বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
নরেন্দ্র মোদির সফর: ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আকাঙ্ক্ষা
প্রকাশ: ০৭:০১ pm ০৬-০৬-২০১৫ হালনাগাদ: ০৭:০১ pm ০৬-০৬-২০১৫
 
 
 


বীরেন্দ্র নাথ অধিকারী: দুই দিনের বহুল কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ সফর শুরু করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি।
শনিবার সকালে এসেছেন। চলে যাবেন রোববার সন্ধ্যায়। সময়ের বিচারে সংক্ষিপ্ত হলেও তার এই সফর গুরুত্বের দিক দিয়ে অপরিসীম। গেল বছর ২৬ মে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্বের একাধিক তাবৎ শক্তিধর রাষ্ট্রসহ এ পর্যন্ত ১৮টি দেশ সফরের শেষে বাংলাদেশ সফর করছেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত এটিকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা, কৌতূহল ও আশা-আকাঙ্ক্ষার দোলা চলছে। এসবের মূল কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যেমন আবেগ মিশ্রিত, তেমনি স্পর্শকাতর। ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যগত সম্পর্কের কারণে একের কাছে অন্যের প্রাপ্তির দাবি ও প্রত্যাশার পাল্লা যেন অফুরন্ত।

শক্তিধর রাষ্ট্রের ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী যখন তার চার-চারটি রাজ্যের মুখ্য মন্ত্রীদের নিয়ে সবচেয়ে নিকট রাষ্ট্রটি সফর করছেন তখন সব পর্যায়ে উচ্চতাপের উদ্গীরণ ঘটবে সেতো স্বাভাবিক। মাত্র ৩৬ ঘণ্টার সফরে তিনি অংশ গ্রহণ করবেন বহুবিধ কর্মকাণ্ডে; রাষ্ট্রীয়ও সরকারি পর্যায়তো বটেই, এমনকি বেসরকারি পর্যায়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসবেন। সব মিলিয়ে ২০-২২টি বিভিন্ন পর্যায়ের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। সব শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশ্যে একটি ভাষণদানসহ আশৈশব ধর্মলালন-পালনকারী নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় প্রাতঃকালীন পূজার্চনায় ও অংশ গ্রহণ করবেন।

সঙ্গত কারণেই বুঝা যাচ্ছে ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তির ব্যস্ততম বাংলাদেশ সফর কালে অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ভৌত অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যৌথ নদ-নদী, সীমান্ত, প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি সব কিছুই বিভিন্ন আলোচনা ও কর্মকাণ্ডে স্থান পাবে। এর অনেক কিছুর সুরাহা হয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বিপুল ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে উভয় পক্ষই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

এত কিছুর পরেও সবচেয়ে দীর্ঘ, জটিল এবং স্পর্শকাতর একটি বিষয় কোনো পর্যায়ে আলোচনায় স্থান পাবে কিনা, বা কোনো সুরাহা হবে কিনা তার কোনো তথ্য কোনো সূত্র থেকে প্রকাশ হতে দেখা বা জানা যায়নি। হতে পারে বিষয়টি এতই জটিল এবং স্পর্শকাতর যে, প্রকাশ্যে তা নিয়ে কেউ টুঁ শব্দটি করছেন না। তবে বংশানুক্রমিক ভুক্তভোগীদের সে বিষয়টিতেই সর্বাপেক্ষা আগ্রহ থাকবে তা বলাই বাহুল্য।

সবারই জানা ধর্মীয় ডুগডুগির চোরা বালিতে বিগত শতকের চল্লিশের দশক থেকে শুরু করে এ অঞ্চলের মানুষের সমন্বয় ধর্মীমূল্যবোধ ক্ষয় প্রাপ্ত হতে থাকে। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য সে সময় উপমহাদেশের সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে যুঁতসই কাজে লাগানো হয়।

ধর্মীয় জিগির তুলে তথাকথিত দ্বিজাতিতত্ত্বের নামে শুধু ভূখণ্ডেই নয়, বিভাজন রেখা টেনে দেয়া হয় আপামর গণ মানুষের চিন্তা-চেতনা ও মননের সর্বত্র। ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে যা ঘোষিত হলো তা নির্মম, নিষ্ঠুর এবং আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা পরিপন্থী। বলা হলো এদেশ (তৎকালীন পূর্ববঙ্গ, বর্তমান বাংলাদেশ) ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য নয়। রাতারাতিই তারা নিজ দেশে হয়ে পড়েন পরবাসী।

সেই প্রতিক্রিয়ায় ভারত বিভাজনের সময় থেকেই এই ভূখণ্ডে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ক্রম হ্রাস প্রাপ্ত হতে থাকে। ফলে ১৯৪৭ সালে মোট জনসংখ্যায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ছিল যেখানে প্রায় ৩০ শতংশ, ’ ৭১ সাল অবধি তা নেমে দাঁড়ায় ১৫ শতাংশে এবং বর্তমানে ১০ শতাংশের ও নিচে।

কেবলমাত্র ধর্মীয় বিচারে দ্বিজাতি তত্ত্বের নিকৃষ্ট মানের আদর্শে বলিয়ান হয়ে পাকিস্তান আমলের পুরো দুই যুগ সাম্প্রদায়িক শাসক গোষ্ঠী এবং ধর্মীয় সংখ্যা গুরুদের এক বৃহদাংশ কর্তৃক পরিচালিত সর্বৈব অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতনই এদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু নিঃস্বকরণের মূল কারণ। একই কারণে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস জুড়ে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের দোসররা এদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে অন্যতম মূল লক্ষ্য বস্তু হিসেবে বেছে নেয়। তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে পাশবিক অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন, হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, হত্যা, ধর্ষণ ও ধর্মান্তরের মাধ্যমে ধর্মীয় সংখ্যা লঘু শূন্য একটি দেশ কায়েমের লক্ষ্যে সর্বশক্তি নিয়োগ করে।

তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বেদিমূলে আত্যাহুতি দানকারী ৩০ লাখ শহীদান এবং ২ লাখ সম্ভ্রমহারানো নারীর অধিকাংশই ধর্মীয় সংখ্যালঘু। আর ওই সময়ে দেশ ত্যাগী ১ কোটি শরণার্থীর মধ্যে ৯০ শতাংশের ও অধিক ছিলেন এই জন গোষ্ঠী ভুক্ত। তবে অত্যন্ত গর্বের ব্যাপার যে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিপুল সংখ্যক এই শরণার্থীর বেশীর ভাগই দেশ মাতৃকার প্রবল ভালোবাসার টানে ফিরে আসেন। সর্বস্ব হারানো বিশাল এই জন গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তনের মূল অনুপ্রেরণা এবং ভরসার স্থল ছিল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে ওঠা অসাম্প্রদায়িক ও ধর্ম নিরপেক্ষ চেতনা ও আদর্শ।

আর তাই তারা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও মনোবল নিয়ে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ সহ হাজার বছরের চৌদ্দ পুরুষের ভিটে মাটিতে নবোদ্যমে নিশ্চিন্তে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু তাদের সেই নিশ্চিন্ত বসবাস বেশি দিন স্থায়িত্ব লাভ করেনি। কারণ ধর্ম নিরপেক্ষ বাঙালী জাতির চেতনা ও আদর্শে থাবা মারে সেই পুরনো শকুন। দেশি-বিদেশি সাম্প্রদায়িক, স্বাধীনতা বিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি ৭৫-এর ১৫ আগস্ট এই আদর্শের মূলকাণ্ডারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করে।

হন্তারকরা ক্ষমতা দখল করে ত্বরিত গতিতে রাষ্ট্রের চরিত্র ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দেয়। সামরিক স্বৈরাচার এবং তাদের অনুসারীরা যথেচ্ছা সংবিধান কাটা ছেঁড়া করে তা ধর্মীয় লেবাসে মুড়ে দেয়। ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা স্বাধীন দেশেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হন, বিপন্ন হতে থাকে তাদের অস্তিত্ব। পুনরায় শুরু হয় তাদের নিঃস্বকরণ প্রক্রিয়া।

৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর সেইতো পুনরায় শুরু, রয়ে রয়ে চলছে, ’৯০, ’৯২, ২০০১-২০০৬, ২০১৩, ২০১৪, এমনকি হাল আমলে ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোনো ছল ছুতোয় হামলে পড়ছে। ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৯ সালে থেকে আজ অবধি স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী মূল রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্বে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালিত এবং দেশের সংবিধানের উপরিকাঠামো কিছুটা পরিবর্তন বা সংশোধিত হলেও সাংবিধানিক ভাবে রাষ্ট্র যন্ত্র অসাম্প্রদায়িক হয়েছে তা বলা যাবে না।

সে কারণে রাষ্ট্রীয় মূল স্তম্ভ গুলোসহ প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সবল উপস্থিতি পরিলক্ষিত। এই যখন অবস্থা, তখন ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা অবধারিত ভাবে না না ধরণের নির্যাতনের শিকারে পরিণত হবেন- এটাতো অতি সরল হিসাব। একারণেই এই ভূ-অঞ্চলের সভ্যতা বিকাশের আদি ও অগ্রগণ্য এক মানবগোষ্ঠী দিন দিন ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং তাদের ক্রম ক্ষয়িষ্ণুতা অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে গুরুত্ব পাওয়া বাঞ্ছনীয়। এখনো এদেশে তাদের সংখ্যা কম বেশি দেড় কোটি। প্রকৃত অর্থেই তারা বিপন্ন, তা প্রতিনিয়তই প্রতীয়মান হচ্ছে। অতিসম্প্রতি এবং নিকট অতীতে তাদের ওপর বহু নির্যাতনের খবরা খবর বিভিন্ন সংবাদও গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে বলে এখানে সেসব পুনরুল্লেখ করা নিষ্প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় সংশ্লিষ্ট স্তরের  আলোচ্য সূচিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে তা বিপুল সংখ্যক এই জন গোষ্ঠীর প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের ঐকান্তিক বাসনা।

উল্লেখ্য, এই ভূখণ্ডের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিপন্নতার উৎস ভারত বিভক্তি। আর তাই যখনই বিপন্ন হন তখন প্রথমই তারা ভারতবর্ষকে তাদের আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নেয়ার চেষ্টা করেন। নির্যাতিত হয়ে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তারা সে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধভাবে অতি সন্তর্পণে বসবাস করেন। বিষয়টি এমন যে, অবৈধ ভাবে বসবাস হলেও ওখানে গিয়ে সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গেল! এটি ‘ওপেনসিক্রেট’ বটে, কিন্তু ২০১৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নরেন্দ্র মোদির আগে এ নিয়ে কোনো পক্ষই কোনো উচ্চ বাচ্য করেননি।

বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে সেদিন তিনি আসামের গৌহাটিতে নির্বাচনী জনসভায় ঘোষণা করেন- “ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশি হিন্দু অনুপ্রবেশ কারীদের স্বার্থ দেখব”। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এ বিষয়ে প্রকাশ্যে নরেন্দ্র মোদিকে আর কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। তবে অতি সম্প্রতি একাধিক ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায় সেদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে যাওয়া হিন্দু ও শিখ শরণার্থীদের সেখানে বসবাসের অনুমতি দিয়ে শিগগিরইএকটি নির্বাহী আদেশ জারি করবেন তিনি।

২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা ভারতে গিয়েছেন, তারা এই সুবিধা প্রাপ্ত হবেন। ধারণা করা যাচ্ছে- বাংলাদেশ সফর শেষে দেশে ফিরে যেকোনো দিন তিনি এ আদেশ জারি করতে পারেন। তাছাড়া আরো কিছু সংবাদ মাধ্যম ইঙ্গিত করেছে ভবিষ্যতে যারা ভারতে যাবেন তাদের সে দেশের নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে এই মর্মে লোকসভায় একটি বিল অনুমোদনের প্রস্তুতি চলছে। প্রথমোক্ত ব্যাপারটি মন্দের ভালো, অর্থাৎ ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা ভারতে গিয়েছেন তাদের বিতাড়ন করা বা অবৈধভাবে বসবাস করতে দেয়ার চেয়ে সেদেশের বৈধ নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি অধিকতর সহজ এবং সব পক্ষের জন্য সুবিধাজনকও বটে।

কিন্তু দ্বিতীয় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় রাষ্ট্রের জন্য তা মারাত্মক নেতিবাচক ফল বয়ে আনবে। কারণ নিয়মিত সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্য ভারতের এই পরিকল্পনাকে সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে বাংলাদেশের হিন্দুরা ভারতে পাড়ি জমাবেন, অচিরেই এ দেশটি হিন্দু শূন্য হয়ে পড়বে, যা এক দিকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির আদর্শের ভিত্তিমূলে আঘাত হানবে, অন্যদিকে ভারতীয় রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সমাজেও বিরূপ প্রভাব বিস্তার লাভ করবে।

২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে যেসব হিন্দু ভারতে গিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করছেন, জটিলতা এড়াতে নির্বাহী আদেশে তাদের সেদেশের অধিবাসী হওয়ার সুযোগ করে দেয়ার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টি কোণ থেকে বিবেচ্য বলে ধরে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু এখন থেকে যারা সেদেশে যাবেন, তাদের ভারতের নাগরিকত্ব দানের পরিকল্পনার বিষয়টি মোটেই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। মাতৃভূমির প্রতি অপরিমেয় মমত্ববোধ ও দেশাত্মবোধ সত্ত্বে ও শুধুমাত্র নিরাপত্তাহীনতার কারণেই বাংলাদেশের হিন্দুরা দেশ ত্যাগে বাধ্য হন। তাই দেশে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে তারা দেশ ত্যাগ করবেন না, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এইতো মাত্র কয়েকদিন আগে একটি সংবাদ সংস্থাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সে দেশে বিশেষ কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ মূলক মন্তব্য বা কর্মকাণ্ডের প্রতি তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। শুধু তাই নয়, তিনি, তার কেবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং বিজেপির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু যারা ইতো মধ্যে ভারতে অবৈধ ভাবে বসবাস করছেন এবং এমন কিযারা এখনো বাংলাদেশে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তাদের ব্যাপারে ও অত্যন্তসচেতন বলেই এইজন গোষ্ঠী সম্পর্কিত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সুযোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে মানবতা বিরোধী, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কারণে বিশ্বব্যাপী সুপরিচিতিলাভ করেছেন। তিনি ও এদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিকবলেতার বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হচ্ছে। সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হলেতার কাছে খবর পৌঁছানো মাত্র ত্বরিত গতিতে তিনি সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দান করছেন।

বিষয়টি স্পষ্ট যে, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারত- উভয় দেশের সরকার প্রধান এবং তাদের রাজনৈতিক দল ও সহযোগিরা বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক, সচেতন এবং আন্তরিক। তাই ঝুঁকিতে থাকা এই জনগোষ্ঠী যাতে করে নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে এদেশে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন তার জন্য উপযোগী কৌশল এবং কর্মপন্থা অবলম্বন করার এখনই উপযুক্ত সময়।

বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের ইলেক্ট্রিফায়েড মোক্ষম সময়টিতে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলাপ- আলোচনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে একটি চির স্থায়ী সমাধান হবে, তা জানতে এবং বাস্তবতার প্রতিফলন দেখতে এদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য হতে পারে সেই আলাপ-আলোচনা, তাতে কিছু যায় আসে না, তবে কিছু একটা হতে হবে সেটাই এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রাণের দাবি।

এইবেলা ডট কম/এসবিএস/ইএস
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71