শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
নাট্যকার ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদের ১৫৪তম জন্ম বার্ষিকী আজ
প্রকাশ: ১২:৫৪ am ১৩-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ১২:৫৪ am ১৩-০৪-২০১৭
 
 
 


প্রতাপ চন্দ্র সাহা ||

নাট্যকার ও সম্পাদক ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ (জন্মঃ- ১২ এপ্রিল, ১৮৬৩ – মৃত্যুঃ- ৪ জুলাই, ১৯২৭)

তিনি পেশাদার নাট্যমঞ্চে নাট্যকার হিসাবে যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছিলেন। তাঁর নাটক গিরীশ ঘোষের প্রভাবমুক্ত না হলেও কোন কোন ক্ষেত্রে তিনি স্বকীয়তার পরিচয় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। গদ্য ও অমিত্রাক্ষর ছন্দ উভয় রীতিতেই নাটক রচনা করেন। অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত ফুলশয্যা (১৮৯৪) নামক প্রথম কাব্যনাটকে তাঁর উচ্চ কবিত্বশক্তির প্রকাশ ঘটে এবং নাটকটি সুধীমহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। ইউরোপীয় নাট্যধারা এবং পুরনো নাট্য ধারার মাঝামাঝি একটি নিজস্ব পথ রচনা করে আপন সৃষ্টিকে সাজিয়ে ছিলেন। ক্ষীরোদ প্রসাদের নাটকে সমকালের প্রভাব থাকায় সে সময়কার জন মানসেও তিনি ভাস্বর হয়ে থাকতে পেরেছেন অবলীলায়। ডঃ সুকুমার সেন ওনার নাটকের প্রসঙ্গে বলেছেন “ ক্ষীরোদ প্রসাদের নাট্য রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য হইতেছে কাহিনীর মনোহারিত্ব অর্থাৎ প্লটের গল্পরস। গিরিশচন্দ্র যে ভক্তিরসোচ্ছ্বাসের বন্যা আনিয়াছিলেন ক্ষীরোদ প্রসাদ তা প্রতিরোধ করিলেন , নাট্য কাহিনিকে সাধারণ দর্শকের মনোরঞ্জন করিয়া।’’
বিভিন্ন ধরণের নাটক মিলিয়ে তিনি প্রায় ৪৭ টি নাটক রচনা করেন। এর মধ্যে ‘সপ্তম প্রতিমা’(১৯০২) , ‘রঘুবীর’ (১৯০৩), ‘রঞ্জাবতী’(১৯০৪) প্রভৃতি নাটিকা শ্রেণীর অন্তর্গত। ওনার গীতিনাট্য গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ফুলশয্যা’(১৮৯৪) , ‘কবি-কাননিকা’(১৮৯৬), ‘আলিবাবা’(১৮৯৭) , ‘প্রমোদ রঞ্জন’(১৮৯৮) , ‘কুমারী’(১৮৯৯), ‘বৃন্দাবন বিলাস’(১৯০৪), ‘জয়শ্রী’(১৯২৬) প্রভৃতি। ‘প্রেমাঞ্জলি’(১৮৯৬), ‘সাবিত্রি’(১৯০২) , ‘দুর্গা’ (১৯০৯), ‘ভীষ্ম’(১৯১৩) প্রভৃতি ওনার পুরাণ আশ্রয়ী নাটক গুলির মধ্যে অন্যতম। ‘বঙ্গের প্রতাপাদিত্য’(১৯০৩), ‘পদ্মিনী’(১৯০৬), ‘চাঁদবিবি’(১৯০৭), ‘আলমগির’(১৯২১), ‘গোলকুণ্ডা’(১৯২৫) ইত্যাদি গুলি ইতিহাস আশ্রয়ী নাটক।
তাঁর লেখা নাটিকা গুলিতে যেমন বিদেশী নানান কাহিনীর কথা দেখতে পাওয়া যায় তেমনই গীতিনাট্য গুলিতে আখ্যান রচনাতেও পারদর্শিতা লক্ষ্য করা যায়। ক্ষীরোদ প্রসাদের শ্রেষ্ঠ নাটক হিসাবে ‘আলিবাবা’ নাটকটি পরিগণিত হয়। সঙ্গীত রসের সাথে সাথে হাস্য চটুল সংলাপ এই নাটকের জনপ্রিয়তা নির্ণায়কের স্থান নেয়।
‘নারায়ণী’ ,’বিরামকুঞ্জ’, ‘পুনরাগমন’, ‘নিবেদিতা’, ‘পতিতার সিদ্ধি’ প্রভৃতি তাঁর রচিত উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থ। তাঁর সৃষ্ট গদ্য সাহিত্যেও অতিনাটকীয়তার প্রভাব বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করা যায়। করে। ক্ষীরোদপ্রসাদের পৌরাণিক নাটকগুলির মধ্যে ভীষ্ম ও নরনারায়ণ দীর্ঘদিন রঙ্গমঞ্চে অভিনীত হয়। নাটকের অন্তর্নিহিত যে দ্বন্দ্ব নাটককে সার্থক করে তোলে তা চমৎকারভাবে ক্ষীরোদপ্রসাদের নাট্যকর্মে ফুটে উঠেছে।
মঞ্চে উপবিষ্ট দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য ক্ষীরোদপ্রসাদ সুন্দর গান রচনা করতে পারতেন। নাটক ছাড়াও তিনি কয়েকটি উপন্যাস ও ছোটগল্প রচনা করেন এবং ভগবদ্গীতার বঙ্গানুবাদ (১৯০০) করেন। তিনি ১৯০৯ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত অলৌকিক রহস্য নামে একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
জন্ম
তিনি খড়দহে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা গুরুচরন ভট্টাচার্য সংস্কৃত পণ্ডিত হিসাবে ‘শিরোমণি’ উপাধি লাভ করেছিলেন। ১৮৮১ সালে ক্ষীরোদপ্রসাদ ব্যরাকপুর গভরমেন্ট কলেজ থেকে এনট্রান্স পাশ করার পর ১৮৮৩ সালে এফ.এ এবং ১৮৮৮ সালে মেট্রোপলিটান কলেজ থেকে পদার্থ বিদ্যা ও রসায়নে বি.এ করেন। এর পর ১৮৮৯ সালে তিনি প্রেসিডেন্সী থেকে রসায়ন বিদ্যায় এম.এ করেন। কর্মজীবনেও তিনি ছিলেন রসায়নের অধ্যাপক। ১৮৯২ থেকে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি এসেম্বেলি ইন্সটিটিউশনে অধ্যাপনার কাজে যুক্ত ছিলেন। এসময় থেকেই তিনি নাট্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন এবং পরবর্তী কালে অধ্যাপনা ছেড়ে সম্পূর্ণ ভাবে নাট্যচর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।

 

১৯২৭ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা জুলাই এই মহান নাট্যকার বাঁকুড়ার বিকনা গ্রামে দেহত্যাগ করেন। ক্ষীরোদ প্রসাদের নাট্য রচনা শুধু নাট্যমঞ্চে সফল ভাবে অভিনীত হয়েছিলো তাইই নয় তিনি নতুন এক দিগন্তের সুচনাও করেছিলেন তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে। অধ্যাপক আশুতোষ ভট্টাচার্য যথার্থই বলেছেন “একদিক দিয়া বিচার করিয়া দেখিতে গেলে ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদকে বাংলা নাট্য সাহিত্যের আধুনিক ও মধ্য যুগের মধ্যে যোগরক্ষাকারী বলিয়াও নির্দেশ করিতে পারা যায়।’’

 

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71