বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ১১ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
নবগঙ্গার ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল ৩০০ বছরের পালপাড়া
প্রকাশ: ০৬:০৫ pm ১৫-০৮-২০১৮ হালনাগাদ: ০৬:০৫ pm ১৫-০৮-২০১৮
 
নড়াইল প্রতিনিধি
 
 
 
 


জোয়ারের প্রবল স্রোতে প্রমত্তা নবগঙ্গা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার শুক্তগ্রামের প্রায় দুইশ’ বছরের পুরোনো পালপাড়া নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ভাঙ্গনের হুঁমকির মুখে রয়েছে নদী তীরবর্তী ঐতিহ্যবাহী শুক্তগ্রাম বাজার ও কয়েকশ’ পরিবারের বসতবাড়ি। নদী ভাঙ্গনে প্রায় ৫০টি পাল পরিবারসহ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। মেলেনি কোন সরকারি সাহায্য। হতাশায় এবং ক্ষোভে শেষ সম্বল সরাতে ব্যস্ত সবাই।

বুধবার নবগঙ্গাপারের শুক্তগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে হুড়োহুড়ি আর ঘরবাড়ি সরানোর কাজে ব্যস্ত লোকজন। ভাঙন আতঙ্কে কেউ কেউ শেষ সম্বল দিয়ে নির্মিত নতুন দালানঘর ভেঙে ফেলছে। কেউ আবার নিজের নষ্ট হওয়া জিনিসপত্রের দিকে হতাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। যে যেভাবে পারছে বাড়িঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। রাতারাতি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তাদের পারিবারিক মন্দির, কুমারদের চাকার ঘর, হাঁড়ি-কলসি পোড়ানোর পাঁজা, নার্সারিসহ অসংখ্য ফলদ ও বনজ বৃক্ষ।

শুক্তগ্রামের পালপাড়ার প্রবীণ ঝন্টু পাল (৭০) জানান, বাবার হাত ধরেই তিনি এ পেশায় এসেছেন প্রায় ৪৫ বছর আগে। স্ত্রী ও এক অন্ধ ছেলেসহ চার সন্তান এবং তাদের সন্তান সহ মোট ১১ জন সদস্য নিয়ে তার সংসার। ১৭ শতক জমিতে চারটি ছোট টিনের ঘর ও একটি মৃৎশিল্প তৈরির চাকা এবং পোড়ানের পাজা ছিল তাদের। তিনটি ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারলেও বাকি সব নবগঙ্গায় বিলীন হয়ে গেছে। নবগঙ্গার গত পাঁচ বছরের ভাঙনে কোনো রকম টিকে থাকলেও গত সোমবারের ভাঙনে প্রায় সব হারিয়েছেন। ভাঙনের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

তিনি বলেন, তার কোন সামর্থ নেই অন্যত্র জমি কিনে নতুন করে বাড়িঘর নির্মাণ করার। ১৫দিন ধরে কাজ বন্ধ। যেসকল জিনিসপত্র তৈরি করা ছিল তাও সরাতে পারেননি। এই বৃদ্ধ বয়সে তিনি এখন কি করবেন সেকথা বলে অঝোরে কেঁদে উঠলেন।

নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ নেওয়াজ তালুকদার বলেন, ‘আমরা জিও ব্যাগ এবং ব্লক ফেলে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেব।’

নড়াইলের জেলা প্রশাসক মো. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙনকবলিত মানুষের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। পাউবোকে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।’

এদিকে নদীভাঙনের অন্যতম কারণ হিসেবে বালু উত্তোলনকে চিহ্নিত করলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71