তিতে বিয়ের বয়স কমাতে চায়, তাও গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের খসড়া আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে বাবা-মায়ের সম্মতি ও আদালতের অনুমোদনের ভিত্তিতে ১৬ বছরের কমবয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে বলে শর্ত রাখার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের করা আইনের খসড়াটি বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।

মহিলা পরিষদের সভাপতি আায়শা খানম বলেন, 'সরকার ১৯২৯ সালের বিদ্যমান আইনের সংশোধন করতে গিয়ে আইনে যে ধরনের শর্ত দিতে চাইছে, এতে আমরা বিস্মিত। সমাজ অগ্রসর করার মূল চাকাটি যে নারীরা ঠেলছে, সেই নারীদের কয়েকশ' বছর পিছিয়ে দিতে চাচ্ছে সরকার।'

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, 'সরকার অনেক সময়ই নারী আন্দোলনের কথা শুনেছে। আশা করছি এবারও শুনবে। সরকার যতদিন কথা না শুনবে, আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা বলেন, 'আইনে শর্ত দিয়ে ১৬ বছর বয়সের কথা উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজন নেই। এর দ্বারা বরং ১৮ বছর বয়সের আগেও যে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে, মানুষের মধ্যে এ ধারণা দেওয়ার জন্যই আইন করা হচ্ছে।'

গবেষণার ফল উপস্থাপন করেন 'মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন'র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী বনশ্রী মিত্র নিয়োগী এবং মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন বিভাগের প্রধান জুবায়ের আলী খান।

সমকাল থেকে নেওয়া

এইবেলা ডটকম/এইচ আর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71