শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
শুক্রবার, ১০ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
ধন্যরামকে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল কাহারোলের হিন্দু সমাজ
প্রকাশ: ০৬:৪০ pm ২৩-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৫:৫০ pm ২৪-০৬-২০১৭
 
 
 


উত্তম রায়  : দিনাজপুরের কাহারোলো ধন্যরাম রায়কে মধ্যোগীয় কাদায়  পিটিয়ে অন্ডকোষ নষ্ট করে হত্যার বিচারে দাবিতে আজ মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বিরলী গ্রামের ধন্যরাম রায়(১৬)নামে জনৈক হিন্দু যুবককে তারাপুর গ্রামের ফজলের ৪ছেলে শাহজাহান, আবুল কালাম, জব্বার ও আবুল বাশার সহ তাজুল ইসলাম ও তার ছেলে আনু হত্যা করে যে ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে তারই সুবিচারের দাবীতে আজ ২৩জুন শুক্রবার এক পথসভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করেন রিসার্চ এন্ড এমপাওয়ারমেন্ট(রিও), বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টিয়ান পরিষদ, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি, ন্যাপ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, শারদান্জলী ফোরাম, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ সহ স্হানীয় এলাকাবাসী।

গত ২জুন বিকাল ৪ ঘটিকার সময় দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার তারাপুর গ্রামের ফজল আলীর ছেলে শাহজাহা আলী, আবুল কালাম, জব্বার আলী, আবুল বাশেদ,শাহজাহানের মামা তাজুল ইসলাম ও তাজুলের ছেলে আনু দল বেঁধে বিরলী গ্রামের মৃত নন্দী রামের ছেলে ধন্যরাম রায়কে হঠাৎ মারধোর করে, অন্ডকোষ লাঠির আঘাতে নষ্ট করে মেরে ফেলে।

বিবরণে প্রকাশ, শাহজাহান গংরা এরপূর্বে কাহারোলের নজরুল ও তার ভাই(অজ্ঞাত)কে বিনা অপরাধে একজনের পা ও অন্যজনের দাঁত মারধোর করে ভেঙ্গে দেয়। যার মামলা এখনো চলমান রয়েছে।

ইতিপূর্বে শাহজাহান গংরা তারাপুর গ্রামের শামসুল,কাদের ও তাদের (অজ্ঞাত)মাকে বিনা অপরাধে মার ডাং করে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য, শাহজাহানের আবুল হোসেন নামে এক ভাই জেএমবি সদস্য হিসেবে ২/৩মাস পূর্বে গ্রেপ্তার হয়। ঘটনাটি স্বরজমিনে বাংলাদেশ মানবধিকার সংস্হার দিনাজপুরের রিও প্রতিনিধি উত্তম রায় ঘটনার সত্যতা পরিদর্শন করেন। আরো ঘটনার পরিদর্শন তদন্ত করেন -ঠাকুরগাঁও জেলা হিন্দু মহাজোট সহ সভাপতি গৌরহরি ও দিনাজপুর জেলা মাইনরিটি ওয়াচ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য। সকলে ধন্যরাম রায়ের খুনীদের সুষ্ঠু বিচার চান।

ঘটনা থেকে প্রকাশ, গত ০২জুন শুক্রবার বিকাল অনুমান ৪ঘটিকার সময় পারনা বালার আমন ধানের বিচন ক্ষেতে তারাপুর গ্রামের দাঙ্গাবাজ শাহজাহান ইচ্ছাকৃতভাবে ও যোগসাজশে গরু দিয়ে বিচন ক্ষেত খাওয়ালে ও মারলে উক্ত ক্ষেতে পারনা বালা গরু আনতে যায়। এমন সময়ে শাহজাহান পারনা বালাকে মারধোর ও শ্লীলতাহানির উদ্দেশে কাপড় ধরে টানাটানি শুরু করলে পুত্র ধন্যরাম রায় ঘটনাস্হলে গিয়ে মাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। কিন্তু শাহজাহান ধন্যরামকে হত্যার উদ্দেশে বাঁশের খুটি দ্বারা আঘাত করার অপচেষ্টা করলে ধন্যরাম দৌড়ে বাড়ীতে ফিরে আসে।

কিছুক্ষণ পরে শাহজাহান(৩৪) ও ভাই আবুল কালাম(৪৩), জব্বার(৪৮), আবুল বাশার(৩৮) এবং মামা তাজুল ইসলাম(৫৫) ও মামাত ভাই আনু(৩০) দল বেঁধে হত্যার উদ্দেশে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পারনা বালা হাত-পা ধরে কাকুতি মিনতি করেও রেহাই পায়নি।

খুনিরা ধন্যরামকে তুলে নিয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়।
ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য শাহজাহানের চাচা শ্বশুর বর্তমানে ৪নং তাড়গাঁও ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আপ্রাণ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি মৃত ধন্যরামের কাকা বিশুকে পিং-মৃত তারিনী সাং-পরমেশ্বরী-কে কাহারোল থানায় নিয়ে এসে গত ৩জুন তারিখে অপমৃত্যুর আবেদন করিয়ে নেন। যার অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলানং-১৫,তাং-
০৩/০৬/১৭, সময়ঃ সকাল ১১ঃ০৫।

অপরদিকে কাহারোল থানার এসআই সুরত চন্দ্র রায়(লাশ তদন্তকারী)-কে দিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট রিপোর্ট লিখিয়ে নেন।
শাহজাহানের চাচা শ্বশুর বর্তমান ৪নং তাড়গাঁও ইউপি চেয়ারম্যান অর্থের বিণিময়ে থানা প্রশাসন সহ সকল আইনী মহলকে দমিয়ে রাখার ও ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে গোপন সুত্রে প্রকাশ।

বিবাদীরা প্রকাশ্যভাবে বলে বেড়াচ্ছে যে, যারা তাদের বিপক্ষে স্বাক্ষী দিবে ও লড়বে তাদের দশা মৃত ধন্যরামের মতোই হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিরলী গ্রামের ধন্যরাম রায়ের বিচারের দাবীতে মানববন্ধনের মাইকিং চলাকালে শাহজাহান গংরা বাঁধা সৃষ্টি করে। নাসির নামে জনৈক সাংবাদিককে আটকে হত্যার অপচেষ্টা করে।

এইবেলাডটকম/আরডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71