বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
ধূমপান ত্যাগে আসছে নতুন ওষুধ
প্রকাশ: ০২:৫৭ pm ০৩-০৯-২০১৮ হালনাগাদ: ০২:৫৭ pm ০৩-০৯-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


ধূমপান ত্যাগে সহায়তা করতে আসছে নতুন ওষুধ। গবেষকেরা বলছেন, নতুন ওষুধটি শিগগিরই বাজারে পাওয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের আবিষ্কৃত এক ডজনেরও বেশি পদার্থ সমন্বয়ে তৈরি ওষুধটি ধূমপায়ীকে নিকোটিনের ওপর নির্ভরতা থেকে সংযত করবে। নতুন এই ওষুধটি শরীরে নিকোটিনের অণু ছড়িয়ে পড়তে বিলম্বিত করবে। বিলম্বিত প্রক্রিয়াটিই ধূমপায়ীকে ধূমপান ত্যাগে সহায়তা করবে অথবা ধূমপানের মাত্রা কমিয়ে দেবে। 

গবেষকেরা বলছেন, নিকোটিন অন্যান্য ওষুধের মতো মস্তিষ্ক থেকে ডোপামিন ও সেরোটোনিন নামে দুইটি রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে দেয়। ডোপামিন মস্তিষ্কে নিউরো ট্রান্সমিটার হিসেবেও কাজ করে। নিকোটিনের কারণে ছড়িয়ে পড়া ডোপামিন ও সেরোটোনিন অন্যান্য নার্ভ সেলকে সিগনাল পাঠিয়ে পুরো শরীরে এক ধরনের ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিকোটিন শরীরে ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি করলেও শরীর তা ভালোভাবে নেয় না, এটাকে বের করে দিতে চায় অথবা ভেঙে ফেলতে চায়। মানুষের লিভার (যকৃত) নিকোটিনকে ভেঙে দিতে সিওয়াইপি২এ৬ নামে একটি এনজাইম তৈরি করে। এ এনজাইমে শরীরে নানা রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্যে দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ অন্যতম। শারীরবৃত্তিয় এসব প্রক্রিয়ার কারণে শরীর ধীরে ধীরে নিজের মধ্যে সহ্য ক্ষমতা বাড়িয়ে নেয়। এ ছাড়া নিকোটিন গ্রহণের পরিমাণও বাড়িয়ে দেয়। গবেষকেরা লিভারে তৈরি হওয়া সিওয়াইপি২এ৬ এনজাইমকে প্রতিরোধ করে নিকোটিনের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করার প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেছেন। ট্যাবলেট আকারে তৈরি করা এ ওষুধ গ্রহণ করে ধূমপায়ী একদিন ছেড়ে দিতে পারবে। 

বিজ্ঞানীরা ধূমপান সম্পর্কিত ৪১টি গবেষণা পর্যালোচনা করে জানিয়েছেন, এমনকি দৈনিক একটা সিগারেট পান তাতেও স্বাস্থ্য ধ্বংসাত্মক হতে পারে। এই একটা সিগারেটও করোনারি হার্ট ডিজিজ অথবা স্ট্রোকের কারণ হয়ে থাকে। 

গবেষকেরা বলছেন, দৈনিক একটা মাত্র সিগারেট দৈনিক ২০টি সিগারেট পানের ক্ষতির অর্ধেক ঘটানোর ক্ষমতা রাখে। তারা বলছেন, ধূমপানের নিরাপদ মাত্রা নেই এবং ধূমপায়ীদের উচিত আজই ত্যাগ করা। 

পুরুষদের ৪৪.৭ শতাংশ তামাকজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে অথবা ধূমপান করে থাকে। অন্য দিকে নারীদের এক-তৃতীয়াংশ বিভিন্ন জাতের তামাক ব্যবহার করে থাকে। তামাকজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করে এবং ধূমপান করার কারণে এখানে ৩০ বছরে ঊর্ধ্বে ৫৭ হাজার মানুষ মারা যায়। 

তামাকবিরোধী ক্যাম্পেইনাররা বলছেন, বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণ কনভেনশনে স্বাক্ষর করলেও এখন পর্যন্ত তামাক নিয়ন্ত্রণে কোনো জাতীয় সংস্থা গঠন করতে পারেনি। সর্বশেষ চালানো জরিপ বলছে, বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার দিনকে দিন বেড়েই চলছে। ১৯৯৭ থেকে ২০১০ দেশে সিগারেটের বিক্রি বেড়েছে ৪০ শতাংশ, একই সাথে তামাকজাতীয় পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে সস্তায় বেচাকেনা হওয়া বিড়ির বিক্রি বেড়েছে ৮০ শতাংশ। ১৫ বছর থেকে ঊর্ধ্বে সব বয়সী ১০ কোটি ৭০ লাখ মানুষের মধ্যে ৪ কোটি ৬৩ লাখ মানুষই তামাকজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার করে থাকে। 

৫৮ শতাংশ পুরুষ এবং ২৮.৭ শতাংশ নারী হয়তো তামাকজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে ধূমপান করে অথবা তামাক চিবিয়ে থাকে। এটা মোট জনসংখ্যার ৪৩ শতাংশ। 

১৯৯৭ সালে সারা দেশে পাঁচ হাজার কোটি সিগারেট বিক্রির তুলনায় ২০১০ সালে বিক্রি হয়েছে সাত হাজার ১৮০ কোটি সিগারেট। অন্য দিকে জরিপ বলছে, ১৯৯৭ সালে বিক্রি হওয়া বিড়ির সংখ্যা ছিল চার হাজার ৩০০ কোটি ২০১০ সালে বিক্রি হয় আট হাজার ১০০ কোটি। 

ধূমপানবিরোধী গ্রুপগুলো বলছে, বিড়ি-সিগারেটের ওপর ১০ শতাংশ করারোপ করা হলে এর উচ্চমূল্যের কারণে ৫ শতাংশ সিগারেট বিক্রি কমবে। অপর দিকে বিড়ি বিক্রির পরিমাণ কমবে ৭ শতাংশ।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71