রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮
রবিবার, ৭ই শ্রাবণ ১৪২৫
 
 
নদীর নাব্যতা সংকটে নৌ-পথে নৌকাজট
প্রকাশ: ০৯:৪৬ pm ১৪-০৩-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:৪৮ pm ১৪-০৩-২০১৮
 
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
 
 
 
 


সুনামগঞ্জের হাওরা অঞ্চলের নদী পথের নাব্যতা সংকটের কারণে জেলার জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর ৪টি উপজেলা নৌ যানজটের শিকার হয়েছে। 

এসব এলাকার হাওরা লে নদী পথে বালু-পাথর বহনকারী ইঞ্জিন চালিত ষ্টীল বডি ৩ শতাধিক ভলগেট নৌকা প্রায় ১৫দিন ধরে জামালগঞ্জ উপজেলার অংশের বৌলাই নদীর প্রবেশ পথে আটকা পড়ে আছে। উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের আবুয়া নদীর মুখ থেকে পা-ব নদী হয়ে রামজীবন পুর পর্যন্ত পায় আড়াই কিলোমিটার নদী পথে মালবাহী নৌযান গুলো আটকা পড়েছে।

জানা যায়, জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া, টেকেরঘাট, চাড়াগাঁও শুল্ক ষ্টেশন থেকে কয়লা, চুনাপাথর, ফাজিলপুর থেকে বালু ও নুড়ি পাথর ক্রয় করে সারা দেশে যোগান দেয় ব্যবসায়ীরা। এসব আমদানিকৃত পণ্য বহনের একমাত্র মাধ্যম জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও ধর্মপাশার নদীপথ। ঐসব উপজেলার নদী গুলোর নাব্যতা হারিয়েছে। নদীর তলদেশ খনন না থাকার কারণে বালু-পাথর বহনকারী ষ্টীলবডির নৌযান আটকা পড়েছে। বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ, আশুগঞ্জ, ফতুল্লা, নারায়নগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন জেলার মালবাহী নৌয়ান শ্রমিকরা ওই নদীতে আটকা পড়ে মানবেতর দিন অতিবাহিত করছেন। 

আটকে থাকা শ্রমিকরা জানান, প্রায় ১৫দিন ধরে তারা আটকা পড়ার কারণে থাকা-খাওয়ার সমস্যাসহ এলাকার কথিপয় অসাধু চক্রের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। নৌ পুলিশ টহলে থাকলে সাময়িক সময় নৌ-শ্রমিকরা ভালো থাকলেও পুলিশ চলে আসলে তারা চরম আতঙ্কগ্রস্থ অবস্থায় সময় পার করছেন। 

নাম না বলার শর্তে কয়েকজন নৌ শ্রমিক জানান, এখন বিভিন্ন দোহাই দিয়ে নৌ-পুলিশের ছত্রছায়ায় থেকে নীরবে কিছুটা চাঁদাবাজী হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ মালবাহী নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সফিজুল ইসলাম বলেন, নদীর নাব্যতা হারিয়ে পানি কমে যাওয়ার কারণে প্রায় ১৫দিন ধরে নৌযান ও শ্রমিকরা আটকা পড়েছেন। কয়েক দফা গিয়েও তাদের চলাচলের ব্যবস্থা করতে পারছিনা। 

সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী তালুকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহানুর মিয়া জানান, আটকা পড়া শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান করতে বারবার নদীপথে গিয়ে চেষ্টা করেছি। প্রথম দিকে কয়েকটি ষ্টীল বডি নৌকা যাতায়াত করলেও এখন একটি নৌকা নদীর মাঝখানে ডুবে পড়ার কারণে নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হবে। 

জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা মুক্তিযোদ্ধ ইউনিটের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ইউসুফ আল-আজাদ বলেন, নদী খনন না হলে এই সমস্য সমাধান হবে না। শ্রমিকরা নদীতে আটকা পড়েছে শুনেছি। নৌ-পুলিশের দু-হাই দিয়ে কিছু চাঁদা আদায়ের ব্যাপারে আমাকেও কয়েকজন জানিয়েছেন। রক্ষকরা যদি ভক্ষক হয় তা হলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে আমাদের এলাকায়। 

অবশ্য নৌ-পুলিশের দায়িত্বে থাকা জামালগঞ্জ থানার এ.এস.আই আল আমীন বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এখন নদীপথে চাঁদাবাজী বন্ধ, পুলিশের ছত্রছায়ায় থেকে কেউ চাঁদা আদায় করে না।


জেএবি/ আরপি


 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71