রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
আজ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকাময় হিরোশিমা দিবস
প্রকাশ: ০২:৩৩ pm ০৬-০৮-২০১৫ হালনাগাদ: ০২:৩৩ pm ০৬-০৮-২০১৫
 
 
 


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হিরোশিমা দিবস আজ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম পরমাণু বোমা হামলা, যাতে প্রাণ যায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের। এই হামলার মধ্য দিয়ে মোড় ঘুরতে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের।


জাপানিরা বিশেষ করে হিরোশিমাবাসী আজ সেই ভয়াল দিনটিকে স্মরণ করছে। প্রাণঘাতী পারমাণবিক বোমা হামলার ৭০তম দিবসে সেই সময়ে নিহতদের স্মরণে হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। শিরোশিমার মোটোইয়াসু নদীতে হাজারো প্রদীপ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেন হারানো মানুষগুলো আজও সময়ের ঢেউয়ে আলোর মতো জ্বলছে।

৬ আগস্টের পর ৯ আগস্ট জাপানের নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান আরেকটি পারমাণবিক বোমা ফেলে, যাতে নিহত হয় প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। মূলত এই হামলার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের।


জাপানের দাবি, যুদ্ধের সময় ও এর প্রভাবে নানা রোগে ভুগে প্রায় ৪ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছে। শুধু হিরোশিমায় মারা গেছে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ।

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে হিরোশিমা শহরের আকাশে উড়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২৯ বোমারু বিমান এনোগা গে হামলা চালায়। বোমাটি মাটি থেকে প্রায় ৬০০ মিটার উঁচুতে বিস্ফোরিত হয়।


৬ আগস্ট হিরোশিমা দিবসে হারানো মানুষদের স্মরণ করে জাপানজুড়ে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এই সময়ে শিরোশিমার মূল শহর বোমায় ঝলসে গিয়েছিল। অসহ্য যন্ত্রণায় প্রাণ গিয়েছিল শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ অসংখ্য মানুষের। পারমাণবিক বোমার সেই ক্ষত আজও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে হিরোশিমাবাসীদের। পারমাণবিক বোমার রাসায়নিক ক্রিয়ার প্রভাব এখনো দেখা যায়, যখন এই কারণে জন্ম নেয় বিকলাঙ্গ শিশু।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই নারকীয় হত্যাকাহিনির পরিকল্পনাকারী। হত্যাকাহিনী এই অর্থে যে, বোমা হামলার সময় থেকে এখনো এর প্রভাবে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এ ছাড়া কি আর কোনো পথ ছিল না ট্রুম্যানের কাছে?



হিরোশিমার পিস পার্কে স্মরণানুষ্ঠানে যোগ দেয় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। এতে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে পারমাণবিক বোমামুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান।



অ্যাবে বলেন, ‘পারমাণবিক বোমার আঘাতে শুধু হাজারো মানুষের মৃত্যুই হয়নি, অবর্ণনীয় কষ্ট ও যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে লাখো মানুষকে। তবে হিরোশিমা আজ সেই ক্ষত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। এটি এখন সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধির শহরে পরিণত হয়েছে। তবে পারমাণবিক বোমা হামলার ৭০ বছর পূর্তিতে দাঁড়িয়ে আমি বিশ্বশান্তির গুরুত্ব আবারও উল্লেখ করছি।’



হিরোশিমার যে স্থানে পারমাণবিক বোমা হামলা করা হয়েছিল, তার ঠিক কাছে প্রতিষ্ঠিত হামলার স্মারক অ্যাটোমিক বোম্ব ডোম। বোম্ব ডোমের পাশে প্রতীকী ‘মরে যাওয়া’ কর্মসূচি পালন করে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ও স্থানীয় লোকজন।



এদিকে অ্যাবে ও হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাতুসির সঙ্গে স্মরণানুষ্ঠানে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন কেনেডি। শান্তি কামনায় তারা কবুতর ও শান্তির বার্তা লেখা কাগজ উড়িয়ে দেন। তারা পরমাণু বোমামুক্ত একটি শান্তিময় পৃথিবীর প্রত্যাশা করেন।



আজ যখন হিরোশিমার ভয়াবহতা নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা, প্রত্যাশা, তখন কি আমারা পরমাণু বোমামুক্ত একটি পৃথিবীর প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে পেরেছি? নতুন করে কোনো দেশকে পরমাণু বোমা তৈরির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না হয়তো, কিন্তু যাদের কাছে পরমাণু বোমার বিশাল ভা-ার রয়েছে, তারা কি করছে? তারা কি তাদের বোমাগুলো ধ্বংস করবে? এই মুহূর্তে চোখ বুঝে বলে দেওয়া যায়, না, না এবং না। তাহলে শান্তির জন্য আমরা কাজ করছি কোথায়? শক্তির জোরেই তো শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হচ্ছে। অন্তত বিশ্বের দিকে তাকালে এখন তাই দেখা যাবে। এক হাতে পরমাণু বোমা, অন্য হাতে শান্তির বাণী- এভাবে চলতে পারে না। আমরা চাই, পরমাণু বোমা নিঃশেষ হোক, মানুষের জন্য নিরাপদ হোক পৃথিবী।


এইবেলা ডট কম/এইচ আর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71