শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
নারায়ণগঞ্জ মহাশ্মশান দখলের পায়তারা প্রভাবশালী মহলের
প্রকাশ: ১০:১৫ am ২৪-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:১৫ am ২৪-০৪-২০১৮
 
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
 
 
 
 


নারায়ণগঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৩ শত বছরের পুরানো একমাত্র মহা শ্মশানের জলাশয় দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হিন্দু নেতাদের দাবি, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল রাতের আঁধারে বালু ফেলে তার উপর ছোট টিনের ঘর নির্মাণ করে ধীরে ধীরে ওই জলাশয় দখল করে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি রীতিমত শ্মশানের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার পাঁয়তারাও শুরু হয়েছে।

রবিবার বিকালে শহরের মাসদাইর এলাকার সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রাণাধীন নারায়ণগঞ্জ মহা শ্মশান কমিটির নেতাদের উপস্থিতে জেলা প্রশাসনের অধীনের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার ওই জলাশয় পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

নারায়ণগঞ্জ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ মহা শ্মাশন কমিটির সহ সভাপতি শংকর সাহা বলেন, ৩শ বছরের বেশি পুরানো এ মহা শ্মশান। এখানে নারায়ণগঞ্জ ও এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মরদেহ দাহ করা হয়। এর জন্য শ্মশানের যজ্ঞের পাশের রয়েছে দীর্ঘদিনের পুরানো জলাশয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল দখল করতে করতে জলাশয়টি প্রায় ভরাট করে নিয়েছে। এখন যেটুকু আছে সেটুকুও রাতের আধাঁরে দখল করতে শুরু করেছে। প্রতিবাদ করাতো দূরে কথা বরং দাহ করতে গেলেও বাধা দিতে আসে ওই প্রভাবশালী মহলের লোকজন।

তিনি আরো বলেন, শ্মশানটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে। সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মাধ্যমে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। এতো কিছুর পরও কোন ভাবেই দখল বন্ধ হচ্ছে না। তবে শ্মশানের জলাশয় সরকারি ভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য এবং এর আশে পাশে কারো জায়গা থেকে থাকে সেই জায়গা সরকারি ভাবে ক্রয় করার জন্য পর্যাপ্ত খরচ সিটি করপোরেশন বহন করবেন বলেও প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু এর কাজ চলছে ধীর গতিতে। যার ফলে প্রভাবশালী মহল দখলে উঠে পরে লেগেছে।

নারায়ণগঞ্জ মহা শ্মাশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুজন সাহা বলেন, শ্মশানের এ জলাশয় দখল হয়ে গেলে এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের শব দাহ করা বন্ধ হয়ে যাবে। যার ফলে ২ থেকে আড়াই লাখ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে। যার ফলে এসব মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, এ দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষ যেকোন সময় রাস্তা নেমে আন্দোলন শুরু করলে নারায়ণগঞ্জের রাস্তা ঘাট বন্ধ হয়েছে। আমরা চাই না সে ধরনের কোন পরিস্থিত সৃষ্টি হোক। এখনও পর্যন্ত জেলা প্রশাসক আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন এ জায়গা শ্মশানের জন্য সরকারি ভাবেই বুঝিয়ে দিবেন। যদি দ্রুত এ ব্যবস্থা না নেন তাহলে অবশ্যই আমরা আন্দোলন করতে বাধ্য হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন’ ৭১র এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি চন্দন শীল, নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিলীপ কুমার মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত মন্ডল, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি বাদল রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক চন্দন পাল, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কমান্ডার গোপীনাথ দাস, শ্মশানের সরকারি পুরোহিত শান্তি ঘোষালসহ শ্মশান কমিটির নেতৃবৃন্দ।

ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা তাসলিম আক্তারের বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর ভূমি অফিসের কানুনগো সেলিম মিয়া বলেন, আমরা বিকেলে ওই জলাশয় পরিদর্শন করেছি। অধিগ্রহণ করার জন্য আমরা প্রতিবেদন জমা দিবে। যাতে খুব সহজে ও দ্রুত এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71