সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
দেশে দারিদ্র্যের হার কমছে
প্রকাশ: ০৪:৪৭ pm ১৭-১০-২০১৭ হালনাগাদ: ০৪:৪৭ pm ১৭-১০-২০১৭
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ আয় ও ব্যয় জরিপে (এইচআইইএস) জানা যায় ২০১৬ সাল শেষে দেশের মোট জনসংখ্যার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ দরিদ্র। ২০১০ সালের জরিপে ৩১ দশমিক ৫০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করার চিত্র পাওয়া যায়। ছয় বছরের ব্যবধানে দারিদ্র্যের হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।

মোট দারিদ্র্যের পাশাপাশি অতি দারিদ্র্যের হারও আগের তুলনায় কমেছে। সর্বশেষ জরিপে অতি দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০১০ সালের জরিপে ছিল ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

নতুন জরিপের এ ফল বিশ্নেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের তুলনায় সর্বশেষ ছয় বছরে (২০১১-২০১৬) দারিদ্র্য বিমোচনের গতি কমেছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া, দরিদ্র শ্রেণির মানুষের মজুরি বৃদ্ধি না পাওয়া, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স কমে যাওয়া এবং বৈষম্য বেড়ে যাওয়া এর কারণ বলে তারা মনে করেন।

২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত এক বছর ধরে বিবিএস দেশব্যাপী সর্বশেষ জরিপটি পরিচালনা করে। এতে ৪৬ হাজার ৮০টি পরিবারের আয়-ব্যয়ের তথ্য নেওয়া হয়। আয় ব্যয় জরিপে এটাই সবচেয়ে বড় নমুনা। 


১৯৯৫ সালের পর থেকে পাঁচ বছর পর পর এ জরিপ করে আসছে বিবিএস। ২০১০ সালের জরিপে দারিদ্র্যের হার ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। এরপরে কোনো জরিপ না হলেও ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আগের জরিপের ভিত্তিতে দারিদ্র্যের হার প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। সে প্রক্ষেপণেও কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে দেশের দারিদ্র্য হার কমেছে। ২০১১ সালে ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০১২ সালে ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ, ২০১৩ সালে ২৭ দশমিক ২ শতাংশ, ২০১৪ সালে ২৬ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ দারিদ্র্যের হার প্রাক্কলন করা হয়। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সরকার ২০২০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে। ওই সময়ে চরম দারিদ্র্য হার ৮ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করছে সরকার।

বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০০৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর বাংলাদেশে ১১ লাখ ৫০ হাজার কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হারে ভাটা পড়েছে। ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ৩ দশমিক ১ শতাংশ হারে কর্মসংস্থান বেড়েছে। আর ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১ দশমিক ৮ শতাংশ হারে কর্মসংস্থান বেড়েছে। কর্মসংস্থান দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম হাতিয়ার।


বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের ধারা ঠিক আছে, তবে গতি কমেছে। কারণ, ২০০৫ সালের জরিপের সঙ্গে ২০১০ সালের জরিপে ৫ বছরের ব্যবধানে দারিদ্র্য কমেছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এবার ছয় বছরে দারিদ্র্য কমেছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এর অন্যতম কারণ, শেষ কয়েক বছরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার কমে গেছে। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দরিদ্রদের যেভাবে মজুরি বাড়ে, সেরকমভাবে তা বাড়েনি। আবার রেমিট্যান্স কমেছে। বেড়েছে বৈষম্য। এ ছাড়া সরকার যেসব জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিচ্ছে তার সুফল সবার কাছে ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে না।

দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশকে মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। স্বাধীনতা-পরবর্তী ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে ৮২ শতাংশ মানুষ ছিল দরিদ্র। এখন এ হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা অন্যান্য দেশকে বাংলাদেশকে অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছে। গোটা বিশ্বে দারিদ্র্য যে হারে কমেছে বাংলাদেশে কমেছে তার চেয়ে বেশি হারে।


আরপি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71