সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ বাংলাদেশ
প্রকাশ: ০৯:১২ pm ৩১-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:১২ pm ৩১-০৫-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্
 
 
 
 


বাংলাদেশ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উচ্ছেদ ও জমি দখল হয়ে যাওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিতে চললেও পাঠ্যপুস্তকে ঐতিহ্যগত ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়গুলোয় তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক থেকে অমুসলিম লেখকদের লেখা সরিয়ে ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন সব বিষয়েও ধর্মীয় উপাদান যুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার ঢাকায় আমেরিকান সেন্টার থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশসহ প্রায় ২০০টি দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে  মঙ্গলবার ‘২০১৭ আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন’ প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

বুধবার ঢাকাস্থ আমেরিকান সেন্টারের একটি বিবৃতিতে বলা হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যেমন: হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষদের উচ্ছেদ ও তাদের জমি দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়ে কার্যকর সুরক্ষা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

গত বছর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন, বিশেষ করে বৌদ্ধ ও হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জুন মাসে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চাকমাদের ৩০০ বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় ৭০ বছর বয়সী এক নারী হামলায় নিহত হন। একজন মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা থেকে আগুন-সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে। ফেসবুকে ইসলাম অবমাননাকর পোস্ট দেয়ার অভিযোগে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা রংপুরে হিন্দুদের ৩০টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।

এতে বলা হয় হয়, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাংলা পাঠ্যপুস্তক থেকে দেশটির ঐতিহ্যগত ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়গুলোতে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। যেমন অমুসলিম লেখকদের লেখা সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক নেই—এমন সব বিষয়েও ধর্মীয় উপাদান যুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, দেশটির সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হলেও দেশটি ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিতে চলে। ধর্মীয় বৈষম্য নিষিদ্ধ করে সব ধর্মের জন্য সমতার কথা বলা হয়েছে।


বাংলাদেশে ধর্মীয় সহিংসতার ঘটনার বিরুদ্ধে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের প্রতিনিধিরা ক্রমাগত বক্তব্য রেখেছেন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় সরকারের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ওপর জোর দিয়ে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা, বিশিষ্ট নাগরিক, বেসরকারি সংস্থা ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দূতাবাসের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

এ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, যখন ধর্ম, মতপ্রকাশ, গণমাধ্যম ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মতো মৌলিক স্বাধীনতার বিষয়ে আঘাত হানা হয়, তখনই সংঘাত, অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসবাদের মতো ঘটনাগুলো ঘটে। বিশ্বের প্রত্যেক মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা পেতে ব্যাকুল মানুষের পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71