বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ২৯শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
নবীগঞ্জে দিন দুপুরে সরকারী রাস্তার গাছ চুরি!
প্রকাশ: ০৪:৪৬ pm ১৩-১১-২০১৮ হালনাগাদ: ০৪:৪৮ pm ১৩-১১-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


দিন দুপুরে সরকারী রাস্তার গাছ চুরি করে নবীগঞ্জের প্রভাবশালী একটি চুর চক্র। কয়েক লক্ষাধীক টাকার কাটা গাছ ট্রাকটর যোগে বাংলা বাজার ও গোপলার বাজার সড়কের পাশ থেকে আউশকান্দি শহীদ কিবরিয়া চত্ত্বর সংলগ্ন একটি নতুন বিল্ডিংয়ের সামনে ট্রেক্টকার চালকারা গাছগুলি ফেলে চলে যায়। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুটি ট্রাকটর যোগে গাছগুলি রাতের আধাঁরে নিয়ে যেতে চাইলে কুর্শি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  আলী আহমদ মুছার গাছগুলো মুছার দুহাই দিয়ে কৌশলে আত্মগোপন করে। পরে স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সরকারী গাছগুলি আটক করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ টু শেরপুর বায়া রাস্তা বাংলা বাজার ও গোপলার বাজার সড়কের ৩০/৪০টি আকাশি, বেলজিয়াম সহ আরো কয়েক ধরনের গাছ কাটা হয় গত ৫/৬দিন পূর্বে। কিন্তু এই গাছগুলি রাস্তার পাশ্বেই রয়ে যায়। সরকারের কোন লোকজন বা স্থানীয় কোন জনপ্রতিনিধি এই গাছগুলো তাদের হেফজতে না নেওয়ায় অবশেষে শুক্রবার দুপুরে চুরি করে প্রথমে আউশকান্দি শহীদ কিবরিয়া চত্ত্বরে নিয়ে এসে গাড়ি থেকে নামিয়ে ট্রাকটর চলে যায়। হঠাৎ করে অনেকগুলো গাছ এভাবে ফেলে রাখায় স্থানীয় সিএনজি, ইমা, বাস, রিক্সা- অট্রোরিক্সা শ্রমিক ও আশপাশ ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের নজরে পড়লে তাদের মনে নানান প্রশ্ন ও সন্ধেহের সৃষ্টি হয়। এতে তারা গাছের মালিককে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে ঘটনাস্থলে গাছে মূল মালিক পাওয়া যায়নি।

সাথে সাথে এ ঘটনার খবর হবিগঞ্জ- নবীগঞ্জ ও আউশকান্দি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌছে ক্যামেরায় ছবি তুলতে চাইলে গাছ চুরের সাথে জড়িত অজ্ঞাত কিছু সংখ্যক লোকজন বাধাঁ প্রদান করলেও সাংবাদিকরা তাদের জীবন বাজী রেখে সরকারী গাছ উদ্ধারের কাজে পেছপা না হয়ে তড়িগড়ি করে তাদের ক্যামারায় গাড়ি ও গাছের ছবি তুলা ও ভিডিও পোটেজ সংগ্রহ করাকালে সু-চুর গাছ চুরের সাথে জড়িত ট্রেক্টকার চালক, হেলাপার চুর চক্রের সদস্যরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। তবে, ছবি তুলার প্রায় আধা ঘন্টা সময় সাংবাদিক ও স্থানীয়রা গাড়ি সহ গাছের মালিকদের খুঁজে না পেয়ে গাড়ি ও গাছ আটক রাখা হয়।

সরকারী গাছ চুরির খবর পেয়ে ছুটে আসেন, হবিগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক শফিউল আলম হেলাল, স্থানীয় ইউপি সদস্য খালেদ আহমদ জজ, শ্রমিক নেতা মাইদুল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হন। 

পরে বিষয়টি নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জ্বি আমি এ ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। এবং যারা এই সরকারী গাছ চুরির সাথে জড়িত তাদের সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। এবং আমাদের জিম্মায় গাছ না দিলে আমার আইনী প্রক্রিয়ায় তাদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নেব। তবে, কিছুক্ষণ পূর্বে আমার কাছে আরেকটি খবর এসেছে সরকারী কাটা গাছগুলি আমাদের হেফাজতে আসছে।

বিশ্বস্ত আরেকটি সূত্রে জানা যায়, সমরগাঁও গ্রামের মনু মিয়া ও তার ভাই ছনু মিয়া ট্রাকটর যোগে ঐ ৩০/৪০টি চুরি করে আউশকান্দি ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রামের আব্দুল হক সরদার পুত্র রুহেল মিয়ার কাছে বিক্রি করার জন্য আনেছিল বলে সূত্রে জানা যায়। 

এ নিয়ে প্রশাসন সহ এলাকার লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। অনেকেই বলছেন, এতো বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তি কে? যে, সরকার বাহাদুরের প্রায় ১০লক্ষাধীক টাকা মূল্যের গাছ কেটে দিন দুপুরে চুরি করে বিক্রি করার সাহস কোথায় থেকে পেল? সচেতন লোকজনদের দাবী যদি এর কঠোর কোন ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে দিন এভাবে সরকার হারাবো লক্ষ কোটি টাকার মূল্যের সম্পদ। এবং চুর চক্ররা দিন দিন আরো সাহস বাড়বে। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি কোন আইনী প্রক্রিয়া না হয় তাহলে এসবের দায়বার প্রশাসনকেই নিতে হবে।

এ ব্যাপারে ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দাল মিয়ার মোবাইল ফোন ০১৭৩৫৪৩৫৫৪৩ নাম্বারে সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

উল্লেখ্য, নবীগঞ্জ- বাহুবল আসনের সদস্য সদস্য এম এ মুনিম চৌধুরী বাবুর ছোট ভাই বেলাল চৌধুরী সন্ধা রাতে কিবরিয়া চত্ত্বরের পশ্বিম পাশে চুরাই গাছগুলিন ট্রাক্টরে তুলার সময় তার সন্ধেহ হলে তিনি সহ আরো অনেকেই বিষয়টি জানতে চাইলে মনু মিয়া ও তার ভাই ছনু মিয়া চেয়ারম্যানের দুহাই দিয়ে পালিয়ে যায়। 

নি এম/ছনি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71