শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯
শুক্রবার, ৪ঠা শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের অবদান কেউ মনে রাখেনি
প্রকাশ: ০৩:৩৮ am ২৭-০২-২০১৭ হালনাগাদ: ০৩:৩৮ am ২৭-০২-২০১৭
 
 
 


শিতাংশু গুহ||

ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে কি বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বলা যায়? বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যা ভাষার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই ভাষার পক্ষে প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের। পাকিস্তান স্বাধীন হয় ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট। মাত্র ছয় মাসের মাথায় করাচিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্পষ্ট ভাষায় দাবি তুলেন- বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা হোক। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছেন, সেই দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়, ভাষা আন্দোলনের সূচনা ঘটে। মুখ্যত, ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়ে দেশ স্বাধীন হয়। এটাই ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত যে স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু এর বাস্তবায়ন করেন। সেই অর্থে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। মহান একুশ বাংলা ভাষার জয়গাথা। অভিযোগ রয়েছে, এই ফেব্রুয়ারি মাসেও ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত অবহেলিত, তাকে কেউ খুব একটা স্মরণ করেননি।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি আরমা দত্ত বাংলাদেশে পরিচিত। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানুয়ারির ৩১ তারিখে তিনি জানান, ‘পাকিস্তানের প্রথম অ্যাসেম্বলির প্রথম অধিবেশনে তার দাদু রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে দাবি তুলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলাদেশের মানুষ এখন এর ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যার যা প্রাপ্য তাকে তা দিতে হবে। ১৯৪৮ সালে ‘ভাষা আন্দোলনের’ সূচনা করে নতুন জাতি বাংলাদেশ সৃষ্টিতে তার অবদানকে মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি যোগ করেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ’ পেতে সঠিক ইতিহাস পুনঃরুদ্ধার প্রয়োজন।’ আরমা দত্ত সঙ্গে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পূর্ণাঙ্গ ভাষণটি পাঠিয়েছেন, যা এখন ইন্টারনেটে সহজলভ্য। এটি ইংরেজিতে। কিন্তু এর সুললিত বাংলা এখনো দেখিনি। সত্যিকার অর্থে যদি এর হুবহু সঠিক সর্বজনগ্রাহ্য বাংলা না হয়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে, তিনি সত্যিই অবহেলিত! বাংলা একাডেমি কি ওই ভাষণের বাংলা করেনি?

এ দৈন্যতা কেন? বঙ্গবন্ধু যখন ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের অবদান স্বীকার করে গেছেন, তখন তো আর কথা থাকে না। বঙ্গবন্ধুর ভাষায় : ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সাল। করাচিতে কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলির সভায় পাকিস্তানের সংবিধান নিয়ে বৈঠক হচ্ছিল। সেখানে রাষ্ট্রভাষা কী হবে সেই বিষয়েও আলোচনা চলছিল। মুসলিম লীগ নেতারা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষপাতী। পূর্ব-পাকিস্তানের অধিকাংশ লীগ সদস্যেরও সেই মত। কুমিল্লার কংগ্রেস সদস্য বাবু ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত দাবি করলেন- বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা হোক। কারণ, পাকিস্তানের সংখ্যাগুরুর ভাষা হলো বাংলা। লীগ সদস্যরা কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না। আমরা দেখলাম বিরাট ষড়যন্ত্র চলছে বাংলাকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত জীবনীর টীকাভাষ্যে বলা হয়েছে : ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮৬-১৯৭১) আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। ১৯৪৬ সালে কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৭-এ দেশ বিভাগের পর পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দু ভাষার পাশাপাশি বাংলা ভাষাকেও সমান মর্যাদা দানের দাবি জানান। এই দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়। এই সূত্রে পূর্ববাংলার ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। তিনি আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে গঠিত পূর্ববাংলা সরকারের মন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ পাকিস্তান হানাদার বাহিনী তাকে তার বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ।

আসলে ২৭ না ২৯ মার্চ কোন তারিখটি সঠিক? বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত জীবনীতে টিকাভাষ্যে লেখা হয়েছে, ২৭ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে তার কুমিল্লার বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। উইকিপিডিয়া বলছে, ২৯ মার্চ ১৯৭১। এরোমা দত্তই পারেন এটি সংশোধন করতে। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ছোট মেয়ে মিসেস মনীষা পুরোকায়স্ত কলকাতায় থাকেন। তিনিও পারেন সঠিক তথ্য দিতে। এ বিষয়ে এরোমা দত্ত জানান, দিনটি ২৯ মার্চ ১৯৭১। এ সময়ে তার দাদুর বয়স ছিল ৮৪। প্রথম জীবন সম্পর্কে উইকিপিডিয়া জানায়, ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রামরাইলে তার জন্ম। বাবা জগবন্ধু দত্ত আইনজীবী ছিলেন এবং তার হাতেই ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের আইনি পেশায় হাতেখড়ি। তিনি নবীনগর হাইস্কুল, কুমিল্লা জিলা স্কুল ও কলকাতার রিপন কলেজে পড়াশোনা করেন। কর্মজীবন শুরুতে তিনি কুমিল্লার বাঙ্গরা হাইস্কুলের সহকারী হেডমাস্টার ছিলেন। ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা বারে যোগ দেন।

বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল কঠোর। ধর্মের ভিত্তিকে ভারত বিভাগ এবং পাকিস্তান সৃষ্টির বিপক্ষে ছিলেন শহীদ দত্ত। কিন্তু দেশ বিভাগ অনিবার্য হয়ে গেলে তিনি পূর্ব-পাকিস্তানে থেকে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। তাই হয়তো পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই নতুন এই দেশটির সংবিধান প্রণয়ন কমিটিতে তাকে নেয়া হয় দেশটি আইনগত খসড়া কাঠামো তৈরির জন্য। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানের ৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষের মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাংলায় কথা বলে, তাই আমার বিবেচনায় বাংলা হওয়া উচিত রাষ্ট্রভাষা।’ তার এই বক্তব্যকে জিন্নাহর ‘উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বলা যায়। তাকে ‘ভাষা আন্দোলনের জনক’ বললেও বেশি বলা হবে না। আমরা চাই বা না চাই, ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে গেছেন।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন। একুশে পদক পাননি। জানা যায়, তাকে ২৯ মার্চ ২৯৭১ সালে পাকিস্তানি দুজন ক্যাপ্টেন নাসিম মালিক ও আগা বোখারি উঠিয়ে নিয়ে যায় বা হত্যা করে। আরো একটি মতবাদ আছে যে, তাকে বেশ কিছুদিন প্রচণ্ড অত্যাচারের পর পঙ্গু অবস্থায় হত্যা করা হয়। তার নিখোঁজ বা মৃত্যু নিয়ে স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো তদন্ত করা হয়েছিল কিনা আমার জানা নেই। না হয়ে থাকলে এটি হওয়া উচিত এবং এই মহানায়কের মৃত্যুরহস্য উন্মোচন হওয়া দরকার। উইকিপিডিয়া জানাচ্ছে, ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্তান পার্লামেন্টে ভাষণে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি করেন। বাংলাপিডিয়া বলছে, তারিখটি ২৫ আগস্ট ১৯৪৮।

বাংলাপিডিয়া বা উইকিপিডিয়া এনসাইক্লোপিডিয়া নয়। সরকার পারে এই সমস্যার সমাধান করতে। বাংলা একাডেমির কাজ এটা। আমরা সঠিক তথ্য চাই। তাকে নিয়ে কোনো গবেষণা হয়েছে কিনা বা বাংলা একাডেমি তাকে নিয়ে কোনো কাজ করেছে কিনা কে জানে? হয়তো এসব কারণেই অভিযোগ যে, তিনি অবহেলিত! ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৫৬-৫৮ সালে আতাউর রহমান খানের মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধকালে তাকে গৃহবন্দি করা হয় এবং ‘নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলে ঘোষণা করা হয়। এরপর তিনি প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদী’ আন্দোলনের প্রতি তার অবিচল সমর্থন ছিল।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের তিন দিন পর ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে গ্রেপ্তার করে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই অত্যাচার করে তাকে মারা হয়। তার ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকেও হত্যা করা হয়। দত্তের উত্তরসূরিরা কি তাদের প্রিয়জনের দেহাবশেষ দাবি করতে পারেন না? আধুনিক যুগে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া কি খুবই অসম্ভব? তবে বাংলা একাডেমির ওয়েবসাইট খুঁজে আমি অন্তত ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে খুঁজে পাইনি। অনেক মহারথীর ছবি আছে, যা থাকা উচিত। মাইনাস শুধু ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ইমেজ গ্যালারিতেও খুঁজলাম, পেলাম না! এমনিতে একাডেমির ওয়েবসাইটি যথেষ্ট ‘দরিদ্র’ বলেও আমার কাছে মনে হয়েছে। তবে ২ নভেম্বর ২০১৪ বাংলা একাডেমি ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ১২৮তম জন্মদিন পালন করেছিল।

মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন যে, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত দেশপ্রেমিক ও প্রগতিশীল ছিলেন। তিনি ভাষাসৈনিক এবং মুক্তিসংগ্রামী। ১৯৪৮ সালে তিনি সততা, সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলেন। তিনি ছিলেন কমিউনিটি নেতা এবং ১৯১৫ সালে বন্যার পর তার রিলিফ কর্মসূচি সবার প্রশংসা কুড়ায়। মহাত্মাগান্ধীর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘মুক্তিসংঘ’ নামে একটি সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। ১৯৪৩ সালে বাংলায় দুর্ভিক্ষের সময় তার সমাজসেবামূলক কাজ প্রশংসনীয় ছিল। ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগদানের আগে পর্যন্ত তিনি ওকালতি ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। ১৯৩৭ সালে তিনি নির্বাচনে জিতে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য হন। ‘ব্রিটিশ ভারত ছাড়’ আন্দোলনে তিনি গ্রেপ্তার হন। এমিরেট প্রফেসর আনিসুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন এবং প্রফেসর শামসুজ্জামান খান স্বাগত ভাষণ দেন, মূল প্রবন্ধ ‘একাগ্র দেশব্রতী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত’ পাঠ করেন প্রফেসর শফিউল হাসান। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি এরোমা দত্ত এ সময় দাদুর নানা দিক তুলে ধরেন।

নিউইয়র্কের ওল্ড ওয়েস্টব্যারির প্রফেসর ড. সব্যসাচী ঘোষ দস্তিদার তার ‘অ্যাম্প্যায়ারস লাস্ট কজালটি’ বইয়ে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত : দি ফাদার অব দি আইডিয়া অব বাংলাদেশ।’ তিনি লিখেছেন, ‘কুমিল্লার ঠাকুরপাড়ায় তার শ্মশান পরিদর্শকালে আমার আবার মনে হলো কীভাবে হিন্দুরা উপেক্ষিত হয়। দত্তবাবু হিন্দু ছিলেন। তিনিই প্রথম পাকিস্তানের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবি তুলেছিলেন। ভাষার প্রতি তার ভালোবাসার চূড়ান্ত পরিণতি স্বাধীন বাংলাদেশ। তার এই স্বপ্নপূরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।’ তিনি লিখেছেন, ‘একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী দত্ত ও তার ছেলেকে টেনে-হিঁচড়ে ধরে নিয়ে যায়, তাদের আর খোঁজ মেলেনি।’ লেখক দুঃখ করে লিখেছেন, “অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে এই মহান নেতার বাড়িঘর ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে বাজেয়াপ্ত হয়।” তিনি তুলনা করে বলেন, আমেরিকায় জর্জ ওয়াশিংটনের বাড়িঘর ‘শত্রু-সম্পত্তি’ হয়ে গেছে কি ভাবা যায়?

এই লেখককে ধন্যবাদ জানিয়ে এরোমা দত্ত ১১ অক্টোবর ২০০৯ সালে এক চিঠিতে লিখেছেন, মান্যবর অধ্যাপক, ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে বর্ণনা করায় আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার লেখাটি পরে আমি কেঁদেছি। আমি কৃতজ্ঞ, আপনি সঠিকভাবে ইতিহাস তুলে ধরেছেন। কিন্তু এখন ইতিহাস ভুলদিকে ধাবিত হচ্ছে, ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হচ্ছে, যা আমাকে পীড়া দেয়। সমগ্র জাতির উচিত ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। কিন্তু ক্বচিৎ কেউ তাকে মনে রাখে। তার অবদানে কেউ মনে রাখে না। বরং পরিকল্পিতভাবে তাকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে। অস্টিন পিয়ে স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামান মানিক বাংলাদেশ অবজারভারে সোমবার ১৩ নভেম্বর ২০১৪ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের ওপর এক নিবন্ধে শ্রী দত্তের ভূমিকা তুলে ধরেন। মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী সম্প্রতি এশিয়ান ট্রিবিউন পত্রিকার কয়েকটি পর্বে ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেতা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের’ ওপর বিশদ আলোচনা করেছেন। আরো অনেকে হয়তো ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে নিয়ে লিখেছেন যা আমার জানা নেই। তবে এটুকু জানি, বাঙালি ভাষাভাষী থাকলে তাকে নিয়ে ভবিষ্যতে আরো বহু লেখা হবে। গবেষণা হবে। রবীন্দ্রনাথ-নজরুলকে বাদ দিয়ে যেমন বাংলা সাহিত্য কল্পনা করা যায় না, তেমনি বঙ্গবন্ধু, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বা ভাষা শহীদদের বাদ দিয়ে ‘মহান একুশ’ কল্পনা করা যায় না।

নিউইয়র্ক থেকে
শিতাংশু গুহ : কলাম লেখক।

 

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71