শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
নগ্ন ভিডিও এবং ভাইকে হত্যার ভয় দেখিয়ে স্কুলছাত্রীকে এক বছর ধরে ধর্ষণ
প্রকাশ: ০৯:৫০ am ১৫-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:৫০ am ১৫-০৫-২০১৮
 
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
 
 
 
 


ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গাবলা গ্রামে এক স্কুলছাত্রীর নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে এবং তার ভাইকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে টানা এক বছর ধরে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে হাফিজ উদ্দীন মোল্লা (৬০) নামে এক বৃদ্ধর বিরুদ্ধে। 

গ্রাম্য মাতুব্বর হাফিজ উদ্দীন মোল্লা গাবলা গ্রামের মৃত বিলাত আলী মোল্লার ছেলে। নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া হৃতদরিদ্র পরিবারের ওই স্কুলছাত্রীকে হাফিজ মোল্লার ক্রমাগত ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচাতে হরিণাকুন্ডু উপজেলার জোড়াদহ ভায়না গ্রামে বিয়ে দিয়েও রক্ষা পায়নি পরিবার। একমাত্র ভাই টিটোনকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেখিয়ে বিয়ের পর আবারও তাকে ধর্ষণ করেছে হাফিজ মোল্লা। 

এ ব্যাপারে ধর্ষণের শিকার মেয়েটি আজ শৈলকুপা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগে জানা যায়, হাফিজ উদ্দীন মোল্লা গ্রামের মাতুব্বর হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন সময় ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। অষ্ঠম শ্রেণির ছাত্রী থাকাকালীন হাফিজ মোল্লা বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। ওই সময় লোকলজ্জা ও মাতুব্বরের ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানায়নি ওই স্কুলছাত্রী। এক পর্যায়ে কৌশলে ওই মাতুব্বর ছাত্রীর ধর্ষণের ভিডিও তার মোবাইলে ধারণ করে। এরপর ভিডিও এবং একমাত্র ভাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। এরমধ্যে পরিবার ঘটনাটি জানতে পেয়ে হরিণাকুন্ডুর ভায়না গ্রামে বিয়ে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেয়। সেখানে গিয়ে ভাইকে হত্যা ও ভিডিও ধারণের দৃশ্যর ভয় দেখিয়ে চলে আসে। এরপর গত ৮ দিন আগে ঝিনাইদহ শহরে মেয়েটিকে নিয়ে এসে ধর্ষণ করে ওই মাতুব্বর। উপায়ন্তর না পেয়ে মেয়েটি শৈলকুপায় থানায় গিয়ে ওই মাতুব্বরের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। 

মেয়েটির ভাবি রুলি খাতুন অভিযোগ করেন, হাফিজ উদ্দীন মোল্লা এক বছর ধরে আমার ননদকে হুকমী ধমকি দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করছে। সর্বশেষ গত ৮ দিন আগে ঝিনাইদহে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষিতার অভিযোগ এলাকার স্কুল পড়–য়া মেয়েদের লালসার শিকার বানায় হাফিজ মোল্লা। এ পর্যন্ত সে গাবলা গ্রামের ৭/৮টি মেয়ে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেছে।

অভিযুক্ত হাফিজের ভাই অবসরপ্রাপ্ত পোষ্টমাস্টার মনিরুল ইসলাম জানান, একজন বিবাহিত মেয়ের পিছু নিয়ে তার ভাই যেমন অপরাধ করেছে তেমনি ওই মেয়েটিও তার আহবানে সাড়া দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে সমান অপরাধ করে চলেছে। 
 
এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আজ মেয়েটিকে দুই ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাকে এক বছর ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। বিয়ের পরও তাকে উত্যক্ত করা হয়েছে। উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে আজ রাতেই ধর্ষণ মামলা রেকর্ড করা হবে।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71