শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
নারীর ক্ষমতায়ন কি স্ত্রী নির্যাতন বাড়াচ্ছে?
প্রকাশ: ০১:৫৪ pm ০৬-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০১:৫৪ pm ০৬-০৬-২০১৭
 
 
 


ঢাকা : দেশের গ্রামাঞ্চলে নারীর ক্ষমতায়নকে পুরুষের ক্ষমতা হরণের কারণ হিসেবে দেখা হয়। এই ধারণা স্ত্রী নির্যাতনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পুরুষেরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দেশের উন্নয়ননীতি ও আইনকানুন তাঁদের উপেক্ষা করে নারীদের ক্ষমতায়িত করছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এবং সহযোগী সংস্থাগুলো পরিচালিত ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং ইনটিমেট পার্টনার ভায়োলেন্স ইন রুরাল বাংলাদেশ: প্রিভেনশন অ্যান্ড রেসপন্স’ শীর্ষক গুণগত গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণাটি করা হয় ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত।

ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচটি গ্রাম থেকে ৪০ জন প্রধান তথ্য প্রদানকারীর সাক্ষাৎকার, ১১টি দলীয় আলোচনা এবং ২৩টি নিবিড় সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে গবেষণার জন্য। এ ছাড়া ৪টি পরিবারের তিন প্রজন্মের নারী এবং ৩টি পরিবারের তিন প্রজন্মের পুরুষের সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে নারীদের উচ্চশিক্ষা, গতিশীলতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বহুগুণে বেড়েছে। তবুও স্ত্রী নির্যাতনের হার এখনো অনেক বেশি।

নারী ও পুরুষের ভূমিকা পরিবর্তন, বেসরকারি সংস্থা ও সরকারের নারীকেন্দ্রিক বিভিন্ন পদক্ষেপসহ নারীবান্ধব আইন পুরুষদের মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি করেছে। পুরুষেরা এতে নিজেদের ক্ষমতার হরণ হচ্ছে বলে মনে করছে, যা নারীদের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে। এটি স্ত্রী নির্যাতনে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

এ বিষয়ে আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. রুচিরা তাবাসসুম নভেদ্ বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবিলায় গৃহীত বিভিন্ন নীতি ও আইনের সম্ভাব্য প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত এবং পরিণামে নারীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন প্রতিক্রিয়া প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

গবেষণাটি স্ত্রী নির্যাতনের ক্ষেত্রে ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে বিরাজমান জটিল ও বহুমুখী কারণগুলো তুলে ধরেছে। এতে দেখা গেছে, শৈশবে নারী নির্যাতন প্রত্যক্ষ করা ও সহিংসতার মধ্যে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা একজন পুরুষকে নির্যাতনকারী হিসেবে তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

সামাজিক পর্যায়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে লালিত ধ্যানধারণা দিয়ে স্ত্রী নির্যাতন পরিচালিত হয়। রুচিরা বলেন, হেজেমনিক ম্যাস্কুলিনিটির ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে মূল্যায়ন করে তা নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। নারী-পুরুষ সমান এবং সহিংসতামুক্ত সমাজ গড়ার সুবিধাগুলো বোঝাতে হবে।

সালেহা রহমান (ছদ্মনাম) বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার একটি বেসরকারি কলেজে পড়ান। তাঁর স্বামীও একই কলেজের শিক্ষক। বিয়ের প্রথম তিন বছর স্বামী তাঁর ওপর কোনো নির্যাতন করেননি। তবে চাকরি নেওয়ার পর থেকে উঠতে-বসতে সালেহার সঙ্গে স্বামী খারাপ ব্যবহার করেন। এমনকি সবকিছুতে তাঁকে ‘চাকরিজীবী বউ’ এবং ‘প্রগতিশীল’ বলে খোঁটা দেন। অনেক সময় গায়েও হাত তোলেন। সালেহা বলেন, ‘আমি অবাক হয়ে যাই শুধু চাকরির কারণে স্বামীর আচরণ বদলে গেল। অথচ বেতনের টাকা তো আমি এই সংসারেই ব্যয় করি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক তানিয়া হক বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন অনেক সময় ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

এর কারণ পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। নারীর ক্ষমতায়ন হলে পুরুষ হীনম্মন্যতায় ভোগেন। তাঁরা ভাবেন তাঁর ওপর স্ত্রীর নির্ভরশীলতা কমে যাচ্ছে অথবা স্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। তখন এ ভয় বা হীনম্মন্যতা থেকে পুরুষেরা স্ত্রীকে নির্যাতন করেন।

অনেক কিশোর-কিশোরী এবং কিছু তরুণ পুরুষ উত্তরদাতা স্ত্রী নির্যাতন সমর্থনকারী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। যা থেকে প্রতীয়মান হয়, জেন্ডার বৈষম্যমূলক এবং স্ত্রী নির্যাতনকে বৈধতাদানকারী দৃষ্টিভঙ্গি খুব কম বয়সেই মানুষের মধ্যে জন্মায়। 

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71