বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ১১ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
বিশ্বায়নের কাল
দেশে এবং বিদেশে ভাস্কর্য বিতর্ক
প্রকাশ: ০৯:০৬ am ৩১-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:০৬ am ৩১-০৫-২০১৭
 
 
 


কামাল আহমেদ ||

মেয়েটিকে কখনো সামনাসামনি দেখিনি। মেয়েটি মানে মেয়েটির ভাস্কর্য। বৈশ্বিক পুঁজিবাদের প্রাণকেন্দ্র নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে একটি তেজি ও বেয়াড়া ষাঁড়ের ভাস্কর্য আছে। শেয়ারবাজারে তেজিভাবের প্রতিকৃতি হলো ওই তেজি ষাঁড়। এ বছর হঠাৎ করে সেই ষাঁড়ের সামনে ছোট একটি মেয়ের নির্ভয়া ভাস্কর্য বসানো হয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আগের রাতে ওই বালিকার ভাস্কর্যটি ষাঁড়টির সামনে বসানো হয়। ফিয়ারলেস গার্ল নামের ভাস্কর্যটি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই নিউইয়র্কে বিতর্ক চলছে। তবে আমাদের মতো মিছিল, পাল্টামিছিল নয়।

তেজি ষাঁড়টির শিল্পী আর্টুরো ডি মোডিকা ১৯৮৭ সালে শেয়ারবাজার ধসের পর তাঁর শিল্পকর্মটি সেখানে বসান। এখন তিনি আপত্তি তুলে বলছেন যে নির্ভয়া বালিকার ভাস্কর্যটি তাঁর ষাঁড়ের সামনে বসানোয় শিল্পী হিসেবে তাঁর অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি নগর কর্তৃপক্ষের কাছে তা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। ডি মোডিকা যখন তাঁর ষাঁড়টি সেখানে বসিয়েছিলেন তখন তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর শিল্পকর্মটি পর্যটকদের আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠায় নগর কর্তৃপক্ষ ষাঁড়টির ভাস্কর্যটি সেখানে রাখার অনুমতি দেয়। এখন তেজি ষাঁড়ের তেজ ভয়লেশহীন বালিকার চমকপ্রদ মুখচ্ছবির সামনে অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে সন্দেহ নেই। মেয়েটি তেড়ে আসা ষাঁড়ের চোখের দিকে যে দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, তাতে আছে অবিশ্বাস্য সাহসের স্ফুরণ। নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদ এবং বড় বড় করপোরেশনের পরিচালনা পর্ষদে নারী প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্যহীনতা স্মরণ করিয়ে দেওয়াই হচ্ছে ফিয়ারলেস গার্লের কাজ। নারী যে সাহসের সঙ্গে পুরুষের দাপটের মুখে দাঁড়াতে পারে, সেই বার্তাই তুলে ধরছে ওই শিল্পকর্মটি। সুতরাং এ কথাও সত্য যে ওই তেজি ষাঁড়ের সামনে ছাড়া অন্য কোথাও ওই নির্ভয়া বালিকার অবস্থান বালিকাটির সাহসের পূর্ণ প্রকাশ ঘটাবে না।

চার্জিং বুলের শিল্পী ডি মোডিকার যুক্তি, তাঁর শিল্পকর্মের লক্ষ্য ছিল অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধারাকে তুলে ধরা। কিন্তু সেই বার্তা এখন বদলে যাচ্ছে। ভিজু্যয়াল আর্টিস্টস রাইটস অ্যাক্ট অব ১৯৯০ নামের আইন অনুযায়ী ডি মোডিকো তাঁর শিল্পকর্মের ধারণা ও বার্তা অক্ষুণ্ন রাখার অধিকারী। বিষয়টি আদালত পর্যন্তও গড়াতে পারে। ফিয়ারলেস গার্লের ভাস্কর ক্রিস্টেন ভিসবালও তাঁর ভাস্কর্যটি ওয়াল স্ট্রিটে স্থাপনের আগে নগর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেননি। তবে নারী অধিকারের সমর্থক মেয়র ডি ব্লাজিও আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেটিকে সেখানে রাখার অনুমতি দিয়েছেন। তাঁর সিদ্ধান্তের সমর্থনে গত ১২ এপ্রিল ডি ব্লাজিও এক টুইটে বলেছেন, ‘যে পুরুষেরা মেয়েদের কোনো অবস্থান গ্রহণকে সমর্থন করে না, তাদের জন্যই ফিয়ারলেস গার্লের প্রয়োজন আছে।’

যুক্তরাষ্ট্রেই তীব্র বিতর্কের পর চলতি মাসেই এ রকম আরেকটি ভাস্কর্য অপসারিত হয়েছে। এটি হয়েছে লুইজিয়ানা রাজ্যের নিউ অরলিন্সে। ১৯ মে জেনারেল রবার্ট ই লির ভাস্কর্যটি অপসারণের সময় তার পক্ষে-বিপক্ষে দুটি দলের মধ্যে শান্তি ও দূরত্ব বজায় রাখতে পুলিশের অশ্বারোহী দল মোতায়েন করতে হয় (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ১৯ মে, ২০১৭)। ১৮৮৪ সাল থেকে ভাস্কর্যটি সেখানে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধে জেনারেল লি ছিলেন ইউনিয়নের বিপক্ষে। দক্ষিণের ১১টি রাজ্যের মধ্যে ৭টি যুক্তরাষ্ট্রে যোগ না দিয়ে স্বাধীন থেকে একটি কনফেডারেশন গঠনের পক্ষে ছিল। তার পরিণতিতেই দেশটিতে সংঘটিত হয় গৃহযুদ্ধ, যা ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত চলেছিল। তিনি শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের কাছে ছিলেন একজন বীর। কিন্তু সমালোচকদের কাছে তিনি ছিলেন দাসপ্রথার পৃষ্ঠপোষক এবং মানবতাবিরোধী। জেনারেল লি ছাড়াও ওই শহরে ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আরও তিনজনের ভাস্কর্য ছিল, যেগুলো এ বছরেই বিভিন্ন সময়ে রাতের অন্ধকারে অপসারণ করা হয়। ওই তিনজনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আছে। ভাস্কর্য অপসারণের কাজে কেউ অংশ নিলে তাদের হত্যার হুমকি দেওয়ায় সেগুলো রাতের বেলায় অপসারণ করা হয়। কিন্তু ১৯ মে জেনারেল লির ভাস্কর্যটি অপসারিত হয় দিনের আলোতে। ২০১৫ সালে একটি গির্জায় এক শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী হামলায় নয়জন কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর পর নগর কর্তৃপক্ষ ওই সব ভাস্কর্য অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়।

২.

রাজনৈতিক আবেগের সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতির মিশ্রণযুক্ত ভাস্কর্য বিতর্কে আমাদের ঘরের কাছেই আছে আরেকটি দৃষ্টান্ত। বিতর্কটি ভারতে। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশটির হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুম্বাইয়ে উপকূলের কাছেই সাগরবক্ষে প্রায় চার কিলোমিটার ভেতরে এই ভাস্কর্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। নিউইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টির দ্বিগুণ এবং ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার ভাস্কর্যের পাঁচ গুণ বড় হবে মুম্বাইয়ের এই ভাস্কর্যটি। ১৯২ মিটার দীর্ঘ এই ভাস্কর্যটি হবে মারাঠি রাজা ছত্রপতি শিবাজির। মধ্যযুগে মুসলিম মোগল শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের অংশবিশেষে হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছিলেন ছত্রপতি শিবাজি। এর জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি ডলার এবং তা ২০১৯ সালের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা।

প্রধানমন্ত্রী মোদি এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগের দিন এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন ৫০ জন মৎস্যজীবী। সেদিন তাঁরা ৫ হাজার মাছ ধরার নৌকায় কালো পতাকা উড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। মৎস্যজীবীদের সংগঠন অখিল মহারাষ্ট্র মাচ্ছিমার ক্রুতি সমিতির দাবি, এই প্রকল্পে ৮০ হাজার লোকের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংগঠনটির সভাপতি দামোদর ট্যান্ডেল এবং পরিবেশবাদীদের পক্ষে প্রদীপ প্যারেড জাতীয় পরিবেশ আদালতে (ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল) এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। প্যারেডের দাবি, এর ফলে ১১০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এর ফলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ক্ষুণ্ন হবে। আইন অনুযায়ী প্রকল্প এলাকার লোকজনের মতামত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাজ্যের বিজেপি সরকার ‘বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে’ বিষয়টিতে ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছে (ফিশারমেন অপোজিং সাইট অব শিবাজি স্ট্যাচু অ্যারেস্টেড অ্যাহেড অব মোদি ভিজিট, দ্য ওয়ার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৬)।

৩.

বাংলাদেশে প্রতীকের মূল্য অনেক, সেটা সবারই জানা। যে কারণে নৌকা কিংবা ধানের শীষ প্রতীক পাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির ভেতরে এবং বাইরে রীতিমতো নিলামের মতো প্রতিযোগিতাও হয় বলে শোনা যায়। দলের জন্য যাঁর যত টাকা খরচের সামর্থ্য, তাঁর ওই প্রতীকগুলো পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি। কিন্তু এবার ভিন্ন ধরনের একটি প্রতীককে কেন্দ্র করে যত আবেগপূর্ণ রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা গেল তার তুলনা বিরল। এই প্রতীকটি নাকি ন্যায়বিচারের প্রতীক। নাকি বলছি, তার কারণ হলো সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত এবং স্থানান্তরিত ভাস্কর্যটির নির্মাতার একটি বক্তব্যে। আমরা সবাই এত দিন জেনে এসেছি, ভাস্কর্যটি ন্যায়বিচারের প্রতীক গ্রিক দেবী থেমিসের। কিন্তু তাকে শাড়ি পরানোর কারণে যেসব প্রশ্ন উঠেছে তার জবাবে ভাস্কর মৃণাল হক বলেছেন এটি গ্রিক দেবী নয়, বাঙালি নারীর ভাস্কর্য।

রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে রাতের অন্ধকারে হেনস্তার শিকার বাঙালি নারীর ভাস্কর্যটি তাহলে ন্যায়বিচারের প্রতীক কি না, সেই প্রশ্ন উঠলে তার জবাব কী হবে জানি না। একটা সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে, স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্যই ন্যায়বিচারের প্রতীক থেমিসকে শাড়ি পরানো হয়েছে। শিল্পীর এই স্বাধীনতা আছে এবং তাঁর চিন্তার স্বাধীনতার প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। তা ছাড়া রোমান পোশাকের ইতিহাস গবেষণায় দেখা গেছে এবং অনেক ঐতিহাসিক বিশ্বাস করেন, গ্রিসে নারীদের মধ্যে ভিন্নধারায় শাড়ি পরার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় এবং ভারতে আধুনিক শাড়িতে তার প্রভাব আছে (Probable influence of Roman Empire on the Indian Sari, Costume Textile and Fashion by Toolika Gupta)।

থেমিসের ভাস্কর্য নিয়ে যেসব বিতর্ক হয়েছে এবং হচ্ছে তাতে অবশ্য রাজনৈতিক আবেগের বিষয়গুলো যতটা গুরুত্ব পাচ্ছে তার অন্তর্নিহিত বিষয়টি ততটাই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর ভাষায় থেমিসের ভাস্কর্য ইসলামবিরোধী। আর প্রগতিশীলদের আপত্তি ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে আপসকামিতায়। তাদের মতে, এর ফলে অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শকে জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে ভোটের রাজনীতির কারণে। মৃণাল হকের এই ভাস্কর্যটির নান্দনিক মূল্য প্রশ্নে ক্ষীণকণ্ঠের সমালোচনাও কিছুটা শোনা গেছে চারুশিল্পী অধ্যাপক নিসার হোসেনের কথায়। ধারণা করা যায়, নান্দনিক মূল্য বিবেচনায় এটি অপসারণের প্রস্তাব উঠলে প্রতিক্রিয়া হতো ভিন্ন রকম। তখন প্রশ্ন উঠত, সমৃদ্ধ শিল্পশৈলীসম্পন্ন কোনো ভাস্কর্য প্রতিস্থাপনের। অবশ্য হেফাজতে ইসলামের বদলে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সদ্য বিচ্ছেদ ঘটা আওয়ামী ওলামা লীগের দাবি অনুযায়ী কয়েক মাস আগে এই ভাস্কর্যটি অপসারিত হলে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া হতো কি না, সেই প্রশ্নটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন জোটের ছোট শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিক্রিয়া স্মরণ করা যেতে পারে। থেমিসের ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে স্থানান্তরিত হওয়ার পর দলটির পলিটব্যুরো প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে ওই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিবৃতি দাবি করেছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী যখন সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন যে এটি সরানো হবে তখন তারা তার কোনো ব্যাখ্যা চায়নি। বোঝাই যায় মন্ত্রিত্বের কারণে তারা অনেক কথাই বলতে পারে না। ওলামা লীগের ক্ষেত্রেও তেমনটিই ঘটত সন্দেহ নেই।

অথচ শুধু প্রতীকের অবস্থান ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দেয় কি না, সেই প্রশ্নটি কেউ করছেন না। থেমিসের ভাস্কর্য রক্ষায় মধ্যরাতে যে তরুণ-তরুণীরা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছেন তাঁরা নিশ্চয়ই প্রশংসার দাবিদার। তবে এখানে এই বিষয়টিও স্মরণে রাখা দরকার যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আদালত যখন সোচ্চার হয়েছেন তখন তাঁদের সমর্থনে কোনো ছাত্র-যুবক কিংবা রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন রাস্তায় নামেনি। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রতীকের চেয়েও জরুরি হচ্ছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। একটি নিষ্প্রাণ ভাস্কর্যের জন্য আমরা যতটা সোচ্চার এর সিকিভাগও কি আমরা জীবন্ত মানুষকে উঠিয়ে নিয়ে রাস্তার পাশে নিষ্প্রাণ ফেলে রাখার মতো ঘটনাগুলোর বিচারের জন্য হয়েছি? রাজনীতির মতোই আমাদের কাছে কি আসলের চেয়ে প্রতীকটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে?

কামাল আহমেদসাংবাদিক

 

 এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71