সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯
সোমবার, ৯ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
অষ্টগ্রামে ধানকাটার ধূম
ধানের মণ সাড়ে ৩শ, কৃষকের মাথায় হাত
প্রকাশ: ০২:২১ pm ২০-০৪-২০১৬ হালনাগাদ: ০২:২১ pm ২০-০৪-২০১৬
 
 
 


অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জ হাওড় উপজেলা অষ্টগ্রামে এখন ইরি বোরো ধান কাটার ধূম পড়েছে।

কিন্তু একদিকে প্রকৃতির প্রতিকূল পরিবেশ অন্যদিকে ধানের দাম অস্বাভাবিক ভাবে কমে যাওয়ায় কৃষকেরা চরম বিপন্ন হয়ে পড়েছেন। ক্ষেত মজুর সংকট ধান কাটা ও পরিবহন খরচ তিন চারগুন বৃদ্ধি পাওয়ায় সমস্যা সংকট বেড়েই চলছে। সরকারী ক্রয়কেন্দ্র গুলোতে ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি। এলাকায় কোন ক্রেতা নেই। ফড়িয়া বেপারীরা অসহায় কৃষকদের নিকট থেকে বর্তমানে প্রতিমন ধান সাড়ে ৩শ থেতে ৪শ টাকা দরে খরিদ করছে।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে চলিত মেীসুমে এ উপজেলায় কৃষকেরা ২৩হাজার ৭শ ৬ হেক্টর ক্ষেতে উন্নয়নশীল ধানের আবাদ করেছে এবং ফলন ও বাম্পার হয়েছে। কিন্তু ধান কাটা শুরু হওয়ার সাথে সাথে সপ্তাহের অধিককাল বৃষ্টি ঝড় ও অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে আব্দুল্লাপুরের বাঁধ কলিমপুরের বাঁধ ও কৈরাইলের বাঁধ ভেঙ্গে এবং বড় হাওড় ও বৈঠাখালী নদী সংযুক্ত রাস্থা উপচিয়ে হাওড়ে পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ফসল হানি সৃষ্টি করে। স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসের হিসেবে ৮শ ৮ হেক্টর ক্ষেতের ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং প্রায় ২হাজার পরিবারের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

এ ক্ষতি ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সংখ্যা  অনেক বেশী। এর পরও প্রতিনিয়ত বৃষ্টি জোয়ারের পানি বৃদ্ধি রোদের অভাব ইত্যাদি প্রকৃতির বিরুপ প্রভাবে কৃষকেরা ধান কেটে গোলায় উঠাতে পারছেনা। প্রতি বছরই এ উপজেলায় ধান কাটার মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধান কাটার মজুর (দাওয়াল) হিসেবে শত শত লোক কাজ করতে আসে। এবার যারা আসছিল তাদের অধিকাংশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকায় চলে গেছেন। ফলে এ উপজেলা বর্তমানে মজুর সংকট তীব্রাকার ধারন করছে। দৈনিক ৫ থেকে ৭শ এবং নীচু বিলা জমি গুলোর ধান কাটাতে মজুরী বাবত অর্ধেক ধান দিয়েও দাওয়াল পাওয়া যাচ্ছে না। অপরদিকে পরিবহন খরচও তিন চারগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। যে ধান গরু মহিষের গাড়ী অথবা ট্রাক দিয়ে হাওড় থেকে স্বাভাবিক ভাবে ধান বাড়ীতে আনত, সেই ধান জমি থেকে মাথায় বুঝা দিয়ে নদীরপাড়, পরে নৌকা আবার গাড়ী ট্রলী এবং ট্রাক দিয়ে বাড়ীতে আনতে হচ্ছে। রাস্তা সড়ক ভেঙ্গে গেছে।


একমাত্র (বোরো উৎপাদন উপর এ উপজেলা ৮০ থেকে ৮৫ভাগ মানুষের জীবিকা নির্বাহের উৎস। সংখ্যাগরিষ্ট লোক ভূমিহীন ক্ষেত মজুর ছোট ও মাঝারী কৃষক প্রান্থিক ও বর্গাচাষী। উৎপাদিত ধানের ২৫ থেকে ৩০ ভাগে স্থানীয় খাদ্য চাহিদা পূরন হয়ে থাকে। অন্য ধান জাতীয় খাদ্য ভান্ডারে যোগান হয়ে থাকে এবং শ্রমজীবি কেটে খাওয়া লোকজন ও কার্ত্তিক থেকে বৈশাখে ইরি বোরো উৎপাদনে মজুরী বিক্রি করে এবং বৈশাখে ধান কাটার মেীসুমে বর্ষার খাবার জোগাড় করে থাকে। ফলে বর্তমানে উৎপাদান খরচ যোগাতেই টাকা পয়সার বিশেষ প্রয়োজন। বাধ্য হয়েই প্রতিমন ধান সাড়ে ৩শ থেকে  ৪০০শ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। ল্যাম্ভ লর্ড ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাওসার আলম কৃষক ফজু মেম্বার, মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান জানান এবার কৃষকেরা চরম বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

এইবেলাডটকম/মন্তোষ/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71